আন্তর্জাতিক
সৌদিতে জ্বালানি তেল-বহির্ভূত ব্যবসায় ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি

জ্বালানি তেল রপ্তানিতে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ সৌদি আরব। ২০৩০ সাল নাগাদ অর্থনীতিকে জ্বালানি তেল নির্ভরতা থেকে সরিয়ে আনতে কাজ করছে দেশটি। এর অংশ হিসেবে জ্বালানি তেল-বহির্ভূত ব্যবসা খাতের বিস্তারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়াচ্ছে সৌদি সরকার। জানুয়ারিতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) জ্বালানি তেল-বহির্ভূত খাতের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বেড়েছে। খবর দ্য ন্যাশনাল নিউজ।
জ্বালানি তেল-বহির্ভূত খাতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যাচাইয়ের একটি গ্রহণযোগ্য মানদণ্ড হলো রিয়াদ ব্যাংকের পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স। জানুয়ারিতে এ সূচক ৫৫ দশমিক ৪-এ নেমে এসেছে, যেখানে গত ডিসেম্বরে এ সূচক ৫৭ দশমিক ৫ ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা বলেছেন। নতুন ব্যবসার কারণে কার্যক্রম বেড়েছে। কিন্তু প্রতিযোগিতা থাকলেও বেশকিছু ব্যবসা খাতে বিক্রির হার নিম্নমুখী ছিল।
নতুন ব্যবসা শুরু হওয়ায় জানুয়ারিতে ক্রয় কার্যক্রমের পাশাপাশি পণ্যের মজুদও বেড়েছে। যদিও অঞ্চলগুলোয় কেনাকাটার প্রবৃদ্ধি আট মাসের সর্বনিম্নে ছিল। লোহিত সাগরে বিদ্যমান সংকটের মধ্যেও জ্বালানি তেল-বহির্ভূত খাতের ক্রয়মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। মূলত শক্তিশালী চাহিদা, কাঁচামালের ঊর্ধ্বমুখী দাম, সরবরাহ শৃঙ্খলের ঝুঁকি এবং শিপিংয়ের খরচ বেড়ে যাওয়ায় এ প্রভাব পড়েছে।
রিয়াদ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ নাইফ আল-ঘাইথ বলেন, ‘জীবনযাপন ব্যয় ও সুদহার বাড়লেও জ্বালানি তেল-বহির্ভূত খাতের প্রবৃদ্ধি যে অব্যাহত রয়েছে সেটি স্পষ্ট। এর মাধ্যমে সৌদির অর্থনীতিতে ভিন্ন খাতগুলোর অবদানের বিষয়টি প্রকাশ পায়। উৎপাদন খরচ বাড়লেও পণ্য বাজারজাতের দাম এখনো কম। যার পরিপ্রেক্ষিতে বাজারে প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশ বহাল রয়েছে।’
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সবশেষ প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি বছর সৌদির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৭ এবং ২০২৫ সালে ৫ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত হবে। গত বছর জ্বালানি তেল উত্তোলন ও সরবরাহ কমার কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ১ শতাংশে নেমে এসেছিল। অন্যদিকে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে জ্বালানি তেল-বহির্ভূত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী পর্যায়ে ছিল। কেননা সরকারিভাবে বিভিন্ন খাতে বিদেশী বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়।
বর্তমানে আবাসন থেকে শুরু করে পর্যটন, বিনোদন ও অবকাঠামো খাতে বেশকিছু নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করা হচ্ছে। এছাড়া রিয়াদ চলতি বছর নতুন নীতিমালা কার্যকর করেছে। এর অংশ হিসেবে বিদেশী বহুজাতিক ব্যবসায়িক কোম্পানিগুলোকে স্থানীয় অফিস চালু করতে হবে। অন্যথায় কোম্পানিগুলো সরকারি সব চুক্তি ও সুবিধা হারাবে।
অর্থসংবাদ/এমআই
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আন্তর্জাতিক
দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন টিউলিপ

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতির সঙ্গে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ছাড়া টিউলিপ ব্যক্তিগতভাবেও আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়েছেন বলে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। সেসব দুর্নীতি মামলা মোকাবিলায় তার আইনজীবীরা প্রস্তুত, তিনি নিজেই এ ঘোষণা দিয়েছেন। দুর্নীতির অভিযোগে ব্রিটিশ মন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করার পর এটি তার প্রথম প্রকাশ্য মন্তব্য।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে টিউলিপ সিদ্দিক জানান, তার আইনজীবীরা বাংলাদেশে দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ সম্পর্কে যেকোনো আনুষ্ঠানিক প্রশ্নের জবাব দিতে প্রস্তুত। বুধবার (২ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমটি।
টিউলিপ সিদ্দিক বলেন, ‘কয়েক মাস ধরে অভিযোগ আসছে এবং কেউ আমার সাথে যোগাযোগ করেনি।’
আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দলের সাথে তার স্পষ্ট সংশ্লিষ্টতার জন্য তিনি অনুতপ্ত কিনা জানতে চাইলে টিউলিপ বলেন, ‘আপনি আমার আইনি চিঠিটি কেন দেখেন না? সেখানে আমার কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আছে কি না… বাংলাদেশী কর্তৃপক্ষ একবারও আমার সাথে যোগাযোগ করেনি। আমি তাদের কাছ থেকে শোনার জন্য অপেক্ষা করছি।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক। শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের দুর্নীতির সঙ্গে তার জড়িত থাকার প্রমাণ সামনে আসে। এতে দলের ভেতরে বাইরে চাপে পড়েন টিউলিপ। শেষমেশ বাধ্য হয়ে লেবার মন্ত্রিসভার ইকোনমিক সেক্রেটারি টু দি ট্রেজারি অ্যান্ড সিটি মিনিস্টারের পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।
ওই পদে তার কাজ ছিল যুক্তরাজ্যের অর্থবাজারের ভেতরের দুর্নীতি সামাল দেওয়া। কিন্তু মন্ত্রী নিজেই দুর্নীতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশ-বিদেশে কোণঠাসা হয়ে পড়েন টিউলিপ; পদত্যাগের পরও এর প্রভাব বিদ্যমান। সে সঙ্গে শেখ পরিবারের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসতে থাকে। সেসব তদন্তে নামে দুদক। প্রাথমিকভাবে যার প্রায় সব কটিরই বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পায় সংস্থাটি। এখনও তদন্ত চলমান।
প্রসঙ্গত, নিজেকে নির্দোষ দাবি করে প্রচার চালাচ্ছেন ব্রিটেনের সাবেক মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক। দেশটির ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ এ কাজ চাতুরতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে নিয়োগ করেছেন আইনজীবী। সেই আইনজীবীদের তরফে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদককে) একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এমন তথ্য মার্চের শেষ দিকেই জানিয়েছিল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। এবার আইনজীবী নিয়োগের বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করলেন টিউলিপ।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ ছাড়াও যেসব দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করলেন ট্রাম্প

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বুধবার বিকেল ৪টায় হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন করে শুল্ক ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের পাল্টা এই শুল্ক আরোপে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ভারতের পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ আর পাকিস্তানের পণ্যের ওপর ২৯ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছে ৩৪ শতাংশ।
এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের পণ্যের ওপর ৪৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার পণ্যে ৪৪ শতাংশ, তাইওয়ানের পণ্যে ৩২ শতাংশ, জাপানের পণ্যে ২৪ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে ২৫ শতাংশ, থাইল্যান্ডের পণ্যে ৩৬ শতাংশ, সুইজারল্যান্ডের পণ্যে ৩১ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার পণ্যে ৩২ শতাংশ, মালয়েশিয়ার পণ্যে ২৪ শতাংশ, কম্বোডিয়ার পণ্যে ৪৯ শতাংশ, যুক্তরাজ্যের পণ্যে ১০ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকার পণ্যে ৩০ শতাংশ, ব্রাজিলের পণ্যে ১০ শতাংশ, সিঙ্গাপুরের পণ্যে ১০ শতাংশ, ইসরায়েলের পণ্যে ১৭ শতাংশ, ফিলিপাইনের পণ্যে ১৭ শতাংশ, চিলির পণ্যে ১০ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ, তুরস্কের পণ্যে ১০ শতাংশ, কলম্বিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ আরোপ করা হয়েছে।
অন্যান্য যেসব দেশের পণ্যের ওপর বেশি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে মিয়ানমারের পণ্যে ৪৪ শতাংশ, লাওসের পণ্যে ৪৮ শতাংশ এবং মাদাগাস্কারের পণ্যের ওপর ৪৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যেসব দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, তা কার্যকর করা হবে আগামী ৫ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রাত ১২ টা ১ মিনিট থেকে। আর যেসব দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশের বেশি শুল্ক ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প, সেই নতুন শুল্ক কার্যকর হবে আগামী ৯ এপ্রিল মার্কিন স্থানীয় সময় রাত ১২ টা ১ মিনিট থেকে।
কী কারণে এই সিদ্ধান্ত নিলেন ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, অন্যান্য দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বাজেভাবে’ ব্যবহার করেছে এবং আমেরিকান পণ্যের ওপর অসম শুল্ক আরোপ করেছে। এটিকে তিনি ‘প্রতারণার’ সঙ্গে তুলনা করেছেন।
অন্যান্য দেশ অসম শুল্ক আরোপ করার কারণে যুক্তরাষ্ট্রও তাদের ওপর এই পাল্টা শুল্ক আরোপ করছে। তবে, ট্রাম্প বলছেন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক অন্যদের আরোপিত শুল্কের ‘প্রায় অর্ধেক’।
“সুতরাং, সেই হিসাবে পুরোপুরি পাল্টা শুল্ক হচ্ছে না। তবে হ্যাঁ, আমি তা করতে পারতাম। কিন্তু এটি করলে অনেক দেশের জন্য কঠিন হয়ে যেত। আমি তা করতে চাইনি,” বলেন ট্রাম্প।
তিনি তার বক্তব্যে বারবার উল্লেখ করেন যে এটি যুক্তরাষ্ট্রের “মুক্তির দিন”। এই দিনটির জন্য যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছিলো বলেও জানান। তিনি যোগ করেন যে, আজকের দিনটি আমেরিকান শিল্পের “পুনর্জন্মের” দিন এবং আজ আমেরিকা “পুনরায় সম্পদশালী” হলো।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক পরিকল্পনা ঘোষণার পর বাড়ল স্বর্ণের দাম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনা ঘোষণার অল্পকিছুক্ষণের মধ্যেই বিশ্ববাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। প্রতি আউন্স (২৮ দশমিক ৩৫ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পৌঁছেছে ৩ হাজার ১২৯ দশমিক ৪৬ ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৮৯৯ দশমিক ৩৩ টাকা), যা আগের চেয়ে দশমিক ৬ শতংশ বেশি। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে রয়টার্স।
গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার দিকে ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন শুল্ক পরিকল্পনা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। সেই ঘোষণায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানিকারী সব দেশের ওপর রপ্তানিশুল্ক আরোপ করেছে তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসন। দেশভেদে এই শুল্কের হার সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ (বেইসলাইন ট্যারিফ) থেকে সর্বোচ্চ ৪৬ শতাংশ।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প এই ঘোষণা দেওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স (২৮ দশমিক ৩৫ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পৌঁছেছে ৩ হাজার ১২৯ দশমিক ৪৬ ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৮৯৯ দশমিক ৩৩ টাকা), যা আগের চেয়ে দশমিক ৬ শতংশ বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী স্বর্ণ ব্যবসায়ী তাই উওং রয়টার্সকে এ প্রসঙ্গে বলেন, “নতুন এই শুল্প পরিকাল্পনা আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি আগ্রাসী। এই পরিকল্পনা কার্যকর করা হলে ভবিষ্যতে একদিকে বাজারে স্বর্ণের বিক্রি বাড়বে, অন্যদিকে ডলারের মান কমবে।”
তাই উওং আরও বলেন, সামনের দিনগুলোতে স্বর্ণের দাম আরও বাড়তে থাকবে এবং শিগগিরই বর্ধিত এই দাম গিয়ে ঠেকবে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ২০০ ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৩৯৪ দশমিক ৮৮ টাকা)।
“এখানে প্রচুর প্রশ্ন রয়েছে, যেগুলোর উত্তর এখনও মেলেনি এবং আমার মনে হয় এই নতুন শুল্ক পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক কিছু নিয়ে আলোচনা শুরু করা যেতে পারে। যদি তা না হয়, তাহলে স্বল্প সময়ের জন্য হলেও বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা রয়েছে,” রয়টার্সকে বলেন তাই উওং।
প্রসঙ্গত, ডলারের মান বারবার ওঠানামা করার কারণে করোনা মহামারির পর থেকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদা বাড়তে থাকে। এই বাজারের সবচেয়ে বড় ক্রেতা বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে অনেক বিনিয়োগকারীও বর্তমানে বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে ডলারের পরিবর্তে স্বর্ণের ব্যবহার করছেন। সূত্র: রয়টার্স, এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড।
কাফি
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
আন্তর্জাতিক
মার্কিন সরকারের দায়িত্ব থেকে সরে যাচ্ছেন ইলন মাস্ক

আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের দায়িত্ব থেকে সরে যাচ্ছেন টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্ক। এমনটাই দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মন্ত্রিসভার সদস্যসহ ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্ককে নবগঠিত সরকারি দক্ষতা বিভাগের (ডিওজিই) দায়িত্ব দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এটা সরকারের সরাসরি কোনো অংশ নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় কমানো ছিল এই বিভাগের কাজ।
ট্রাম্প গত জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসেন। এর পর মাস্কের পরামর্শে বেশ কটি বড় সিদ্ধান্ত নেন। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা ইউএসএআইডি বন্ধ করা এবং লাখ লাখ সরকারি চাকরিজীবীকে অবসরে পাঠানোর মতো সিদ্ধান্ত দেশটিতে হইচই ফেলে দিয়েছিল।
ট্রাম্পের ওই বক্তব্য সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, ইলন মাস্ক এখন তাঁর ব্যবসায়িক কাজে ফিরে যাবেন। পাশাপাশি তিনি সরকারকে সহায়তায় একটি ভূমিকা পালন করবেন।
মাস্ক ও তাঁর বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন ট্রাম্প। তবে সম্প্রতি দুজনই এ বিষয়ে একমত হন যে মাস্কের সরে দাঁড়ানোর সময় হয়েছে। এ নিয়ে ইলন মাস্ক ও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পায়নি পলিটিকো।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের

দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার, বিশেষ করে তৈরি পোশাকের বড় রপ্তানিকারক দেশ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এ শুল্ক আরোপ করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতদিন দেশটিতে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ১৫ শতাংশ করে শুল্ক ছিল।
ওয়াশিংটনে স্থানীয় সময় বুধবার (২ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে উচ্চ মাত্রার এই শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর-রয়টার্স
বাংলাদেশের প্রধান দুই রপ্তানি বাজারের একটি যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের একটি বড় অংশ রপ্তানি হয় দেশটিতে। যুক্তরাষ্ট্রে বছরে বাংলাদেশের রপ্তানি হয় প্রায় ৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন (৮৪০ কোটি) ডলার, যা প্রধানত তৈরি পোশাক। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন (৭৩৪ কোটি) ডলারে। নতুন করে উচ্চ মাত্রায় এ শুল্ক আরোপে বাংলাদেশের রফতানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
অন্যান্য দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করেছে উল্লেখ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, অনেক ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধা আরও খারাপ অবস্থা তৈরি করেছে। এ সময় বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মেধাসত্ত চুরিসহ অন্যান্য বিধিনিষেধ আরোপের অভিযোগ করেন তিনি।