Connect with us

আন্তর্জাতিক

নেতিবাচক সুদহার নীতি থেকে সরে এলো জাপান

Published

on

মূলধন

জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (বিওজে) ১৭ বছর পর প্রথমবারের মতো নীতি সুদহার বাড়িয়েছে। এর মাধ্যমে দেশটি নেতিবাচক সুদহার নীতি থেকে সরে এল। অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে লম্বা সময় ধরে জাপানে সুদহার অপরিবর্তনীয় রাখা হয়েছিল।

জরুরি এক সভায় সম্প্রতি ব্যাংক অব জাপান ব্যাংক ঋণের হার মাইনাস দশমিক ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে শূন্য থেকে দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত করেছে। পদক্ষেপটির মাধ্যমে ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারির পর এ প্রথম নীতি সুদহার বাড়াল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ব্যাংক অব জাপানের গভর্নর কাজুও উয়েদা জানান, নেতিবাচক সুদহার নীতিসহ অন্যান্য উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে নগদ অর্থের প্রভাব স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ঋণ গ্রহণে ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশ নির্ধারণ করেছিল। মূলত জাপান মূল্যস্ফীতির প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত হয়েছে কিনা সেটি দেখার জন্য এ বেঞ্চমার্ক নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোয় মূল্যস্ফীতি নির্ধারিত পর্যায়ে থাকলেও নেতিবাচক সুদহার নীতি বহাল রাখার বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে ছিল ব্যাংক।

গভর্নর কাজুও উয়েদা জানান, বেতন-ভাতা ও পণ্যের দাম বৃদ্ধি ইতিবাচক ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে আর্থিক নীতিমালা বেশকিছু সময়ের জন্য সহজ অবস্থায় থাকবে বলেও জানান তিনি। তবে বেসরকারি ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক সংস্থা তাদের সুদহার সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানিয়েছেন উয়েদা। তিনি বলেন, ‘২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস পাওয়ায় আমরা নেতিবাচক সুদহার নীতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

সুদহার বাড়ানোর ক্ষেত্রে ব্যাংক অব জাপানকে আরো একটি বিষয় সহায়তা করেছে বলে জানিয়েছে বিশ্লেষকরা। জাপানের বিভিন্ন খাতের কোম্পানিগুলো ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চলতি বছর মজুরি বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে।

‘জাপানের অর্থনীতি অনেকটাই পুনরুদ্ধার হয়েছে’ উল্লেখ করে বিওজে জানায়, বিভিন্ন কোম্পানির মুনাফা বাড়ছে, সেই সঙ্গে মজুরিও বাড়ানো হচ্ছে। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে জাপানের সংবাদমাধ্যমগুলোয় সুদহার বাড়ানোর বিষয়ে আভাস দেয়া হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, ঋণ প্রদানে বর্তমানে যে সহজ কাঠামো রয়েছে, সেখান থেকে হয়তো ব্যাংকগুলো সহজেই সরে আসবে না। এছাড়া মুদ্রা বিনিময় হারও ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।

ক্রেডিট রেটিং সংস্থা এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্সের প্রধান অর্থনীতিবিদ হারুমি তাগুচি জাপানের মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের নিচে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া মজুরি বাড়লেও ভোক্তা পর্যায়ের চাহিদা যেমন হবে সে অনুযায়ী ব্যয় বাড়বে কমবে বলেও জানান।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্সের বিশ্লেষকদের তথ্যানুযায়ী, সুদহার বাড়ানোর বিষয়ে ব্যাংকের সিদ্ধান্ত আর্থিক কার্যক্রমের বাজারে প্রভাব ফেলবে। কিন্তু দেশের মূল অর্থনীতিতে এর প্রভাব খুবই সীমিত থাকবে। বিওজের গভর্নর বারবার জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক নেতিবাচক সুদহারসহ অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে গৃহীত অন্যান্য সহজীকরণ ব্যবস্থা পর্যালোচনা করবে। এজন্য মূল্যস্ফীতির হার ২ শতাংশে থাকার লক্ষ্য পূরণ এবং বেতন বৃদ্ধির উদ্যোগ কার্যকর করতে হবে।

মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তুলনায় জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি আলাদা। কেননা এ অঞ্চল দুটি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদহার সর্বোচ্চ বাড়ানোর পর এখন কমাচ্ছে।

শেয়ার করুন:-
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আন্তর্জাতিক

পশ্চিমবঙ্গে রেল দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৮

Published

on

মূলধন

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রেল দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ জনে। ভারতীয় রেলের তরফে বলা হয়েছে, আটজনের মৃত্যু হয়েছে; এরমধ্যে তিনজন রেলকর্মী এবং ৫ জন রেলযাত্রী।

তবে বেসরকারি সূত্র জানাচ্ছে, এ দুর্ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে পশিমবঙ্গ ও কেন্দ্রীয় সরকারের দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী উদ্ধারকাজে গ্যাস কাটার ব্যবহার করছে। অর্থাৎ ট্রেনের বগি কেটে যাত্রীদের বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

সোমবার (১৭ জুন) শিয়ালদহের দিকে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস ট্রেন। একটি মালবাহী ট্রেনের ধাক্কায় কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের পেছন দিকের কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।

এ দিন সকালে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন (এনজেপি) থেকে শিয়ালদহের উদ্দেশে রওনা করে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস। ট্রেনটি স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ রাঙাপানি স্টেশনের কাছে এলে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয় মালবাহী ট্রেনটি। এ সময় ট্রেনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়, দুমড়ে মুচড়ে উল্টে যায় একটি। আরেকটি বগি উঠে যায় মালবাহী ইঞ্জিনের ওপরে।

ভারতে বর্তমানে ঈদের ছুটি চলছে। এই মুহূর্তে বহু বাংলাদেশি কলকাতায় অবস্থান করছেন। এ সময় কলকাতা হয়ে বহু বাংলাদেশি দার্জিলিং বেড়াতে যান। মূলত, দার্জিলিং ভ্রমণের জন্য অনেক পর্যটক কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস ট্রেন ব্যবহার করেন। ফলে ভারতীয়দের সঙ্গে কোনো বাংলাদেশি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন কি না, সেদিকে নজর রয়েছে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের।

কলকাতা উপহাইকমিশন জানিয়েছে, প্রতি মুহূর্তেই ভারতীয় রেলের সঙ্গে বাংলাদেশ মিশন যোগাযোগ রেখে চলেছে।

ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নারেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন ভারতের রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। বিকেলের দিকে রওনা দেবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য সরকারের তরফে মালদা স্টেশনে হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে।

দিল্লি থেকে রেল বোর্ডের সিইও জয়া ভার্মা সিনহা জানিয়েছেন, সিগন্যালিং ব্যবস্থা ঠিক ছিল। পণ্যবাহী ট্রেন চালকের ভুলেই এত বড় দুর্ঘটনা, প্রাথমিকভাবে এমনটাই অনুমান করা হচ্ছে। তবে পুরোটাই তদন্তসাপেক্ষ বলেও জানান তিনি।

এ রেল দুর্ঘটনা নিয়ে সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে জয়া ভার্মা জানান, আপাতত দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানো এবং ওই লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করাই রেলের প্রাথমিক লক্ষ্য। এরপরেই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হবে।

তবে ঘটনাটি ‘হিউম্যান এরর’ বলেই আখ্যায়িত করেছেন ভারতের রেলমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে যা জানা যাচ্ছে, লাইনে সিগন্যাল ঠিক ছিল। কিন্তু চালক সম্ভবত সিগন্যাল মানেননি। এর ফলেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এখনই নিশ্চিত করে দুর্ঘটনার কারণ বলা সম্ভব নয়। ইতোমধ্যে দুর্ঘটনায় মালবাহী গাড়ির চালক ও একজন কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। একই ভাবে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের পেছন যে গার্ড ছিলেন তারও মুত্যু হয়েছে।

জানা যায়, একই লাইনের প্রথমদিকে ছিল কলকাতাগামী কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস। ঠিক তার পেছন নির্দিষ্ট দূরত্বে ছিল মালবাহী ট্রেনটি। দূরত্ব বজায় রাখার জন্যই মালবাহী ট্রেনটিকে রেড সিগন্যাল দেখানো হয়েছিল। কোনোভাবে সেই সিগন্যাল চালকের নজর এড়িয়ে যায় এবং সজোরে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের পেছনে ধাক্কা মারে মালবাহী ট্রেনটি। রেল সূত্রে জানা গেছে, কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস ১৫০০ যাত্রী নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল।

শেয়ার করুন:-
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পুরো সংবাদটি পড়ুন

আন্তর্জাতিক

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি, ১০ অভিবাসীর মৃত্যু

Published

on

মূলধন

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় ১০ অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। এসময় নৌকাটি থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৫১ জনকে। সোমবার (১৭ জুন) এই তথ্য জানিয়েছে একটি জার্মান দাতব্য সংস্থা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।

নাদির নামে একটি অভিবাসী উদ্ধারকারী জাহাজ পরিচালনা করে রেসকিউশিপ নামক একটি দাতব্য সংস্থা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা একটি ডুবে যাওয়া কাঠের নৌকা থেকে মোট ৬১ জনকে উদ্ধার করেছে। তাদের মধ্যে ১০ জন মৃত ছিল।

দাতব্য এই সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, জীবিতদের মধ্যে দুজনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। উদ্ধারকৃতদের জরুরি নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর করা প্রয়োজন।

ঠিক কোন অঞ্চল থেকে বা কখন এই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল সে সম্পর্কে বিস্তারিত কোনও তথ্য জানায়নি রেসকিউশিপ। তবে মেরিনেটট্রাফিক ডটকমের ট্র্যাকিং অনুসারে, সোমবার (১৭ জুন) পূর্ব তিউনিসিয়ার স্ফ্যাক্স বন্দর থেকে দূরে অবস্থান করছিলেন নাদির।

২০১৫ সাল থেকে মধ্য ভূমধ্যসাগরে ২০ হাজারটিরও বেশি মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিবন্ধন করেছে জাতিসংঘ।

চলতি মাসের শুরুর দিকে লিবিয়ার উপকূলে সমুদ্র থেকে ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

শেয়ার করুন:-
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পুরো সংবাদটি পড়ুন

আন্তর্জাতিক

যাত্রাপথে বিকল নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর বিমান

Published

on

মূলধন

জাপান যাওয়ার পথে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লুক্সনকে বহনকারী প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিমানটি বিকল হয়ে পড়েছে। রোববার (১৬ জুন) পাপুয়া নিউ গিনির পোর্ট মোরসবিতে তেল ভরার সময় বিমানটি বিকল হয়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, বোয়িং (বিএ.এন) বিকল হয়ে পড়ায় একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে করে বেইজিং পৌঁছান ক্রিস্টোফার লুক্সন। এসময় তার ব্যবসায়িক প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকরা পোর্ট মোরসবিতেই আটকা পড়ে।

জাপানের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের ব্যবসার প্রচারে চারদিনের সফরে এখনও বেইজিংয়ে অবস্থান করছেন ক্রিস্টোফার। সেখানে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার সাথে দেখা করবেন তিনি।

নিউজিল্যান্ডের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জুডিথ কলিন্স জানিয়েছেন, নিউজিল্যান্ড প্রতিরক্ষা বাহিনীর দুটি বিমান ৭৫৭ এর বয়স ৩০ বছরেরও বেশি। ফলে এই দুই বিমান নিয়ে প্রায়ই ঝামেলায় পড়তে হয়। এছাড়া বহু পুরাতন মডেলের অস্ত্র ও সরঞ্জাম নিয়ে ধুকছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী। বাহিনীতে সেনার সংখ্যাও কম।

এমন পরিস্থিতিতে নিউজিল্যান্ড সরকার প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়াতে চায়। তবে অর্থনৈতিক চাপের মুখে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে দেশটি।

শেয়ার করুন:-
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পুরো সংবাদটি পড়ুন

আন্তর্জাতিক

ঈদের দিন পশ্চিমবঙ্গে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা

Published

on

মূলধন

পশ্চিমবঙ্গে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা। এবার দুর্ঘটনার শিকার শিয়ালদাহগামী কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস। সোমবার (১৭ জুন) সকালে ঘটা এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরও অনেকে।

জানা যায়, কয়েক দিন ধরেই উত্তরবঙ্গে মুষলধারে বৃষ্টি চলছে। এই বৃষ্টির মধ্যেই নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে সোমবার সকালে নির্ধারিত সময়ে রওয়ানা দিয়েছিল কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস। নীচবাড়ি ও রাঙামাটি স্টেশনের মাঝে ঢুকতেই একটি মালগাড়ি পিছন দিক থেকে ট্রেনটিকে ধাক্কা মারে।

সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ছিল যে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের পেছন দিক থেকে পরপর দুটি কামরা লাইনচ্যুত হয়ে ছিটকে পড়ে উলটে যায়। দুমড়েমুচড়ে গেছে অসংরক্ষিত কামরা। সেখানে আটকে পড়েছেন অসংখ্য যাত্রী। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন পশ্চিমঙ্গ রেলওয়ে কর্মকর্তা, এনডিআরএফ বাহিনী, জিআরপি ও আরপিএফের জওয়ানরা।

দ্রুত উদ্ধার কাজে হাত লাগায় সবাই। দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া কামরা থেকে পাঁচ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আহত হয়েছেন ৩০ থেকে ৪০ জনের মতো। উদ্ধার কাজ এখনো চলছে।

যেহেতু অসংরক্ষিত কামরায় প্রচুর মানুষের ভিড় ছিল, তাই আশঙ্ক করা হচ্ছে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। গ্যাস কাটার দিয়ে বগি কেটে উদ্ধার কাজ চলছে। দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া কামরার ভেতর থেকে এখনো গোঙানির শব্দ ভেসে আসছে।

যেহেতু একটি প্রত্যন্ত এলাকায় দূর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেহেতু ঘটনাস্থল থেকে হাসপাতালে অনেকটা দূরে। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। পরে যাদের আঘাত গুরুতর, তাদেরকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে।

এদিকে, এই দুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, দার্জিলিংয়ের ফাঁসিদেওয়া এলাকায় ট্রেন দুর্ঘটনার খবর পেলাম। এখনো বিস্তারিত জানতে পারিনি। ঘটনাস্থলে জেলা প্রশাসক, এসপি, চিকিৎসক ও পর্যাপ্তসংখ্যক অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছেছে।

সোমবার সকাল থেকেই উত্তরবঙ্গে মুষলধারে বৃষ্টি চলছে। তার মধ্যেই উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন। যদিও বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হচ্ছে প্রশাসনকে।

এদিকে, এ দুর্ঘটনায় সংকেত ব্যবস্থার ত্রুটি রয়েছে নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষ।

শেয়ার করুন:-
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পুরো সংবাদটি পড়ুন

আন্তর্জাতিক

পারিশ্রমিক ছাড়াই মক্কায় মসজিদের নকশা করেন তিনি

Published

on

মূলধন