আন্তর্জাতিক
সম্পদশালী শহরের তালিকায় আমিরাতের দুই শহর

বিশ্বের সম্পদশালী বা ধনী শহরের শীর্ষ তালিকায় স্থান নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) জনবহুল ও আলোচিত দুই শহর। লন্ডনভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স সম্পদশালী শহর নিয়ে করা তালিকায় এ দুই শহর উঠে এসেছে।
তালিকায় ইউএইর সবচেয়ে জনবহুল ও আলোচিত শহর দুবাইয়ের অবস্থান তৃতীয়। আর দশম অবস্থানে রয়েছে আবুধাবি। সহজ ভিসা ও করমুক্ত সুবিধা নিয়ে দেশটির জাঁকজমকপূর্ণ শহরগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ায় এই দুই শহর শীর্ষ ধনী শহরের তালিকায় উঠে আসে।
তালিকা তৈরিতে হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের সঙ্গে ছিল আফ্রিকার সংস্থা নিউ ওয়ার্ল্ড ওয়েলথ। বৈশ্বিক ব্যক্তিগত সম্পদ ও বিনিয়োগসংক্রান্ত কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে সংস্থা দুটি এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
‘ব্রিকস ওয়েলথ’ শীর্ষক এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুবাইয়ে ধনকুবের রয়েছেন ৭২ হাজার ৫০০ জন। আছেন ২১২ জন সেন্টি-মিলিয়নেয়ার ও ১৫ জন বিলিয়নেয়ার। অন্যদিকে আবুধাবিতে ধনীর সংখ্যা ২২ হাজার ৭০০ জন, যাদের ৬৮ জন সেন্টি-মিলিয়নেয়ার ও পাঁচজন বিলিয়নেয়ার। যাদের বিনিয়োগযোগ্য সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি ডলার বা তার বেশি, এমন ধনীদের সেন্টি-মিলিয়নেয়ার বলা হয়। ১০ লাখ ডলার বা তার বেশি সম্পদের মালিক ব্যক্তিদের মিলিয়নেয়ারের তালিকায় রাখা হয়েছে।
তালিকায় স্থান করে নিয়েছে ব্রিকসের বড় অর্থনীতির দেশ চীনের পাঁচ শহর। সবচেয়ে ধনী শহরের তালিকার শীর্ষে আছে চীনের রাজধানী বেইজিং। শহরটিতে ১ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ জন ধনকুবের আছেন। যাদের মধ্যে ৩৪৭ জন সেন্টি-মিলিয়নেয়ার ও ৪২ জন বিলিয়নেয়ার। বেইজিংয়ের পর দ্বিতীয় স্থানে আছে সাংহাই। সেখানে সম্পদশালী ব্যক্তি রয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৪০০ জন। চতুর্থ ও পঞ্চম নম্বরে আছে যথাক্রমে ভারতের মুম্বাই ও চীনের শেনজেন।
দুবাই ও আবুধাবির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সম্পদ বাড়ছে ইউএইর আরেক শহর শারজায়। এখানেও বিনিয়োগ বৈচিত্র্যকরণ নীতি নিয়েছে দেশটির সরকার। নিউ ওয়ার্ল্ড ওয়েলথের গবেষণাপ্রধান অ্যান্ড্রু অ্যামোয়েলস বলেন, ‘দুবাই ও আবুধাবির তুলনায় ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব অনেক কম থাকা সত্ত্বেও মিলিয়নেয়ার বৃদ্ধির হারে এগিয়ে আছে শারজা।’
শারজায় বর্তমানে ৪ হাজার ১০০ জন মিলিয়নেয়ারের বসবাস। ২০৩৩ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ১২০ শতাংশ বেড়ে নয় হাজার ছাড়িয়ে যাবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
একইভাবে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহৎ অর্থনীতি সৌদি আরবের দুই শহর রিয়াদ ও জেদ্দায় পরবর্তী দশকে কোটিপতির সংখ্যা বাড়বে। পূর্বাভাস অনুসারে, রাজধানী রিয়াদে ৯০ শতাংশ ও জেদ্দায় সম্পদশালীর সংখ্যা বাড়বে প্রায় ১০০ শতাংশ।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, ইরান ও ইথিওপিয়ার সঙ্গে ব্রিকস জোটে যোগ দেয় সৌদি আরব। নতুন পাঁচ দেশের যোগদানে অর্থনৈতিক জোটটির আকার দ্বিগুণ হয়েছে। ১০ সদস্য দেশের মধ্যে শুরুর পাঁচ দেশ ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
গত জুনে হেলনি অ্যান্ড পার্টনার্সের এক পৃথক প্রতিবদনে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত গত বছর আরো ৪ হাজার ৫০০ মিলিয়নেয়ার আকর্ষণ করবে বলে আশা করেছিল। মিলিয়নেয়ার আকর্ষণের পূর্বাভাসে অস্ট্রেলিয়ার পরই দ্বিতীয় অবস্থান করস্বর্গ হিসেবে পরিচিত ইউএইর। একই বছর বিশ্বব্যাপী ৫ হাজার ২০০ সম্পদশালীকে আকর্ষণ করেছে অস্ট্রেলিয়া।
হেলনি অ্যান্ড পার্টনার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৩ সাল থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে মিলিয়নেয়ারের সংখ্যা ৭৭ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে দেশটিতে ১ লাখ ১৬ হাজার ৫০০ ধনকুবেরের বাস। তাদের মধ্যে সেন্টি-মিলিয়নেয়ার ৩০০ জন।
গবেষণা বলছে, গত এক দশকে সৌদি আরব ও ইথিওপিয়ায়ও ব্যক্তিগত সম্পদশালীর সংখ্যা বেড়েছে। দেশ দুটিতে মিলিয়নেয়ার যথাক্রমে ৩৫ শতাংশ ও ৩০ শতাংশ বেড়েছে।
ব্যক্তিগত সম্পদের পাশাপাশি মাথাপিছু সম্পদ বৃদ্ধির পূর্বাভাসে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সবার ওপরে রয়েছে ভারত। ২০৩৩ সালের মধ্যে দেশটির মাথাপিছু সম্পদের পরিমাণ ১১০ শতাংশ বাড়তে পারে।
গবেষণা বলছে, আগামী ১০ বছরে সৌদি আরবের মাথাপিছু সম্পদ ১০৫ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে। ৯৫ শতাংশের পূর্বাভাস নিয়ে এর পরের অবস্থানে রয়েছে ইউএই। এছাড়া চীন, ইথিওপিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও মিসর আগামী দশকে ৫০ শতাংশের বেশি সম্পদ বৃদ্ধি উপভোগ করবে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিকস ব্লকে বর্তমানে মোট বিনিয়োগযোগ্য সম্পদের পরিমাণ ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলার। যেখানে মিলিয়নেয়ারের সংখ্যা আগামী ১০ বছরে প্রায় ৮৫ শতাংশ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এ গ্রুপে বর্তমানে ১৬ লাখ ব্যক্তি রয়েছে, যাদের বিনিয়োগযোগ্য সম্পদ ১০ লাখ ডলারের বেশি। এদের মধ্যে সেন্টি-মিলিয়নেয়ার ৪ হাজার ৭১৫ জন ও ৫৪৯ জন বিলিয়নেয়ার।
অর্থসংবাদ/এমআই
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আন্তর্জাতিক
দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন টিউলিপ

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতির সঙ্গে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ছাড়া টিউলিপ ব্যক্তিগতভাবেও আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়েছেন বলে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। সেসব দুর্নীতি মামলা মোকাবিলায় তার আইনজীবীরা প্রস্তুত, তিনি নিজেই এ ঘোষণা দিয়েছেন। দুর্নীতির অভিযোগে ব্রিটিশ মন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করার পর এটি তার প্রথম প্রকাশ্য মন্তব্য।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে টিউলিপ সিদ্দিক জানান, তার আইনজীবীরা বাংলাদেশে দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ সম্পর্কে যেকোনো আনুষ্ঠানিক প্রশ্নের জবাব দিতে প্রস্তুত। বুধবার (২ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমটি।
টিউলিপ সিদ্দিক বলেন, ‘কয়েক মাস ধরে অভিযোগ আসছে এবং কেউ আমার সাথে যোগাযোগ করেনি।’
আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দলের সাথে তার স্পষ্ট সংশ্লিষ্টতার জন্য তিনি অনুতপ্ত কিনা জানতে চাইলে টিউলিপ বলেন, ‘আপনি আমার আইনি চিঠিটি কেন দেখেন না? সেখানে আমার কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আছে কি না… বাংলাদেশী কর্তৃপক্ষ একবারও আমার সাথে যোগাযোগ করেনি। আমি তাদের কাছ থেকে শোনার জন্য অপেক্ষা করছি।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক। শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের দুর্নীতির সঙ্গে তার জড়িত থাকার প্রমাণ সামনে আসে। এতে দলের ভেতরে বাইরে চাপে পড়েন টিউলিপ। শেষমেশ বাধ্য হয়ে লেবার মন্ত্রিসভার ইকোনমিক সেক্রেটারি টু দি ট্রেজারি অ্যান্ড সিটি মিনিস্টারের পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।
ওই পদে তার কাজ ছিল যুক্তরাজ্যের অর্থবাজারের ভেতরের দুর্নীতি সামাল দেওয়া। কিন্তু মন্ত্রী নিজেই দুর্নীতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশ-বিদেশে কোণঠাসা হয়ে পড়েন টিউলিপ; পদত্যাগের পরও এর প্রভাব বিদ্যমান। সে সঙ্গে শেখ পরিবারের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসতে থাকে। সেসব তদন্তে নামে দুদক। প্রাথমিকভাবে যার প্রায় সব কটিরই বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পায় সংস্থাটি। এখনও তদন্ত চলমান।
প্রসঙ্গত, নিজেকে নির্দোষ দাবি করে প্রচার চালাচ্ছেন ব্রিটেনের সাবেক মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক। দেশটির ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ এ কাজ চাতুরতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে নিয়োগ করেছেন আইনজীবী। সেই আইনজীবীদের তরফে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদককে) একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এমন তথ্য মার্চের শেষ দিকেই জানিয়েছিল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। এবার আইনজীবী নিয়োগের বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করলেন টিউলিপ।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ ছাড়াও যেসব দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করলেন ট্রাম্প

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বুধবার বিকেল ৪টায় হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন করে শুল্ক ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের পাল্টা এই শুল্ক আরোপে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ভারতের পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ আর পাকিস্তানের পণ্যের ওপর ২৯ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছে ৩৪ শতাংশ।
এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের পণ্যের ওপর ৪৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার পণ্যে ৪৪ শতাংশ, তাইওয়ানের পণ্যে ৩২ শতাংশ, জাপানের পণ্যে ২৪ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে ২৫ শতাংশ, থাইল্যান্ডের পণ্যে ৩৬ শতাংশ, সুইজারল্যান্ডের পণ্যে ৩১ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার পণ্যে ৩২ শতাংশ, মালয়েশিয়ার পণ্যে ২৪ শতাংশ, কম্বোডিয়ার পণ্যে ৪৯ শতাংশ, যুক্তরাজ্যের পণ্যে ১০ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকার পণ্যে ৩০ শতাংশ, ব্রাজিলের পণ্যে ১০ শতাংশ, সিঙ্গাপুরের পণ্যে ১০ শতাংশ, ইসরায়েলের পণ্যে ১৭ শতাংশ, ফিলিপাইনের পণ্যে ১৭ শতাংশ, চিলির পণ্যে ১০ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ, তুরস্কের পণ্যে ১০ শতাংশ, কলম্বিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ আরোপ করা হয়েছে।
অন্যান্য যেসব দেশের পণ্যের ওপর বেশি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে মিয়ানমারের পণ্যে ৪৪ শতাংশ, লাওসের পণ্যে ৪৮ শতাংশ এবং মাদাগাস্কারের পণ্যের ওপর ৪৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যেসব দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, তা কার্যকর করা হবে আগামী ৫ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রাত ১২ টা ১ মিনিট থেকে। আর যেসব দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশের বেশি শুল্ক ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প, সেই নতুন শুল্ক কার্যকর হবে আগামী ৯ এপ্রিল মার্কিন স্থানীয় সময় রাত ১২ টা ১ মিনিট থেকে।
কী কারণে এই সিদ্ধান্ত নিলেন ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, অন্যান্য দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বাজেভাবে’ ব্যবহার করেছে এবং আমেরিকান পণ্যের ওপর অসম শুল্ক আরোপ করেছে। এটিকে তিনি ‘প্রতারণার’ সঙ্গে তুলনা করেছেন।
অন্যান্য দেশ অসম শুল্ক আরোপ করার কারণে যুক্তরাষ্ট্রও তাদের ওপর এই পাল্টা শুল্ক আরোপ করছে। তবে, ট্রাম্প বলছেন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক অন্যদের আরোপিত শুল্কের ‘প্রায় অর্ধেক’।
“সুতরাং, সেই হিসাবে পুরোপুরি পাল্টা শুল্ক হচ্ছে না। তবে হ্যাঁ, আমি তা করতে পারতাম। কিন্তু এটি করলে অনেক দেশের জন্য কঠিন হয়ে যেত। আমি তা করতে চাইনি,” বলেন ট্রাম্প।
তিনি তার বক্তব্যে বারবার উল্লেখ করেন যে এটি যুক্তরাষ্ট্রের “মুক্তির দিন”। এই দিনটির জন্য যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছিলো বলেও জানান। তিনি যোগ করেন যে, আজকের দিনটি আমেরিকান শিল্পের “পুনর্জন্মের” দিন এবং আজ আমেরিকা “পুনরায় সম্পদশালী” হলো।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক পরিকল্পনা ঘোষণার পর বাড়ল স্বর্ণের দাম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনা ঘোষণার অল্পকিছুক্ষণের মধ্যেই বিশ্ববাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। প্রতি আউন্স (২৮ দশমিক ৩৫ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পৌঁছেছে ৩ হাজার ১২৯ দশমিক ৪৬ ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৮৯৯ দশমিক ৩৩ টাকা), যা আগের চেয়ে দশমিক ৬ শতংশ বেশি। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে রয়টার্স।
গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার দিকে ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন শুল্ক পরিকল্পনা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। সেই ঘোষণায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানিকারী সব দেশের ওপর রপ্তানিশুল্ক আরোপ করেছে তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসন। দেশভেদে এই শুল্কের হার সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ (বেইসলাইন ট্যারিফ) থেকে সর্বোচ্চ ৪৬ শতাংশ।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প এই ঘোষণা দেওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স (২৮ দশমিক ৩৫ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পৌঁছেছে ৩ হাজার ১২৯ দশমিক ৪৬ ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৮৯৯ দশমিক ৩৩ টাকা), যা আগের চেয়ে দশমিক ৬ শতংশ বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী স্বর্ণ ব্যবসায়ী তাই উওং রয়টার্সকে এ প্রসঙ্গে বলেন, “নতুন এই শুল্প পরিকাল্পনা আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি আগ্রাসী। এই পরিকল্পনা কার্যকর করা হলে ভবিষ্যতে একদিকে বাজারে স্বর্ণের বিক্রি বাড়বে, অন্যদিকে ডলারের মান কমবে।”
তাই উওং আরও বলেন, সামনের দিনগুলোতে স্বর্ণের দাম আরও বাড়তে থাকবে এবং শিগগিরই বর্ধিত এই দাম গিয়ে ঠেকবে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ২০০ ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৩৯৪ দশমিক ৮৮ টাকা)।
“এখানে প্রচুর প্রশ্ন রয়েছে, যেগুলোর উত্তর এখনও মেলেনি এবং আমার মনে হয় এই নতুন শুল্ক পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক কিছু নিয়ে আলোচনা শুরু করা যেতে পারে। যদি তা না হয়, তাহলে স্বল্প সময়ের জন্য হলেও বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা রয়েছে,” রয়টার্সকে বলেন তাই উওং।
প্রসঙ্গত, ডলারের মান বারবার ওঠানামা করার কারণে করোনা মহামারির পর থেকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদা বাড়তে থাকে। এই বাজারের সবচেয়ে বড় ক্রেতা বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে অনেক বিনিয়োগকারীও বর্তমানে বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে ডলারের পরিবর্তে স্বর্ণের ব্যবহার করছেন। সূত্র: রয়টার্স, এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড।
কাফি
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
আন্তর্জাতিক
মার্কিন সরকারের দায়িত্ব থেকে সরে যাচ্ছেন ইলন মাস্ক

আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের দায়িত্ব থেকে সরে যাচ্ছেন টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্ক। এমনটাই দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মন্ত্রিসভার সদস্যসহ ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্ককে নবগঠিত সরকারি দক্ষতা বিভাগের (ডিওজিই) দায়িত্ব দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এটা সরকারের সরাসরি কোনো অংশ নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় কমানো ছিল এই বিভাগের কাজ।
ট্রাম্প গত জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসেন। এর পর মাস্কের পরামর্শে বেশ কটি বড় সিদ্ধান্ত নেন। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা ইউএসএআইডি বন্ধ করা এবং লাখ লাখ সরকারি চাকরিজীবীকে অবসরে পাঠানোর মতো সিদ্ধান্ত দেশটিতে হইচই ফেলে দিয়েছিল।
ট্রাম্পের ওই বক্তব্য সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, ইলন মাস্ক এখন তাঁর ব্যবসায়িক কাজে ফিরে যাবেন। পাশাপাশি তিনি সরকারকে সহায়তায় একটি ভূমিকা পালন করবেন।
মাস্ক ও তাঁর বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন ট্রাম্প। তবে সম্প্রতি দুজনই এ বিষয়ে একমত হন যে মাস্কের সরে দাঁড়ানোর সময় হয়েছে। এ নিয়ে ইলন মাস্ক ও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পায়নি পলিটিকো।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের

দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার, বিশেষ করে তৈরি পোশাকের বড় রপ্তানিকারক দেশ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এ শুল্ক আরোপ করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতদিন দেশটিতে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ১৫ শতাংশ করে শুল্ক ছিল।
ওয়াশিংটনে স্থানীয় সময় বুধবার (২ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে উচ্চ মাত্রার এই শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর-রয়টার্স
বাংলাদেশের প্রধান দুই রপ্তানি বাজারের একটি যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের একটি বড় অংশ রপ্তানি হয় দেশটিতে। যুক্তরাষ্ট্রে বছরে বাংলাদেশের রপ্তানি হয় প্রায় ৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন (৮৪০ কোটি) ডলার, যা প্রধানত তৈরি পোশাক। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন (৭৩৪ কোটি) ডলারে। নতুন করে উচ্চ মাত্রায় এ শুল্ক আরোপে বাংলাদেশের রফতানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
অন্যান্য দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করেছে উল্লেখ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, অনেক ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধা আরও খারাপ অবস্থা তৈরি করেছে। এ সময় বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মেধাসত্ত চুরিসহ অন্যান্য বিধিনিষেধ আরোপের অভিযোগ করেন তিনি।