মুখে ক্যান্ডিডিয়াসিস, কী করবেন?

নিউজ ডেস্ক, অর্থসংবাদ.কম, ঢাকা প্রকাশ: ২০২২-০৩-০১ ১৩:১৫:৫৪, আপডেট: ২০২২-০৩-০১ ১৪:১২:৪২

মুখের ক্যান্ডিডিয়াসিস হলো মুখের এক প্রকার ছত্রাকজনিত প্রদাহ। মুখের মধ্যে হওয়া ছত্রাকজনিত রোগের মধ্যে ক্যান্ডিডিয়াসিসই সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে।

কী কারণে হয়?

ক্যান্ডিডা ছত্রাক মুখের একটি সাধারণ জীবাণু, যা ৮০ শতাংশ সুস্থ মানুষের মুখেই পাওয়া যায়। তবে এগুলো কখন সংক্রমণের উপযোগী হয়, তা কয়েকটি অবস্থার ওপর নির্ভর করে বলে মনে করা হয়; যেমন—

১. শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস।

এর মধ্যে রয়েছে—
♦ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এমন রোগ; যেমন—ডায়াবেটিস, এইডস।♦ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এমন ওষুধ; যেমন—স্টেরয়েড।

♦ উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার, যা মুখের সাধারণ অণুজীব ধ্বংস করে দেয়।

♦ যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এখনো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি; যেমন—ছোট শিশু এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্রমেই কমে যাচ্ছে; যেমন—অতি বৃদ্ধ।

২. মুখগহ্বরের ভেতর বিভিন্ন অবস্থা; যেমন—

♦ মুখে লালাপ্রবাহ কমে যাওয়া।

♦ ধূমপান।

♦ নকল দাঁত পরিধান।

লক্ষণ ও উপসর্গ কী?

ক্যান্ডিডিয়াসিসের লক্ষণ হলো মুখে সাদা আবরণ বা লালচে ক্ষত। উপসর্গগুলো হলো—

♦ মুখে জ্বালাপোড়া ও ব্যথা অনুভব হওয়া।

♦ খাবার গ্রহণের সময় ঝাল লাগা ও মুখ পুড়ে গেছে এমন অনুভব হওয়া।

♦ স্বাদ না পাওয়া।

♦ অধিক লালা ঝরা।

সাধারণত উপসর্গগুলো থ্রাস ও লালচে ক্ষত এই ধরনের প্রদাহের ক্ষেত্রে প্রকটভাবে অনুভব হয়। দীর্ঘমেয়াদি পুরু ক্ষতের ক্ষেত্রে লক্ষণ থাকলেও উপসর্গ, যেমন—ব্যথা থাকে না।

প্রতিরোধের উপায়

♦ প্রতিদিন দুই বেলা অর্থাৎ রাতে খাবারের পর ও সকালে নাশতার পর সঠিক নিয়মে দাঁত ব্রাশ করা।

♦ প্রতিদিন রাতে দাঁত ব্রাশের পর ব্রাশ বা টাং ক্লিনার দিয়ে জিহ্বার উপরিভাগ পরিষ্কার করা।

♦ রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই অহেতুক অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ ব্যবহার না করা।

♦ স্টেরয়েড, ইনহেলার ব্যবহার করলে ব্যবহারের পরপরই ব্রাশ দিয়ে জিহ্বা পরিষ্কার করে ফেলা এবং ভালোভাবে কুলি করে ফেলা।

♦ নকল দাঁত ব্যবহার করলে তা রাতের বেলা খুলে পানি বা অ্যান্টিবায়োটিক দ্রবণে (যেমন— ক্লোরহেক্সিডিন) ডুবিয়ে রাখা এবং তা নিয়মিত পরিষ্কার করা।

♦ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা।

♦ ধূমপান পরিহার করা।

♦ শিশুদের দাঁত ও মুখ ভেজা-পরিষ্কার-সুতির/ফ্লানেল কাপড় দিয়ে পরিষ্কার রাখা।

♦ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সুষম খাদ্য ও তাজা ফলমূল গ্রহণ করা।

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।