আন্তর্জাতিক
তিন বছরে সর্বনিম্নে ভুট্টার দাম

বৈদেশিক বাজারে চলতি বছরে চাহিদাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে ভুট্টার সরবরাহ। গত বছরের মজুদ বিপুল পরিমাণে থেকে যাওয়ায় এবার চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা কম। এর প্রভাবে বছরজুড়ে খাদ্যশস্যটির নিম্নমুখী চাপে থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।
এরই মধ্যে তিন বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে ভুট্টার দাম। বাড়তি সরবরাহ এবং কম দামের সুফল পাচ্ছেন পোলট্রিসহ ভারতের বেশকিছু ইন্ডাস্ট্রি। স্থানীয় বাজারে ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে সংশ্লিষ্টরা বর্তমানে আমদানির মাধ্যমেই শস্যটির চাহিদা পূরণকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে (সিবিওটি) ভুট্টার মার্চে সরবরাহ চুক্তি বিক্রি হচ্ছে বুশেলপ্রতি ৪ ডলার ৪৫ সেন্টে, যা তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ফিচ সলিউশনের গবেষণা ইউনিট বিএমআই জানায়, নিট উদ্বৃত্তে ফিরবে ভুট্টার বৈশ্বিক বাজার। ২০২৩-২৪ মৌসুমে (জুলাই-জুন) উদ্বৃত্তের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৪ কোটি ১ লাখ টনে। ২০২২-২৩ মৌসুমে যেখানে ১১ লাখ টনের ঘাটতি ছিল। বিপুল পরিমাণ মজুদের কারণে বাজারে শস্যটির দাম এখন নিম্নমুখী প্রবণতায়।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) এগ্রিকালচারাল মার্কেটিং ইনফরমেশন সিস্টেম সম্প্রতি ভুট্টার বৈশ্বিক উৎপাদন পূর্বাভাস বাড়িয়ে সংশোধন করেছে। এটি জানায়, এবার শস্যটির উৎপাদন ২০২৩ সালের তুলনায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করবে যুক্তরাষ্ট্র। ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইন কাউন্সিল (আইজিসি) জানায়, ভুট্টার পাশাপাশি এ বছর গম ও যবসহ সব ধরনের শস্য উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন কৃষি বিভাগও (ইউএসডিএ) ভুট্টার বৈশ্বিক উৎপাদন পূর্বাভাস বাড়িয়েছে। ওয়ার্ল্ড মার্কেট অ্যান্ড ট্রেড রিপোর্টে সংস্থাটি জানায়, শীর্ষ উৎপাদক ব্রাজিলে চলতি মৌসুমে ভুট্টার উৎপাদন কমতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত ও প্যারাগুয়েতে উৎপাদন ব্যাপক হারে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড ১ কোটি ৫৩ লাখ ৪০ হাজার বুশেল উৎপাদন হতে পারে।
সিবিওটিতে তালিকাভুক্ত ভুট্টার দ্বিতীয় মাসভিত্তিক ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিমূল্য পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রেখেছে বিএমআই। চলতি বছর প্রতি বুশেলের দাম ৫ ডলার এবং আগামী বছর সাড়ে ৪ ডলারে থাকবে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুট্টার দাম নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে বলেও জানিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি।
অন্যদিকে ইউএসডিএ ভুট্টার মূল্য পূর্বাভাস সংশোধন করে কমিয়েছে। সংস্থাটি মনে করছে চলতি মৌসুমে শস্যটির গড় বাজারদর থাকবে বুশেলপ্রতি ৪ ডলার ৮০ সেন্টে।
আইজিসি জানায়, বিশ্ববাজারে সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি শস্যটির সমাপনী মজুদও ৫০ লাখ টন বাড়ার সম্ভাবনা আছে। মজুদের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৫৯ কোটি টনে। বৈশ্বিক বাণিজ্য বাড়তে পারে ৫০ লাখ টন।
এগ্রিকালচারাল মার্কেটিং ইনফরমেশন সিস্টেম জানায়, ভুট্টার বৈশ্বিক ব্যবহার বৃদ্ধিতে বড় অবদান রাখবে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের পশুখাদ্য উৎপাদন খাত। তবে রাশিয়া এবং এশিয়া ও আফ্রিকার বেশকিছু দেশে ব্যবহার নিম্নমুখী থাকতে পারে।
কাফি
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আন্তর্জাতিক
ভারতে ওয়াকফ সংশোধনী বিল পাস, বোর্ডে থাকবেন অমুসলিম সদস্য

ভারতের রাজ্যসভাতেও পাস হয়ে গেল ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল। বুধবার বিলটি লোকসভায় পাস হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংসদের উচ্চকক্ষেও তা পাস হয়ে যাওয়ায় বিলটির আইনে পরিণত হতে এখন শুধু রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সই করার অপেক্ষা।
১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা বিতর্কের পর ভোটাভুটি শেষে বৃহস্পতি বার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায় বিলের পক্ষে পড়েছে ১২৮টি ভোট। আর বিপক্ষে পড়েছে ৯৫টি ভোট। ৩৩ ভোটের ব্যবধানে ওয়াকফ বিল রাজ্যসভায় পাস হয়ে যায়।
নতুন আইনে ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিম সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সংসদীয় বিষয়ক এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর বলেন, ওয়াকফ বোর্ড একটি বিধিবদ্ধ সংস্থা। একটি বিধিবদ্ধ সংস্থায় শুধু মুসলিমরা থাকবেন, আর কেউ থাকতে পারবেন না, এটা কী ভাবে হবে? বিধিবদ্ধ সংস্থাকে ধর্মনিরপেক্ষ হতে হবে এবং সব ধর্মের প্রতিনিধিত্ব সেখানে থাকা উচিত। তিনি জানান, ২২ সদস্যের বোর্ডে সর্বোচ্চ চারজন অমুসলিম সদস্য থাকতে পারবেন।
ভারতীয় সংসদের বিরোধী দল গুলোর দাবি, ওয়াকফ আইনের এই সংশোধন ওয়াকফ বোর্ডের ক্ষমতাকে বেনজির ভাবে খর্ব করে দিচ্ছে। তবে রিজিজুর দাবি ওয়াকফ সম্পত্তির অন্যতম লক্ষ্য হল সেই সম্পত্তির মাধ্যমে মুসলিম সমাজের গরিব, মহিলা ও অনাথ শিশুদের উন্নয়ন। নতুন আইনে বিপুল রাজস্ব আদায় হবে বলেও রিজিজু সংসদে দাবি করেন। তার অভিযোগ, রাজস্ব সংগ্রহ করতে ‘ব্যর্থ’ হয়েছে ওয়াকফ বোর্ডগুলি। ২০০৬ সালে সাচার কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী দেশে ৪.৯ লক্ষ ওয়াকফ সম্পত্তি ছিল। এখান থেকে আয় হওয়া উচিত ছিল ১২ হাজার কোটি টাকা। হয়েছে মাত্র ১৬৩ কোটি টাকা।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
আন্তর্জাতিক
ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কের ঘোষণায় বিশ্ব পুঁজিবাজারে ধস

২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে আগেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অর্থাৎ বিশ্বের সব দেশের পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছেন তিনি।
স্বাভাবিকভাবেই পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে শোরগোল পড়ে গেছে। ধস নেমেছে এশিয়ার পুঁজিবাজারে। দেখা যাচ্ছে, প্রায় সব ধরনের বাজারেই প্রভাব পড়েছে। সোনার মূল্য বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রসহ চীন, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ভিয়েতনামের মতো দেশের পুঁজিবাজারে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে। ট্রাম্পের ঘোষণার আগের দিন চাঙা ছিল এশিয়ার পুঁজিবাজারগুলো। লাভের মুখ দেখেছিল যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার সূচক সেনসেক্স ও নিফটি। খবর দ্য গার্ডিয়ান ও রয়টার্স’র।
বৃহস্পতিবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ার সূচক দ্রুত নামতে শুরু করে। যদিও ডলারের তুলনায় জাপানের মুদ্রা ইয়েনের দর বেড়েছে।
ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার সূচক নাসডাক ফিউচার্সের পতন হয়েছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রযুক্তি খাতের বৃহৎ ৭টি প্রতিষ্ঠানের বাজার মূলধন কমেছে ৭৬০ বিলিয়ন বা ৭৬ হাজার কোটি ডলার। অ্যাপলের আইফোনের সিংহভাগ উৎপাদিত হয় চীনে। ফলে অ্যাপলের শেয়ারের দাম কমেছে সবচেয়ে বেশি বা ৭ শতাংশ।
এ ছাড়া এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার্স কমেছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ; এফটিএসই ফিউচার্স কমেছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ; ইউরোপিয়ান ফিউচার্স কমেছে প্রায় ২ শতাংশ।
সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, ট্রাম্পের ঘোষণার জেরে টোকিওর নিক্কেই (টোকিও স্টক এক্সচেঞ্জের স্টক মার্কেট সূচক) প্রাথমিকভাবে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমে যায়, যদিও পরে তা কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়। পতনের হার শেষমেশ ২ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়ায়। জাপানের পণ্যে ২৪ শতাংশ এবং আমেরিকার অন্যতম ‘বন্ধু’ দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে সে দেশের পুঁজিবাজারেও। হংকং ও সাংহাইয়ে একই প্রভাব পড়েছে। কোথাও পতনের হার ১ দশমিক ৫ শতাংশ, কোথাও আবার ১ দশমিক ৪ শতাংশ।
ট্রাম্পের ঘোষণায় বিশ্ববাজারে সোনার দামেও প্রভাব পড়েছে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, সোনার দাম আবারও নতুন রেকর্ড গড়েছে। আউন্স প্রতি ৩ হাজার ১৬০ ডলারে উঠে গেছে।
শুধু সোনা নয়, প্রভাব পড়েছে তেলের দামেও। অপরিশোধিত তেলের ব্র্যান্ড ব্রেন্ট ফিউচার্সের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭২ দশমিক ৫৬ ডলারে পৌঁছেছে।
গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বিকেল চারটায় (বাংলাদেশের দিবাগত রাত দুইটা) ‘পাল্টা’ বা ‘পারস্পরিক শুল্ক’ নিয়ে বিস্তারিত ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বাংলাদেশের পণ্যে ৩৭ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
আন্তর্জাতিক
দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন টিউলিপ

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতির সঙ্গে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ছাড়া টিউলিপ ব্যক্তিগতভাবেও আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়েছেন বলে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। সেসব দুর্নীতি মামলা মোকাবিলায় তার আইনজীবীরা প্রস্তুত, তিনি নিজেই এ ঘোষণা দিয়েছেন। দুর্নীতির অভিযোগে ব্রিটিশ মন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করার পর এটি তার প্রথম প্রকাশ্য মন্তব্য।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে টিউলিপ সিদ্দিক জানান, তার আইনজীবীরা বাংলাদেশে দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ সম্পর্কে যেকোনো আনুষ্ঠানিক প্রশ্নের জবাব দিতে প্রস্তুত। বুধবার (২ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমটি।
টিউলিপ সিদ্দিক বলেন, ‘কয়েক মাস ধরে অভিযোগ আসছে এবং কেউ আমার সাথে যোগাযোগ করেনি।’
আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দলের সাথে তার স্পষ্ট সংশ্লিষ্টতার জন্য তিনি অনুতপ্ত কিনা জানতে চাইলে টিউলিপ বলেন, ‘আপনি আমার আইনি চিঠিটি কেন দেখেন না? সেখানে আমার কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আছে কি না… বাংলাদেশী কর্তৃপক্ষ একবারও আমার সাথে যোগাযোগ করেনি। আমি তাদের কাছ থেকে শোনার জন্য অপেক্ষা করছি।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক। শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের দুর্নীতির সঙ্গে তার জড়িত থাকার প্রমাণ সামনে আসে। এতে দলের ভেতরে বাইরে চাপে পড়েন টিউলিপ। শেষমেশ বাধ্য হয়ে লেবার মন্ত্রিসভার ইকোনমিক সেক্রেটারি টু দি ট্রেজারি অ্যান্ড সিটি মিনিস্টারের পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।
ওই পদে তার কাজ ছিল যুক্তরাজ্যের অর্থবাজারের ভেতরের দুর্নীতি সামাল দেওয়া। কিন্তু মন্ত্রী নিজেই দুর্নীতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশ-বিদেশে কোণঠাসা হয়ে পড়েন টিউলিপ; পদত্যাগের পরও এর প্রভাব বিদ্যমান। সে সঙ্গে শেখ পরিবারের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসতে থাকে। সেসব তদন্তে নামে দুদক। প্রাথমিকভাবে যার প্রায় সব কটিরই বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পায় সংস্থাটি। এখনও তদন্ত চলমান।
প্রসঙ্গত, নিজেকে নির্দোষ দাবি করে প্রচার চালাচ্ছেন ব্রিটেনের সাবেক মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক। দেশটির ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ এ কাজ চাতুরতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে নিয়োগ করেছেন আইনজীবী। সেই আইনজীবীদের তরফে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদককে) একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এমন তথ্য মার্চের শেষ দিকেই জানিয়েছিল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। এবার আইনজীবী নিয়োগের বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করলেন টিউলিপ।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ ছাড়াও যেসব দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করলেন ট্রাম্প

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বুধবার বিকেল ৪টায় হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন করে শুল্ক ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের পাল্টা এই শুল্ক আরোপে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ভারতের পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ আর পাকিস্তানের পণ্যের ওপর ২৯ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছে ৩৪ শতাংশ।
এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের পণ্যের ওপর ৪৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার পণ্যে ৪৪ শতাংশ, তাইওয়ানের পণ্যে ৩২ শতাংশ, জাপানের পণ্যে ২৪ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে ২৫ শতাংশ, থাইল্যান্ডের পণ্যে ৩৬ শতাংশ, সুইজারল্যান্ডের পণ্যে ৩১ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার পণ্যে ৩২ শতাংশ, মালয়েশিয়ার পণ্যে ২৪ শতাংশ, কম্বোডিয়ার পণ্যে ৪৯ শতাংশ, যুক্তরাজ্যের পণ্যে ১০ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকার পণ্যে ৩০ শতাংশ, ব্রাজিলের পণ্যে ১০ শতাংশ, সিঙ্গাপুরের পণ্যে ১০ শতাংশ, ইসরায়েলের পণ্যে ১৭ শতাংশ, ফিলিপাইনের পণ্যে ১৭ শতাংশ, চিলির পণ্যে ১০ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ, তুরস্কের পণ্যে ১০ শতাংশ, কলম্বিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ আরোপ করা হয়েছে।
অন্যান্য যেসব দেশের পণ্যের ওপর বেশি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে মিয়ানমারের পণ্যে ৪৪ শতাংশ, লাওসের পণ্যে ৪৮ শতাংশ এবং মাদাগাস্কারের পণ্যের ওপর ৪৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যেসব দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, তা কার্যকর করা হবে আগামী ৫ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রাত ১২ টা ১ মিনিট থেকে। আর যেসব দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশের বেশি শুল্ক ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প, সেই নতুন শুল্ক কার্যকর হবে আগামী ৯ এপ্রিল মার্কিন স্থানীয় সময় রাত ১২ টা ১ মিনিট থেকে।
কী কারণে এই সিদ্ধান্ত নিলেন ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, অন্যান্য দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বাজেভাবে’ ব্যবহার করেছে এবং আমেরিকান পণ্যের ওপর অসম শুল্ক আরোপ করেছে। এটিকে তিনি ‘প্রতারণার’ সঙ্গে তুলনা করেছেন।
অন্যান্য দেশ অসম শুল্ক আরোপ করার কারণে যুক্তরাষ্ট্রও তাদের ওপর এই পাল্টা শুল্ক আরোপ করছে। তবে, ট্রাম্প বলছেন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক অন্যদের আরোপিত শুল্কের ‘প্রায় অর্ধেক’।
“সুতরাং, সেই হিসাবে পুরোপুরি পাল্টা শুল্ক হচ্ছে না। তবে হ্যাঁ, আমি তা করতে পারতাম। কিন্তু এটি করলে অনেক দেশের জন্য কঠিন হয়ে যেত। আমি তা করতে চাইনি,” বলেন ট্রাম্প।
তিনি তার বক্তব্যে বারবার উল্লেখ করেন যে এটি যুক্তরাষ্ট্রের “মুক্তির দিন”। এই দিনটির জন্য যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছিলো বলেও জানান। তিনি যোগ করেন যে, আজকের দিনটি আমেরিকান শিল্পের “পুনর্জন্মের” দিন এবং আজ আমেরিকা “পুনরায় সম্পদশালী” হলো।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক পরিকল্পনা ঘোষণার পর বাড়ল স্বর্ণের দাম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনা ঘোষণার অল্পকিছুক্ষণের মধ্যেই বিশ্ববাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। প্রতি আউন্স (২৮ দশমিক ৩৫ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পৌঁছেছে ৩ হাজার ১২৯ দশমিক ৪৬ ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৮৯৯ দশমিক ৩৩ টাকা), যা আগের চেয়ে দশমিক ৬ শতংশ বেশি। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে রয়টার্স।
গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার দিকে ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন শুল্ক পরিকল্পনা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। সেই ঘোষণায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানিকারী সব দেশের ওপর রপ্তানিশুল্ক আরোপ করেছে তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসন। দেশভেদে এই শুল্কের হার সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ (বেইসলাইন ট্যারিফ) থেকে সর্বোচ্চ ৪৬ শতাংশ।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প এই ঘোষণা দেওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স (২৮ দশমিক ৩৫ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পৌঁছেছে ৩ হাজার ১২৯ দশমিক ৪৬ ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৮৯৯ দশমিক ৩৩ টাকা), যা আগের চেয়ে দশমিক ৬ শতংশ বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী স্বর্ণ ব্যবসায়ী তাই উওং রয়টার্সকে এ প্রসঙ্গে বলেন, “নতুন এই শুল্প পরিকাল্পনা আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি আগ্রাসী। এই পরিকল্পনা কার্যকর করা হলে ভবিষ্যতে একদিকে বাজারে স্বর্ণের বিক্রি বাড়বে, অন্যদিকে ডলারের মান কমবে।”
তাই উওং আরও বলেন, সামনের দিনগুলোতে স্বর্ণের দাম আরও বাড়তে থাকবে এবং শিগগিরই বর্ধিত এই দাম গিয়ে ঠেকবে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ২০০ ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৩৯৪ দশমিক ৮৮ টাকা)।
“এখানে প্রচুর প্রশ্ন রয়েছে, যেগুলোর উত্তর এখনও মেলেনি এবং আমার মনে হয় এই নতুন শুল্ক পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক কিছু নিয়ে আলোচনা শুরু করা যেতে পারে। যদি তা না হয়, তাহলে স্বল্প সময়ের জন্য হলেও বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা রয়েছে,” রয়টার্সকে বলেন তাই উওং।
প্রসঙ্গত, ডলারের মান বারবার ওঠানামা করার কারণে করোনা মহামারির পর থেকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদা বাড়তে থাকে। এই বাজারের সবচেয়ে বড় ক্রেতা বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে অনেক বিনিয়োগকারীও বর্তমানে বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে ডলারের পরিবর্তে স্বর্ণের ব্যবহার করছেন। সূত্র: রয়টার্স, এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড।
কাফি