ক্যাটাগরি: লাইফস্টাইল

সূর্যগ্রহণ সম্পর্কে যত ‘ভুল ধারণা’

সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যকার কক্ষপথে চাঁদ এসে পড়লে পৃথিবীর একটা অংশ সম্পূর্ণ ঢেকে যায় সেই ছায়ায়। আর এ কারণেই অন্ধকারে দিন হয়ে যায় রাতের মতো। মহাজাগতিক এ ঘটনাকে বলে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। আজ সোমবার (৮ এপ্রিল) এমনই এক বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব।

সোমবারের মহাজাগতিক এই দৃশ্য সরাসরি দেখা যাবে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো থেকে। স্থানীয় সময় ১১টা ৭ মিনিটে মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে দেখা যাবে প্রথম সূর্যগ্রহণ। এরপর চাঁদের ছায়া আস্তে আস্তে সরে যাওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২৭ মিনিটে দৃশ্যমান হবে সূর্যগ্রহণ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আজ যেভাবে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে ২০৪৪ সালের মধ্যে এমনটি আর দেখা যাবে না। মহাজাগতিক এ ঘটনা ঘিরে যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষের মাঝে নানারকম ‘ভুল ধারণা’ আছে। চলুন সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই-

সূর্যগ্রহণ দেখা বিপজ্জনক

যতক্ষণ আপনি সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুসরণ করে চলবেন ততক্ষণ সূর্যগ্রহণ দেখা সম্পূর্ণ নিরাপদ। সূর্যকে পর্যবেক্ষণ করার সময় আপনার প্রতিরক্ষামূলক চশমা পরা উচিত, অর্থাৎ গ্রহণের শুরু থেকে আংশিক পর্যায় এবং সম্পূর্ণতা পর্যন্ত। এছাড়া অনেকে মাঝে চশমা খুলে পরে আবার পরে। এটি না করে চেষ্টা করুন পুরো সময় চশমা পরিধান করার।

রান্না করা

এরকম একটি কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে যে, সূর্যগ্রহণের সময় কোনো ধরণের খাবার বা পানীয় গ্রহণ করলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। অনেক জায়গায় এরকমও ধারণা রয়েছে যে, সূর্যগ্রহণের সময় রান্না করা হলে ক্ষতিকর সূর্য রশ্মি এক ধরণের বিকিরণ তৈরি করে যা খাবারের ক্ষতি করে। তবে এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বিজ্ঞানীরা কখনোই পাননি।

গর্ভবতী নারীদের বাইরে বের হওয়া

গর্ভবতী নারীদের সূর্যগ্রহণ এড়ানো উচিত, কেননা এটি তার অনাগত সন্তানের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। অনেকেই মনে করেন, সূর্যগ্রহণের সময় গর্ভবতী নারীরা ঘরের বাইরে বের হলে গর্ভের সন্তানের শরীরে বিশেষ ধরণের জন্মদাগ থাকতে পারে। এমনকি হৃৎপিণ্ডে ছিদ্র থাকা বা বিকলঙ্গতা নিয়েও সন্তান জন্ম নিতে পারে। তাই ‘কুসংস্কার’ আছে, সূর্যগ্রহণের সময়ে গর্ভবতী নারীদের ঘরের বাইরে যাওয়া ঠিক হবে না। তবে নাসা বলছে, এই ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

ভ্রমণ না করা

সূর্যগ্রহণ চলাকালীন ভ্রমণ করলে তা অমঙ্গলজনক- এমন একটি ধারণা প্রচলিত রয়েছে। আরেকটি ধারণা রয়েছে যে, সূর্যগ্রহণের সময় ভ্রমণ করলে গ্রহণের সময় সূর্য থেকে নিঃসৃত ক্ষতিকর রশ্মি গায়ে লেগে ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।

সূর্যগ্রহণের সময় গাছ রোপণে ফুল প্রাণবন্ত হয়

কিছু ইউরোপীয় জাতির মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা আছে যে, সূর্যগ্রহণের সময় লাগানো ফুল অন্য সময়ে লাগানো ফুলের চেয়ে বেশি প্রাণবন্ত হয়ে ফুটে। সূর্যগ্রহণের সময় উদ্ভিদ কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায় সে সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্য রয়েছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, গাছপালা সূর্যগ্রহণের প্রতি অনেকটা সাড়া দেয়। মূলত গাছ দিনে কম পানি গ্রহণ করতে পারে এবং সালোকসংশ্লেষণ যা মূলত সূর্যালোকের উপর নির্ভর করে তা হ্রাস পেতে পারে।

গ্রহণের পর গোসল করা

সূর্যগ্রহণের ফলে তথাকথিত যেসব ক্ষতিকর রশ্মি শরীরের সংষ্পর্শে আসে, সেসব রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করতে গ্রহণের শেষে গোসল করার উপদেশ দেয়া হয়ে থাকে কিছু ক্ষেত্রে। এটির কোনো ভিত্তি নেই।

বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত

অনেকে বিশ্বাস করেন, সূর্যগ্রহণের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত করতে পারে। আসল বিষয়টি হল- এটি বিদ্যুৎ সরবরাহকে প্রভাবিত করবে না। এমনকি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে মিনিটের ব্যবধান বিদ্যুত গ্রিডের জন্য কোনো হুমকি সৃষ্টি করে না।

শেয়ার করুন:-
শেয়ার