আন্তর্জাতিক
প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেল ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি

করোনা-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশই পিছিয়ে আছে। বিশেষ করে শীর্ষ অর্থনীতিগুলো মূল্যস্ফীতি ও সুদহারের গোলকধাঁধায় ঘুরপাক খাচ্ছে। একই সময়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির শ্লথতা নানান ধরনের আশঙ্কা তৈরি করেছে। জাপান ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশও মন্দার কবলে পড়েছে। সেই সময় জিডিপি পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেল ভারত। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান অফিসের (এনএসও) দেয়া তথ্য অনুসারে, মার্চে শেষ হওয়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। খবর দ্য হিন্দু ও মিন্ট।
এনএসওর তথ্যানুযায়ী, মার্চে শেষ হওয়া ভারতের চতুর্থ প্রান্তিকে অর্থনীতি ৭ দশমিক ৮ শতাংশ সম্প্রসারণ হয়েছে। ফলে ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে অর্থনীতির ৭ শতাংশ সম্প্রসারণ ঘটে।
অবশ্য সর্বশেষ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) চেয়ে চতুর্থ প্রান্তিকে অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ কমেছে। তৃতীয় প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ৬ শতাংশ। এর আগের দুই প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ২ ও ৮ দশমিক ১ শতাংশ। তবে ২০২৩ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে জিডিপি ছিল ৬ দশমিক ২ শতাংশ। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ প্রবৃদ্ধি ভারতীয় অর্থনীতিকে ৩ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের আকারের দিকে নিয়ে গেছে, যা পরবর্তী কয়েক বছরে ৫ ট্রিলিয়ন ডলার লক্ষ্য অর্জনের মঞ্চ প্রস্তুত করছে।
সরকারের দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে স্থিরমূল্যে জিডিপির প্রাক্কলন ছিল ১৭৩ দশমিক ৮২ লাখ কোটি রুপি। আগের অর্থবছরে (২০২২-২৩) সংশোধিত প্রাক্কলন ছিল ১৬০ দশমিক ৭১ লাখ কোটি রুপি। এছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরের ৭ শতাংশের বিপরীতে ২০২৩-২৪ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ।
মূল্যস্ফীতি সমন্বয় না করলে চলতি মূল্যে সর্বশেষ অর্থবছরে প্রাক্কলিত জিডিপি ২৯৫ দশমিক ৩৬ লাখ কোটি রুপি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল ২৬৯ দশমিক ৫০ লাখ কোটি রুপি। এ হিসাবে মূল্যস্ফীতির সমন্বয় বাদ দিলে ৯ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ঘটেছে বলেও জানানো হয় বিবৃতিতে।
এর আগে এনএসও ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ৭ দশমিক ৭ শতাংশ সংশোধিত প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস দিয়েছিল। এছাড়া চতুর্থ প্রান্তিকে ৫ দশমিক ৯ থেকে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত মন্থর প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল।
এদিকে মার্চে শেষ হওয়া প্রান্তিকে এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতি চীনের প্রবৃদ্ধির চেয়ে এগিয়ে আছে ভারত। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে চীন ৫ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নথিভুক্ত করেছে। তবে এটি বার্ষিক ৫ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ১ দশমিক ৩ শতাংশ।
আগামী ৪ জুন ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষিত হবে। এর মাত্র দুদিন আগে দেশটির সামষ্টিক অর্থনীতির এ বার্ষিক ডাটা প্রকাশ হলো। জিডিপি প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স বার্তায় লেখেন, ‘২০২৩-২৪ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকের জিডিপি প্রবৃদ্ধির ডাটা অর্থনীতির শক্তিশালী গতিকে দেখায়, যা আরো গতিশীল হতে প্রস্তুত। বার্ষিক ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বলে দিচ্ছে যে ভারত দ্রুততম হতে চলেছে। যেমন আমি বলেছি, ভারত বিশ্বে ক্রমবর্ধমান শীর্ষ অর্থনীতি। এজন্য দেশের পরিশ্রমী মানুষদের ধন্যবাদ জানাই। এটি আগামী দিনের অর্থনীতির জন্য একটি ট্রেলার মাত্র।’
জিডিপির এ হার বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ উল্লেখ করে ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বলেন, ‘অর্থনীতির সূচকগুলো বলছে, বিশ্ববাজারের চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ভারতীয় অর্থনীতি স্থিতিস্থাপক ও প্রাণবান ভূমিকা পালন করছে।’
তিনি আরো জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদন খাত উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এ খাতে ৯ দশমিক ৯ শতাংশ সম্প্রসারণ ঘটেছে।
এছাড়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরে খনিজ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ। এর আগের অর্থবছরে উৎপাদন খাত ২ দশমিক ২ শতাংশ সংকুচিত হয়েছিল। তবে খনিজ খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল ১ দশমিক ৯ শতাংশ।
এদিকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের শুরুর দিকের কিছু প্রবৃদ্ধি পরিসংখ্যান দিয়েছে ভারত সরকার। তথ্য অনুসারে, প্রাকৃতিক গ্যাস, পরিশোধনাগার পণ্য ও বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ আটটি মূল অবকাঠামো খাতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। গত এপ্রিলে এসব খাতে ৬ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। আগের অর্থবছরের সর্বশেষ মাস মার্চে এ আট খাতে উৎপাদন বেড়েছিল ৬ শতাংশ।
এদিকে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের (আরবিআই) বার্ষিক প্রতিবেদনে দেয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশটির অর্থনীতি ৭ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে।
বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল শীর্ষ অর্থনীতি হিসেবে স্বীকৃত ভারত, বর্তমানে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। আগামী বছরগুলোয় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পর বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে ভারত।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আন্তর্জাতিক
টিকটককে আরো ৭৫ দিন সময় দিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের ওপর ঝুলে থাকা নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের সময়সীমা আবারও ৭৫ দিনের জন্য পিছিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) এ সম্পর্কিত একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার মাধ্যমে দেশটিতে টিকটককে দ্বিতীয়বারের মতো লাইফলাইন প্রদান করলেন তিনি।
অন্যথায় আজই (৫ এপ্রিল) দেশটিতে নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হতো চীনের বাইটড্যান্সের মালিকানাধীন স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপটি। খবর বিবিসির।
গতকাল শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, “আমরা চাই না টিকটক অন্ধকারে চলে যাক। টিকটক এবং চীনকে নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আশা করছি।”
যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের ১৭ কোটিরও বেশি গ্রাহক রয়েছে। কিন্তু এর চীনভিত্তিক মালিকানা প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। টিকটকের মাধ্যমে চীন সরকার মার্কিন জনগণের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করতে পারে, এই আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে মার্কিন প্রশাসন। যদিও বাইটড্যান্স ও চীন এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে।
গত বছরের এপ্রিলে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সরকার প্রণীত আইনে জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে টিকটক। জো বাইডেন সরকারের আইন অনুযায়ী, বাইটড্যান্সকে টিকটকের যুক্তরাষ্ট্র অংশের ব্যবসার নিয়ন্ত্রণমূলক মালিকানা চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারির মধ্যে ছেড়ে দিতে হবে কোনো মার্কিন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে। অন্যথায় দেশটিতে টিকটককে নিষিদ্ধ করা হবে।
তবে, জানুয়ারিতে নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড দায়িত্ব নেওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে টিকটকের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ৭৫ দিন পিছিয়ে দেন। ফলে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সক্ষম হয় টিকটক। ৭৫ দিনের সেই সময়সীমা আজ (৫ এপ্রিল) শেষ হওয়ার কথা ছিল।
গতকাল শুক্রবার ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশের ফলে আরো ৭৫ দিন সময় পেল টিকটক। সে হিসেবে এবার ১৯ জুনের মধ্যে বাইটড্যান্সকে টিকটিক ইস্যুতে চুক্তি সম্পাদন করতে হবে।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে বাইটড্যান্স জানিয়েছে, তারা ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এখনো কোনো চুক্তি সম্পন্ন হয়নি।
কোম্পানির এক মুখপাত্র বলেছেন, “কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো নিষ্পত্তি করা বাকি এবং যেকোনো চুক্তি চীনা আইনের অধীনে অনুমোদন নিতে হবে।”
বিবিসি প্রতিবেদন বলছে, গত বুধবার টিকটক কেনার একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। তবে একই দিনে ট্রাম্প চীনের ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা করার পর চুক্তিটি ভেঙে যায়।
চুক্তির সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র সিবিএস নিউজকে জানিয়েছে, বাইটড্যান্সের প্রতিনিধিরা হোয়াইট হাউজের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তারা জানিয়েছেন যে, শুল্কের বিষয়ে আলোচনা না হলে চুক্তিটির অনুমোদন দেবে না চীন।
ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা বাজার অর্থনীতির মৌলিক নীতি লঙ্ঘনকারী অনুশীলনের বিরোধিতা করে।
যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা পণ্যের ওপর ৫৪ শতাংশ মোট শুল্কের সম্মুখীন হয়েছে চীন এবং ৩৪ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে। টিকটক বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর হলে শুল্ক কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
আন্তর্জাতিক
চীনের পাল্টা শুল্কারোপে মার্কিন শেয়ারবাজারে ধস

চীনের পাল্টা শুল্কারোপের পর মার্কিন শেয়ারবাজারে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। টালমাতাল পরিস্থিতিতে বেশ শঙ্কায় দিন পার করছেন শেয়ার হোল্ডাররা। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) মার্কিন স্টক এক্সচেঞ্জগুলো ভয়াবহ দিন পার করেছে। এ দিন প্রধান প্রধান সূচকগুলো প্রায় ৬% হ্রাস পেয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রে চীনা পণ্যের ওপর নতুন করে ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপের জবাবে চীন পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন সূচকের মান কমতে থাকে।
এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, বিস্তৃতভিত্তিক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক কমেছে ৬%। প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাকের ৫.৮% সূচক হ্রাস পেয়েছে। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল গড়ে ২,২০০ পয়েন্টেরও বেশি হারিয়েছে বা প্রায় ৫.৫% হ্রাস পেয়েছে।
ট্রেডিং ফ্লোরে শুক্রবার ছিল টানা দ্বিতীয় অস্থিরতার দিন। এর আগে বৃহস্পতিবার এসঅ্যান্ডপি সূচক কোভিড-১৯ মহামারির প্রথম পর্যায়ের পর সবচেয়ে খারাপ দিনটি অতিক্রম করে।
চীন জানিয়েছে, আগামী ১০ এপ্রিল থেকে সব মার্কিন পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৩৪ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করা হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা বিরল কিছু পণ্যে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করার কথাও জানিয়েছে বেইজিং। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ সিদ্ধান্ত মার্কিন বাজার ছাড়াও বিশ্ববাজারে বাণিজ্যযুদ্ধকে আরও তীব্র করে তুলবে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দেন, চীনা পণ্যের ওপর ৩৪ শতাংশ নতুন শুল্ক আরোপ করা হবে। আগেই চীনা পণ্যে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ছিল, ফলে নতুন শুল্ক মিলিয়ে মোট হার দাঁড়ায় ৫৪ শতাংশে।
চীনের অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, ট্রাম্পের ঘোষণার জবাবে এর আগেই তারা মার্কিন কয়লা ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। এবার সেই শুল্কের ওপর আরও ৩৪ শতাংশ যোগ করা হলো।
চীনের এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে বলেন, চীন ভুল খেলেছে। তারা আতঙ্কে রয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা হলো, তাদের এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য নেই।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
আন্তর্জাতিক
২০২৫ সালে বিশ্বের শীর্ষ ধনী যারা

বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় যোগ হয়েছে আরও ২৪৭ জন। ২০২৫ সালে বিশ্বে ধনকুবেরের সংখ্যা বেড়ে তিন হাজার ২৮ জনে দাঁড়িয়েছে।
তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছেন টেসলা ও স্পেস এক্সের মালিক ইলন মাস্ক। তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৩৪২ বিলিয়ন ডলার। এর পরেই রয়েছেন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ। তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ২১৬ বিলিয়ন ডলার। ২১৫ বিলিয়ন ডলার নিয়ে তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন অ্যামাজনের মালিক জেফ বেজস।
বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছেন ল্যারি এলিসন ও বার্নার্ড আর্নল্ট এবং পরিবার। তাদের মোট সম্পত্তির পরিমাণ যথাক্রমে ১৯২ ও ১৭৮ ডলার।
৯৪ বছর বয়সী ওয়ারেন বাফেট ১৫৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি নিয়ে তালিকায় ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছেন। এরপরে আছেন ল্যারি পেজ, সের্গেই ব্রিন, আমানসিও ওর্তেগা ও স্টিভ বলমার।
বিশ্বের বিলিয়নিয়ারদের এখন মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১৬ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার। যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ডলার বেশি।
বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ধনকুবের যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে ৯০২ জন বিলিয়নিয়ার রয়েছেন। এর পরেই চীনের অবস্থান। দেশটিতে ৫১৬ জন বিলিয়নিয়ার রয়েছে। এক্ষেত্রে ২০৫ জন বিলিয়নিয়ার নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
আন্তর্জাতিক
আয়ারল্যান্ডের পাসপোর্ট বিশ্বসেরা, বাংলাদেশ ১৮১তম

শক্তিশালী পাসপোর্টের সূচকে বিশ্বের ২০০টি দেশের মধ্যে ১৮১তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের পাসপোর্ট। আর এ তালিকায় শীর্ষ স্থানে রয়েছে উত্তরপশ্চিম ইউরোপের দ্বীপরাষ্ট্র আয়ারল্যান্ডের পাসপোর্ট। কর ও অভিবাসনবিষয়ক আন্তর্জাতিক পরামর্শক সংস্থা নোমাড ক্যাপিটালিস্টের হালনাগাদ সূচকে জানানো হয়েছে এ তথ্য।
বিশ্বের ২০০টি দেশের ভিসা-মুক্ত ভ্রমণের সুবিধা, বিদেশে বসবাসরত বাসিন্দাদের ওপর নির্ধারিত কর, দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতাসহ পাঁচটি সূচকের ওপর ভিত্তি করে এই পাসপোর্ট সূচক তৈরি করেছে নোমাড ক্যাপিটালিস্ট।
নোমাড ক্যাপিটালিস্টের তালিকায় শীর্ষে থাকা আয়ারল্যান্ডের প্রাপ্ত স্কোর ১০৯। এ দেশের পাসপোর্টধারী ব্যক্তিরা বিশ্বের ১৭৬টি দেশে ভিসামুক্ত বা অন অ্যারাইভাল ভিসায় ভ্রমণ করতে পারবেন।
শুক্রবার পাসপোর্টের বৈশ্বিক মানের হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। সে তালিকায় ৩৮ স্কোর পেয়ে বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান ১৮২তম স্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের পাসপোর্টধারীরা ভিসামুক্ত অথবা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় বিশ্বের ৫০টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন।
নোমাডের হালনাগাদ তালিকায় বাংলাদেশের ঠিক আগে আছে নেপাল (স্কোর ৩৯ দশমিক ৫) এবং পরে আছে মিয়ানমার (স্কোর ৩৭ দশমিক ৫)। অপর দুই প্রতিবেশী দেশ ভারতের অবস্থান সূচকে ১৪৮ তম (স্কোর ৪৭ দশমিক ৫) এবং পাকিস্তানের অবস্থান ১৯৫তম (স্কোর ৩২)।
এর আগে ২০২৩ সালের মার্চে নোমাডের পাসপোর্ট সূচকে সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তকমা পেয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। হালনাগাদ তালিকায় ১০৬ দশমিক ৫ স্কোর নিয়ে দশম স্থানে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের এ দেশটি। তবে দশম অবস্থানে থাকলেও আমিরাতের নাগরিকরা ১৭৯টি দেশে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় ভ্রমণ করতে পারবেন; অর্থাৎ তালিকায় শীর্ষে থাকা আয়ারল্যান্ডের নাগরিকদের তুলনায় অতিরিক্ত ৩টি দেশে ভ্রমণ করতে পারবেন আমিরাতের পাসপোর্টধারীরা।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
আন্তর্জাতিক
ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ জানালো আমিরাত

ইসলামিক ক্যালেন্ডারের গুরুত্বপূর্ণ উৎসবগুলোর মধ্যে ঈদুল আজহা একটি। আমিরাতে আগামী ৬ জুন (শুক্রবার) ঈদুল আজহা শুরু হতে পারে। দেশটির অ্যাস্ট্রনোমি সোসাইটি এ তথ্য জানিয়েছে।
আশা করা হচ্ছে, জিলহজ মাসের চাঁদ আগামী ২৭ মে দেখা যাবে। তাই এই মাসের প্রথম দিন হবে ২৮ মে। সে অনুযায়ী ৫ জুন আরাফার দিবস পালিত হবে। এর একদিন পর অর্থাৎ ৬ জুন ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়।
যদি ২৭ মে সন্ধ্যায় জিলহজের চাঁদ না দেখা যায় তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে ঈদ উদযাপিত হবে ৭ জুন।
ঈদুল আজহাকে কোরবানির ঈদও বলা হয়। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নিজের ছেলে হযরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করার নিয়ত করেন হযরত ইব্রাহিম (আ.)। যা ছিল আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের একটি নির্দশন।
সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যেদিন চাঁদ দেখা যায় তার পরের দিন বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোতে চাঁদ দেখা যায়। সে হিসেবে যদি ৬ জুন মধ্যপ্রাচ্যে ঈদ হয়, তাহলে বাংলাদেশে পরদিন অর্থাৎ আগামী ৭ জুন (শনিবার) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।