জাতীয়
এক নজরে গত ১১টি সংসদ নির্বাচন

আজ ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। নওগাঁ-২ ও গাইবান্ধা-৫ আসনের নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে ৩শ’ আসনের মধ্যে ২৯৮ আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে আজ। এতে দেশের ৪৪টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ২৮টি দল অংশ নিচ্ছে। নির্বাচন বর্জন করছে বিএনপিসহ ১৬টি নিবন্ধিত দল।
দেশে এর আগে ১১টি সংসদ নির্বাচন হয়েছে। এসব নির্বাচনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ পাঁচ বার, বিএনপি চার বার ও জাতীয় পার্টি দুই বার জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগ প্রথম, সপ্তম, নবম, দশম ও চলতি একাদশ সংসদ নির্বাচনে; বিএনপি দ্বিতীয়, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও অষ্টম সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে। জাতীয় পার্টি তৃতীয় ও চতুর্থ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়।
সংসদের মেয়াদ পাঁচ বছর হলেও রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ নানা কারণে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও ষষ্ঠ সংসদ মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেনি। অপরদিকে পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম ও চলতি একাদশ সংসদ তার মেয়াদকাল পূরণ করে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোর মধ্যে ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়ে। সর্বোচ্চ ৮৭ শতাংশ ভোট পড়ে এ নির্বাচনে। অন্যদিকে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে কম ভোট পড়ে। এ নির্বাচনে ২৬.৫ শতাংশ ভোট পড়ে।
প্রথম সংসদ নির্বাচন
১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ স্বাধীন দেশে সর্বপ্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৩টি আসন পেয়ে জয়ী হয় আওয়ামী লীগ। ১৪টি রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশ নেয়। বিরোধীদের মধ্যে জাতীয় লীগ ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) একজন করে এবং স্বতন্ত্র পাঁচ জন প্রার্থী বিজয়ী হন। এ নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫৫.৬১ শতাংশ। এ সংসদের মেয়াদ ছিল দুই বছর ছয় মাস।
দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন
১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২৯টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫১.২৯ শতাংশ। এতে বিএনপি ২০৭টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। অন্য দলগুলো পায় ৭৭টি আসন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ (মালেক) ৩৯টি, জাতীয় লীগ দুটি, আওয়ামী লীগ (মিজান) দুটি, জাসদ আটটি, মুসলিম ও ডেমোক্রেটিক লীগ ২০টি, ন্যাপ একটি, বাংলাদেশ গণফ্রন্ট দুটি, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল একটি, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দল একটি ও জাতীয় একতা পার্টি একটি আসন হয়। নির্বাচিত বাকি ১৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এ সংসদের মেয়াদ ছিল তিন বছর।
তৃতীয় সংসদ নির্বাচন
১৯৮৬ সালের ৭ মে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ১৫৩টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। ভোটের হার ছিল ৬৬.৩১ শতাংশ। বিএনপি এ নির্বাচন বর্জন করে। অংশ নেয় মোট ২৮টি রাজনৈতিক দল। জাতীয় পার্টি বাদে অন্য দলগুলো পায় ১১৫ আসন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ৭৬টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) পাঁচটি, ন্যাপ (মোজাফফর) দুটি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি পাঁচটি, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) তিনটি, জাসদ (রব) চারটি, জাসদ (সিরাজ) তিনটি, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ ১০টি, মুসলিম লীগ চারটি ও ওয়ার্কার্স পার্টি তিনটি আসন পায়। বাকি ৩২ আসনে নির্বাচিত হন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এ সংসদের মেয়াদ ছিল ১৭ মাস।
চতুর্থ সংসদ নির্বাচন
১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এ নির্বাচন বর্জন করে। নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫১.৮১ শতাংশ। জাতীয় পার্টি ২৫১টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। নির্বাচনে আটটি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। ১৯টি আসন পেয়ে সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসেন সম্মিলিত বিরোধী দল (কপ)। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৫টি, জাসদ (সিরাজ) তিনটি ও ফ্রিডম পার্টি দুটি আসন লাভ করে। এ সংসদের মেয়াদ ছিল দুই বছর সাত মাস।
পঞ্চম সংসদ নির্বাচন
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ ৭৫টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। এই নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫৫.৪৫ শতাংশ। এ নির্বাচনে বিএনপি ১৪০টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। আওয়ামী লীগ ৮৮টি, জাতীয় পার্টি ৩৫টি, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) পাঁচটি, জাসদ (সিরাজ) একটি, ইসলামী ঐক্যজোট একটি, জামায়াতে ইসলামী ১৮টি, সিপিবি পাঁচটি, ওয়ার্কার্স পার্টি একটি, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) একটি, গণতন্ত্রী পার্টি একটি ও ন্যাপ (মোজাফফর) একটি আসন পায়। স্বতন্ত্র প্রার্থী তিনটি আসনে জয়লাভ করেন। সংসদের মেয়াদ ছিল চার বছর আট মাস।
ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দলীয় সরকারের অধীনে হওয়া এ নির্বাচন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামীসহ অনেকগুলো দল বর্জন করে। ৪১টি রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশ নেয়। বিএনপি ২৭৮টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। এর মধ্যে ৪৯টি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। নির্বাচনে ফ্রিডম পার্টি একটি আসন পায়। বাকি ১০ আসনে জয়লাভ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এছাড়া ১০টি আসনে ফলাফল অসমাপ্ত ছিল এবং একটি আসনের নির্বাচন আদালতের আদেশে স্থগিত করা হয়। এ নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ২৬.৫৪ শতাংশ। এ সংসদের মেয়াদ ছিল মাত্র ১১ দিন।
সপ্তম সংসদ নির্বাচন
১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪৬টি আসনে জয়লাভ করে। নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৭৪.৯৬ শতাংশ। এটি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ৮১ রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। অন্য দলগুলোর মধ্যে বিএনপি ১১৬টি, জাতীয় পার্টি ৩২টি, জামায়াতে ইসলামী তিনটি, ইসলামী ঐক্যজোট একটি ও জাসদ একটি আসন পায়। স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করেন একটি আসনে। সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর।
অষ্টম সংসদ নির্বাচন
২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপি ১৯৩টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে। ৫৪টি রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশ নেয়। বিএনপি বাদে অন্য দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ ৬২টি, জামায়াতে ইসলামী ১৭টি, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ১৪টি, জাতীয় পার্টি (না-ফি) চারটি, জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) একটি, ইসলামিক ঐক্যজোট দুটি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ একটি আসন পায়। বাকি ছয় আসনে জয়লাভ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর। নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৭৫.৫৯ শতাংশ।
নবম সংসদ নির্বাচন
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এটি সর্বশেষ ভোট। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩০টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন পদ্ধতি চালু হওয়ার পর এটি প্রথম ভোট। এতে ৩৮ টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য দলগুলোর মধ্যে বিএনপি ৩০টি, জাতীয় পার্টি ২৭টি, জাসদ তিনটি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি দুটি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) একটি, জামায়াতে ইসলামী দুটি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) একটি আসন পায়। স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয় চার আসনে। নির্বাচনে ভোট পড়ে ৮৭.১৩ শতাংশ।
দশম সংসদ নির্বাচন
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পায় আওয়ামী লীগ ও এর শরিক দলগুলো। ফলে ১৪৭টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়। বিএনপি ও এর নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচন বর্জন করে। এ নির্বাচনে মোট ১২টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। আওয়ামী লীগ একাই ২৩৪টি আসন পায়। জাতীয় পার্টি ৩৪টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ৬টি, জাসদ (ইনু) ৫টি, তরীকত ফেডারেশন ২টি, জাতীয় পার্টি (জেপি) ২টি, বিএনএফ ১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৬টি আসনে জয়লাভ করে। নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৪০.০৪ শতাংশ।
একাদশ সংসদ নির্বাচন
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৩৯টি নিবন্ধিত দলের সবাই অংশ নেয়। মোট প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৮৬৫ জন। এ নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৮০.২০ শতাংশ। আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৫৮টি আসন পায়। জাতীয় পার্টি ২২টি এবং মহাজোটভুক্ত অন্য দলগুলো ৮টি আসনে জয়ী হয়। অপরদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টভুক্ত বিএনপি ৬টি, গণফোরাম ২টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৩টি আসনে জয়ী হন।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

জাতীয়
পরিবর্তন আনতে চাইলে পদ্ধতি বদলাতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

নতুন সভ্যতা গড়তে চাইলে চাকরির পেছেনে না ঘুরে তরুণদের উদ্যোক্তা হতে হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, পরিবর্তন আনতে চাইলে পদ্ধতি বদলাতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) ব্যাংককের স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় বিমসটেক ইয়ং জেন ফোরামে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে স্থানীয় সময় বেলা ১২টার দিকে ব্যাংককে পৌঁছান প্রধান উপদেষ্টা। বিমানবন্দরে থাইল্যান্ডের মন্ত্রী জিরাপর্ন সিন্ধুপ্রাই তাকে অভ্যর্থনা জানান।
এর আগে সকাল ৯টায় বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ব্যাংককের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন ড. ইউনূস।
সকালে বিমসটেকের মন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন অংশ নিয়েছেন। ইতোমধ্যে ‘মেরিটাইম ট্রান্সপোর্ট সহযোগিতা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়েছে, যাতে বিমসটেকের সাত সদস্য রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা স্বাক্ষর করেছেন।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
জাতীয়
চাঁদাবাজদের ছাড় দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

চাঁদাবাজি বন্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বারাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
তিনি বলেন, কোনো চাঁদাবাজদের ছাড় দেওয়া হবে না। সে যতবড় টাই-স্যুট পড়া হোক না কেন। পাশাপাশি পাহাড় এবং সমতল সর্বত্রই অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) বিজিবির বাঘাইহাট ব্যাটালিয়ন এবং সাজেকে অগ্নিদুর্গত এলাকা পরিদর্শন শেষে দুপুরে বিজিবি রাঙামাটি সেক্টর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বারাষ্ট্র উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশের অনেক জায়গায় থানা লুট হয়েছে। লুট হওয়া সব হাতিয়ার এখনো আমাদের উদ্ধার হয়নি। এই হাতিয়ারগুলো উদ্ধার হয়ে গেলে সমস্যা সমাধান হয়ে যেত।
স্বারাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে বাহিনীগুলোর লজিস্টিক সাপোর্ট এবং স্ট্রেংথ আরও বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। পাহাড়ে যাতে কোনো প্রকার চাঁদাবাজি না হয় এজন্য আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। পাশাপাশি আমাদের পার্বত্য উপদেষ্টা মহোদয়ও এই ব্যাপারে সজাগ আছেন এবং চেষ্টা করছেন।
ভারতীয় মিডিয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, মিথ্যে বলার জন্য পুরো বিশ্বে তারা চ্যাম্পিয়ন। ওদের কয়েকটি মিডিয়া আছে শুধু গুজব ছড়ানোর জন্য। আমাদের দেশের মিডিয়া যদি সত্য সংবাদটি প্রচার করে তাহলে দেশ এবং সরকারের জন্য ভালো । আমি অনুরোধ করবো আমাদের দেশের মিডিয়া সঠিক ও সত্য সংবাদ প্রকাশ করে এই গুজবকে প্রতিহত করবে।
সাজেকে একটি ফায়ার স্টেশন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান স্বারাষ্ট্র উপদেষ্টা ।
সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাহিদ কামাল, রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ, পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেনসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
জাতীয়
বিমসটেক সমুদ্র পরিবহন সহযোগিতা চুক্তি সই

বঙ্গোপসাগরীয় সাত দেশের জোটের মধ্যে সামুদ্রিক পরিবহনে সহায়তার লক্ষ্যে বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক) জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একটি চুক্তিতে সই করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সকালে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি হোটেলে বিমসটেক মন্ত্রী পর্যায়ের ২০তম বৈঠকের আগে জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এ চুক্তি সই করেন।
পরে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বিমসটেক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন। এ সময় তিনি তার বক্তব্যে একটি অভিন্ন বিমসটেক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে সম্মিলিত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন।
একইসঙ্গে আন্ত-আঞ্চলিক বাণিজ্য বৃদ্ধির মাধ্যমে বিমসটেক মুক্তবাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) কার্যকর বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বাস্তব ও ফলাফলমুখী সহযোগিতার ওপরও জোর দেন তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখ রোহিঙ্গার বিষয়টি উত্থাপন করেন তৌহিদ হোসেন। পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে জোর করে বাস্তুচ্যুত এসব নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) অধিকার ও নিরাপত্তার সঙ্গে তাদের ভূমিতে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য মিয়ানমারের অনুকূল পরিবেশ তৈরির কথাও বলেন তিনি।
এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বিমসটেক সমুদ্র পরিবহন সহযোগিতা চুক্তি আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
জাতীয়
বনশ্রীতে নারী সাংবাদিককে হেনস্তা, গ্রেপ্তার ৩

ঢাকার বনশ্রীতে এক নারী সাংবাদিককে হেনস্তার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোয়েব রহমান জিশানসহ (২৫) তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) র্যাব-৩ এর স্টাফ অফিসার (মিডিয়া) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সনদ বড়ুয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সোয়েব রহমান জিশান (২৫), মো. রাইসুল ইসলাম (২১) ও মো. কাউসার হোসেন (২১)। জানান, গতকাল রাতে রাজধানীর রামপুরা এলাকায় যৌন হয়রানি সংক্রান্ত একটি ঘটনা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হলে তা ব্যাপকভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। বিষয়টি র্যাব-৩ এর নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে গুরুত্ব সহকারে ছায়া তদন্ত শুরু করা হয়।
র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, এ ঘটনায় রামপুরা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এ (সংশোধনীঃ ২০০৩) একটি মামলা করা হয়। মামলায় এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য র্যাব সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-৩ এর একাধিক গোয়েন্দা ও অপারেশনাল টিম মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করে।
পরবর্তীতে গোয়েন্দা সূত্র হতে পাওয়া তথ্য ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মামলার প্রধান অভিযুক্ত সোয়েব রহমান জিশানকে গভীর রাতে রাজধানীর রামপুরা থানাধীন মেরাদিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রমনার বেইলি রোড এলাকা থেকে মো. রাইসুল ইসলাম (২১) ও কাউসার হোসেনকে (২১) গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে রামপুরা থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান র্যাব-৩ এর স্টাফ অফিসার (মিডিয়া) সনদ বড়ুয়া।
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
জাতীয়
থাইল্যান্ডে পৌঁছেছেন প্রধান উপদেষ্টা

বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক) সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডে পৌঁছেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তিনি থাইল্যান্ডে পৌঁছান।
এর আগে, আজ সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে তিনি রওনা হন।
জানা গেছে, এরইমধ্যে আজ সকালে থাইল্যান্ডে বিমসটেকের মন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে। আলোচনায় যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। সই হয়েছে মেরিটাইম ট্রান্সপোর্টেশন সহযোগিতা চুক্তি। এই চুক্তিতে সই করেছেন ৭ সদস্য রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা।
সব ঠিক থাকলে ব্যাংককের স্থানীয় সময় বিকেল ৩ টায় আজ বিমসটেক ইয়ুথ জেনারেশন ফোরামের কনফারেন্সে যোগ দিয়ে বক্তব্য রাখবেন অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান। এছাড়াও আগামীকাল প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দেবেন।
এবারের সফরে প্রধান উপদেষ্টা ভারতসহ বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। পাশাপাশি সম্মেলনের সময় দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানেও উপস্থিত থাকবেন তিনি।
এদিকে সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে সাইডলাইনে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি হবে, যা ব্যাংকক সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে শুরু হওয়ার কথা।
এছাড়াও তৃতীয় দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী ২ বছরের জন্য বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেবে বাংলাদেশ।