লাইফস্টাইল
ইসলামে যেসব প্রাণীর গোশত খাওয়া হালাল ও হারাম

আল্লাহ তাআলা মানুষের জন্য যেসব পশু-প্রাণী ও পাখির গোশতে কল্যাণ ও উপকার রেখেছেন, তাই বান্দার জন্য হালাল করেছেন। তাই পবিত্র, স্বাস্থ্যসম্মত ও উপকারি সবধরনের খাবার গ্রহণে ইসলাম উৎসাহ দিয়েছে। যেসব খাবার অপবিত্র ও অবৈধ তা ইসলাম নিষিদ্ধ করেছে। এ কারণে সব পশু-প্রাণী বা পাখির গোশ্ত খাওয়া ইসলামে বৈধ নয়। কোরআন ও হাদিসের আলোকে মাছ ছাড়া অন্য কোন জলজ প্রাণী খাওয়া হারাম।
একনজরে গোশত নিয়ে ইসলামের বিধি-নিষেধ
১. কিছু কিছু প্রাণী যেমন শুকর, গৃহপালিত গাধা, মৃত প্রাণীর গোশত, প্রাণীর রক্ত ইত্যাদিকে সরাসরি কোরআন ও হাদিসে নিষেধ করা হয়েছে। সুরা মায়েদা-এর ৫৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘মৃত প্রাণীর গোশত, রক্ত এবং শুকরের গোশত তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে’।
২. মাছ ব্যাতীত সকল জলজ প্রাণী খাওয়া হারাম। প্রাকৃতিকভাবে মারা যাওয়া মাছ খাওয়াও হারাম। তবে বাহ্যিক কারণ যেমন ঠাণ্ডা, গরম, পাথরের আঘাত ও পানির ঝাপটায় মারা যাওয়া মাছ খাওয়া হালাল।
৩. যেসব স্থলচর প্রাণীর রক্ত নেই বা রক্ত সাদা সেসব প্রাণী যেমন ভিমরুল, মাছি, মকড়সা, গোবরে পোকা, বিষ্ণু, পিঁপড়া ইত্যাদি খাওয়া হারাম। ‘তিনি (আল্লাহ্ তায়ালা) তাদের (মানুষের) জন্যে পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করে দিয়েছেন এবং অপবিত্র ও খারাপ বস্তুকে তাদের জন্য হারাম করে দিয়েছেন। সুরা আরাফ, আয়াত নম্বর ১৫৭।
৪. যেসব প্রাণীর রক্ত প্রবাহিত হয় না (শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী) যেমন সাপ, গিরগিটি, টিকটিকি, রক্তচোষা, গুইসাপ ইত্যাদি খাওয়া হারাম।
৫. ইঁদুর এবং ইঁদুর জাতীয় প্রাণী ভক্ষণ করা হারাম। কারণ এগুলোর মাংস মানুষের জন্য ক্ষতিকর।
৬. যেসব উষ্ণরক্তবিশিষ্ট স্থলচর তৃণভোজী প্রাণী (যারা ঘাস, লতাপাতা খেয়ে বেঁচে থাকে), অন্য প্রাণী শিকার করে না, সেসব প্রাণীর গোশত খাওয়া হালাল। যেমন- উট, গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ, হরিণ, খরগোশ ইত্যাদি। এছাড়াও হানাফি মাজহাব অনুসারে ঘোড়ার গোশত খাওয়া কিছু কিছু ক্ষেত্রে হালাল। তবে এসবের মধ্যে গৃহপালিত গাধা অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ, গৃহপালিত গাধার মাংস হারাম। তবে কারো কারো মতে বন্য গাধার গোশত খাওয়া হালাল।
সুরা নাহ্ল-এর ৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তিনি (আল্লাহ) চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন: তোমাদের জন্যে এতে শীত নিবারক উপকরণ ও বহুবিধ উপকার রয়েছে এবং এসব থেকে তোমরা আহার্য পেয়ে থাক। সুরা মুমিনের ৭৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহই তোমাদের জন্যে চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন, এর মধ্যে কিছু জন্তুতে তোমরা আরোহণ করে থাকো এবং কিছু আহারও করে থাকো।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে হালাল মাংস রপ্তানি করতে চায় মেক্সিকো
ঘোড়ার মাংস ভক্ষণের ব্যপারে যতদূর জানা যায়, যেহেতু ঘোড়া যুদ্ধের (জিহাদ) কাজে ব্যবহৃত হয় সেহেতু এর সম্মানার্থে অনেকে খায় না। তবে ইমাম আবু ইউসুফ এবং ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) একে হালাল বলে মত দিয়েছেন। ঘোড়ার মাংস খাওয়া ক্ষেত্রবিশেষে হালাল হলেও পারতপক্ষে না খাওয়াই উত্তম।
সূরা নাহল-এর ৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের আরোহণের জন্যে ও শোভার জন্যে তিনি (আল্লাহ) ঘোড়া, খচ্ছর, গাধা সৃষ্টি করেছেন’। হজরত আবু তালাবা (রাযি.) বলেছেন, ‘হজরত মুহাম্মদ (সা.) গাধার মাংস খাওয়া থেকে নিষেধ করেছেন’।
৭. যেসব হিংস্র ও শিকারী প্রাণী দাঁত ও থাবা দ্বারা শিকার করে সেসব প্রাণী যেমন- সিংহ, চিতা, বাঘ, নেকড়ে, হায়েনা, শিয়াল, কুকুর, বিড়াল, ইত্যাদির মাংস খাওয়া হারাম।
৮. যেসব শিকারী পাখি থাবা বা নখর দিয়ে শিকার করে সেসব পাখি যেমন- ঈগল, চিল, শকুন, কাক, পেঁচা, বাঁজ পাখি ইত্যাদির মাংস ও ডিম খাওয়া হারাম। আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত, হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘সকল লম্বা ছেদন ও বিষদাঁতবিশিষ্ট শিকারী প্রাণী এবং থাবা বা লম্বা তীক্ষ্ন ঠোঁট ও নখরবিশিষ্ট শিকারী পাখির মাংস খাওয়া নিষেধ’। সহিহ মুসলিম শরিফ, ১৯৩৪।
৯. অন্যদিকে যেসব পাখি থাবা দিয়ে শিকার করে না, বরং শস্যদানা, ফসল ইত্যাদি খেয়ে জীবন ধারণ করে তাদের গোশত খাওয়া হালাল। যেমন- কবুতর, হাঁস, মুরগী, হুদহুদ, বক, সারস, চড়ুই, ঘুঘু, ময়ুর, তিতির, কোয়েল, রাজহাঁস, পানকৌড়ি ইত্যাদি।
১০. যদি কোনো পশু-পাখি পচা গলা খাবার খায় এবং তাদের মাংসে ও দুধে ঐ দুর্গন্ধ চলে আসে তবে তাদের মাংস ও দুধ খাওয়া মাকরুহ। কিন্তু পচা গলা খাবার খাওয়ার পরেও যদি ঐসব পশু-পাখির মাংস ও দুধ থেকে দুর্গন্ধ না আসে তাহলে তাদের মাংস ও দুধ খাওয়া হালাল। সূত্র : রাদ্দুল মুহ্তার, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৩৪০।
যেসব পশু পাখির মাংস হালাল
হালাল-হারাম সম্পর্কিত কোরআন ও হাদিসের আলোকে প্রণীত মূলনীতি অনুসারে যেসব পশু পাখির গোশত খাওয়া হালাল তা হলো- উট, ছাগল, ভেড়া, মহিষ, হরিণ, খরগোশ, গরু (বন্য গরুসহ), বন্য গাধা, হাঁস, মুরগী, তিতির, হুদহুদ, রাজহাঁস, বক, সারস, উটপাখি, ময়ুর, চড়ই, কোয়েল, ঘুঘু, কবুতর, পানকৌড়ী এবং মাছ (চিংড়িসহ), ইত্যাদি।
যেসব পশু পাখির মাংস হারাম
যেসব পশু-পাখির মাংস খাওয়া হারাম তা হলো- শুকর, হায়না, নেকড়ে কুকুর, বিড়াল, বানর, চিতা, সিংহ, বাঘ, জারবয়া, ভাল্লুক, সাপ, কাঠ বিড়ালী, কচ্ছপ, বেজী, শিয়াল, গৃহপালিত গাধা, হাতি। সূত্র : রাদ্দুল মুহ্তার, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৩০৬।
ইঁদুর, ব্যাঙ, গুইসাপ, গিরগিটি, শকুন, বাঁজ, চিল, বাদুর, ঈগল, পেঁচা, কীটপতঙ্গ যেমন- মশা, মাছি, বিচ্ছু, বোলতা, মাকড়সা এবং মাছ ব্যাতিত অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণী যেমন- অক্টোপাস, শামুক, ঝিনুক, হাঙ্গর, শীল, কুমির ইত্যাদি।
অর্থসংবাদ/এমআই
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

লাইফস্টাইল
হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায় যে ফল

বেল একটি পুষ্টিকর ও উপকারী ফল। কাঁচা ও পাকা উভয়ভাবেই বেল শরীরের জন্য উপকারী। পাকা বেলের শরবত সুস্বাদু এবং এটি একটি সুপারফুড হিসেবে পরিচিত। গ্রীষ্মকালে পাওয়া এই ফল শরীরকে ঠাণ্ডা রাখতে সহায়তা করে এবং তাপমাত্রা কমানোর কাজ করে।
বেলের বাইরের অংশ শক্ত হলেও এটির ভিতরের অংশ অত্যন্ত মিষ্টি। এর উপকারিতা সম্পর্কে জানুন।
শরীর ঠান্ডা রাখে বেল ফলের প্রাকৃতিক শীতল প্রভাব শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। এতে উপস্থিত পানি ডিহাইড্রেশন থেকেও রক্ষা করে।
পুষ্টিগুণে ভরপুর বেল ফল ভিটামিন সি, প্রোটিন, বিটা-ক্যারোটিন, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ফাইবার, থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, নিয়াসিনসহ অন্যান্য পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ।
হাড় মজবুত করে বেলের ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁতকে শক্তিশালী করে এবং অস্টিওপরোসিস প্রতিরোধে সহায়ক। এছাড়া ক্ষতজনিত রক্তক্ষরণ কমাতে সাহায্য করে।
কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি বেল ফলটি হজমের জন্য উপকারী এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। এটি অ্যাসিডিটি প্রতিরোধেও কার্যকর।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ বেলে উপস্থিত ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে। যা শরীরকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং শক্তির জোগান দেয়।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
লাইফস্টাইল
ভাত খেলেও বাড়বে না ওজন

ভাত বাঙালির প্রিয় খাবার। অনেকেই ওজন কমানোর জন্য ভাত খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেন। পুষ্টিবিদের মতে, সঠিক পদ্ধতিতে ভাত খেলে ওজনও বাড়বে না পাশাপাশি স্বাস্থ্যও থাকবে ভালো।
রান্নার পদ্ধতি
ভাত রান্নার সময় যদি শুধুমাত্র চাল ধুয়ে চুলায় বসানো হয়, তবে স্টার্চ বের হয় না।
কিন্তু যদি চাল আধা ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে, সেই পানি ফেলে নতুন পানিতে ভাত রান্না করা হয়, তাহলে প্রথমেই কিছু পরিমাণ স্টার্চ বের হয়ে যায়। এর ফলে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কমে যায়। প্রেশার কুকারে রান্না করা ভাত কম স্বাস্থ্যকর।
খাওয়ার পদ্ধতি
ভাতকে ডাল, ভাজি, তরকারি, সালাদ ইত্যাদির সঙ্গে মেশালে এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) কমে যায়।
কারণ এসব খাবারে প্রচুর ফাইবার ও প্রোটিন থাকে। শুধু লবণ দিয়ে ফ্যান-ভাত খেলে জিআই কমবে না।
খাওয়ার সময়
ভাত খাওয়ার সেরা সময় দুপুর। রাতে ভাত কম খাওয়াই ভালো।
কারণ রাতে শরীরের নড়াচড়া কম থাকে এবং কার্বোহাইড্রেটের বিপাক কম হয়। তবে সবচেয়ে ভালো সময় হলো জিম বা শরীরচর্চার পর ভাত খাওয়া। কারণ তখন শরীর আরো বেশি ক্যালোরি বার্ন করে।
কত পরিমাণ খেতে হবে
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে দিনে ৩০ গ্রাম চালের ভাত রান্না করা উচিত, যা এক কাপের সমান। এতে প্রায় ১৫০-১৭০ কিলোক্যালোরি থাকে।
ভাতের উপকারিতা
ভাত ভিটামিন বি, ফলিক অ্যাসিড ও ম্যাগনেশিয়ামের ভালো উৎস। এটি অন্ত্র ও ত্বকের জন্য উপকারী। বাজারে বিভিন্ন ধরনের চাল পাওয়া যায় অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে ভরপুর কালো চাল। বাদামি চাল যা ফাইবারে সমৃদ্ধ এবং লাল চাল যার প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এসব চাল ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে। ভাত খেতে হবে কিন্তু সঠিক পদ্ধতিতে, তবেই তা শরীরের জন্য উপকারী।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
লাইফস্টাইল
কাঁচা আম খাওয়ার উপকারিতা

কাঁচা আম গ্রীষ্মকালের একটি অতি জনপ্রিয় ফল। আমাদের শৈশবের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয় যখন আমরা এই টাটকা, রসালো ফলটিকে মরিচ ও লবণ দিয়ে খাই। কাঁচা আমের নাম শুনলেই মুখে পানি চলে আসে। কাঁচা আম যে শুধু মজার তাই নয়, বেশ পুষ্টি সমৃদ্ধও।
বাজারে এখন কাঁচা আম পাওয়া যাচ্ছে। দামও নাগালেই। তাই আজকে আমরা কাঁচা আমের উপকারিতা জেনে নিব।
শরীর শীতল রাখতে সহায়ক
গ্রীষ্মে গরমের তীব্রতা কমাতে এবং শরীরকে ঠান্ডা রাখতে কাঁচা আমের রস দারুণ কাজ করে।
এটি শরীরের প্রয়োজনীয় মিনারেল এবং সোডিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখে, যা ঘাম ঝরানোর ফলে হারিয়ে যায়। তাই এটি শরীরকে শীতল রাখতে সহায়ক।
হজম সমস্যা নিরাময়
কাঁচা আম হজম সমস্যা সমাধানে কার্যকরী। এটি হজম রসের উৎপাদন বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য, অজীর্ণতা, অ্যাসিডিটি, গ্যাস্ট্রিক এবং বমি বমি ভাবের মতো সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
হৃদরোগ প্রতিরোধে সহায়ক
কাঁচা আমে থাকা বিটা-ক্যারোটিন এবং ফাইবার হৃদরোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি কোলেস্টেরল কমাতে, রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।
যকৃৎ (লিভার) স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী
কাঁচা আম যকৃৎ পরিষ্কার করতে সহায়ক এবং এটি তেল শোষণের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এটি গোপন বাইল অ্যাসিডের স্রাব বৃদ্ধিতে সহায়তা করে যা টক্সিন পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।
মুখের স্বাস্থ্য
কাঁচা আম মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কার্যকর।
এটি দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়া কমাতে এবং দাঁতের ক্ষয় প্রতিরোধে সহায়ক। পাশাপাশি খাওয়া থেকে দুর্গন্ধ দূর করতেও সাহায্য করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
কাঁচা আমে প্রচুর ভিটামিন সি ও এ থাকে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়ক। এটি ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যও উন্নত করে এবং শরীরকে নানা ধরণের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
অতিরিক্ত খাওয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পরিমিত পরিমাণে কাঁচা আম বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উপকারী। তবে বেশি পরিমাণে কাঁচা আম খেলে বদহজম, পেটে ব্যথা, আমাশয় এবং গলা জ্বালা হতে পারে। মনে রাখবেন, কাঁচা আম খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা পানি পান করবেন না কারণ এটি জ্বালা বাড়ায়।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
লাইফস্টাইল
গরমে খেজুর খাওয়া কি উপকারী?

খেজুরকে বলা হয় প্রাকৃতিক মিষ্টি। এর সুস্বাদু স্বাদের পাশাপাশি, খেজুর প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থে ভরপুর যা একাধিক স্বাস্থ্য উপকারিতা দেয়। তবে অনেকে মনে করে যে খেজুর শীতের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত, তাদের ধারণা এটি তাপ উৎপন্ন করে এবং শরীরকে উষ্ণ করে। কিন্তু এটা কি সত্য?
খেজুর কি শরীরের ওপর উষ্ণতার প্রভাব ফেলে?
আসলে তা নয়। খেজুর আসলে প্রকৃতিতে শীতল, যা গ্রীষ্মের খাবারের জন্য এটি একটি দুর্দান্ত সংযোজন। এটি ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, কপার, আয়রন, ভিটামিন বি৬ এবং ফলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ, যা সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন ছাড়াই পুষ্টির বৃদ্ধি করে। খেজুর খাওয়ার পরে যদি কেউ উষ্ণতা অনুভব করে তা এর শুষ্ক, ডিহাইড্রেটেড প্রকৃতির কারণে।
খেজুর খাওয়ার পরে ডিহাইড্রেশন কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন
খেজুর খাওয়ার পরে যদি আপনি তৃষ্ণার্ত বা ডিহাইড্রেশন অনুভব করেন, তাহলে মাখনের সঙ্গে এটি মিশিয়ে খেতে পারেন। খেজুর কেটে সামান্য মাখন যোগ করে খাবেন। এই মিশ্রণটি বাত এবং পিত্তের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা অতিরিক্ত রক্তপাত, অর্শ এবং তৃষ্ণার মতো সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
গরমে খেজুর খাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় কী?
মাল্টার রসের সঙ্গে খেজুর খেতে পারেন। মাল্টার ভিটামিন সি এবং খেজুরের আয়রনের মিশ্রণ পুষ্টির শোষণ বাড়াতে কাজ করবে। উষ্ণ আবহাওয়ায় খেজুর উপভোগ করার আরেকটি উপায় হলো কয়েক ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে সকালে প্রথমে খাওয়া।
খেজুরের প্রাকৃতিক মিষ্টিতার কারণে এটি দিয়ে সহজেই শেক তৈরি করা যায়। স্বাস্থ্যকর, চিনি-মুক্ত পানীয় তৈরি করতে আপনার প্রিয় ফলের সঙ্গে মিশিয়ে খেজুরের শেক তৈরি করে খান। এতে গরমে পানিশূন্যতাও অনেকটা দূর হবে।
খেজুর কেক, রুটি, কুকিজ এবং পাইতে প্রাকৃতিক মিষ্টি যোগ করে। বেক করার আগে এগুলো কেটে নিন এবং আপনার ব্যাটারে মিশিয়ে নিন। এতে খেতে যেমন সুস্বাদু হবে তেমনই বাড়তি পুষ্টিও যোগ হবে।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
লাইফস্টাইল
অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তি পাওয়ার ঘরোয়া উপায়

গ্রীষ্মকাল মানেই আম, আইসক্রিম এবং সতেজ পানীয়। তবে এটি এমন একটি ঋতু যখন অ্যাসিডিটির সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। অসহ্য তাপ, একাধিক কাপ চা এবং লোভনীয় মসলাদার খাবার আপনার বুকে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। গরম আবহাওয়ায় অ্যাসিডিটি বেড়ে যায়। কারণ ডিহাইড্রেশন, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং ভারী খাবার হজমের ওপর প্রভাব ফেলে। অ্যান্টাসিড দ্রুত উপশম দিতে পারে, তবে এটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধান নয়। অ্যাসিডিটি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে-
১. ঘন ঘন খাবার খান
সারাদিন ছোট অংশে ঘন ঘন খাবার খেলে তা অ্যাসিডিটি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। এই অভ্যাস অতিরিক্ত পেটের অ্যাসিড উৎপাদন রোধ করে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার সম্ভাবনা কমায়, যা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের কারণ হতে পারে।
২. ভাজা খাবার এড়িয়ে চলুন
ভাজা খাবার হজমের ওপর ভারী প্রভাব ফেলতে পারে এবং অ্যাসিড রিফ্লাক্সের ঝুঁকি বাড়ায়। এ ধরনের খাবার এড়িয়ে চললে অস্বস্তি রোধ করা যায়, এতে খাবারের পরে পেট ফাঁপা কম হয়।
৩. মসলাদার খাবার সীমিত করুন
যদি ঘন ঘন অ্যাসিডিটি হয় তাহলে মসলাদার খাবার খাওয়া কমাতে হবে। বিশেষজ্ঞের মতে, মসলাদার খাবার পেটের আস্তরণ এবং খাদ্যনালীতে জ্বালাপোড়া করতে পারে, যা উভয়ই অ্যাসিডিটিতে অবদান রাখে। খাদ্যতালিকা থেকে এ ধরনের খাবার বাদ দিলে এই সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে।
৪. খাবারের পরে সোজা থাকুন
খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়লে অ্যাসিডটি আরও বেড়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা খাওয়ার পর সোজা থাকার পরামর্শ দেন যাতে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি পেটের অ্যাসিডকে সঠিক স্থানে রাখতে পারে, যা অ্যাসিডিটির সম্ভাবনা হ্রাস করে।
৫. ৮০ শতাংশ পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত খান
অতিরিক্ত খাওয়ার পরিবর্তে, ৮০ শতাংশ পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত খাওয়ার চেষ্টা করুন। এই অভ্যাস গ্যাস্ট্রিকের চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং অ্যাসিডটি কমায়।
৬. খাবারের পরপরই পানি পান করা এড়িয়ে চলুন
খাওয়ার পরপরই পানি পান করলে পাকস্থলীর অ্যাসিড পাতলা হতে পারে, যা হজমে প্রভাব ফেলে। পানি পান করার আগে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলে তা সঠিক হজমের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যাসিড ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।