পায়রাবন্দরের ক্ষতিগ্রস্তরা এখন উদ্যোক্তা

ডেস্ক রিপোর্টার প্রকাশ: ২০১৯-১২-২৭ ১৯:০৯:৪৪

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রাবন্দরের জন্য ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে আর অনিশ্চয়তা নেই। নিশ্চিত আবাসন সুবিধা পাওয়ার পর কারিগরি প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন তাদের মধ্যে উদ্যোক্তাও তৈরি হচ্ছে। এরই মধ্যে অনেকে ব্যবসা ও কৃষি খামার করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

পায়রাবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, এ বন্দর নির্মাণে প্রায় ৪ হাজার ২০০ পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব পরিবারকে বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার এমন উদ্যোগ এটিই প্রথম। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে ১০টি ট্রেডে এ প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নির্মিত আবাসনের বাসিন্দা রিয়ামনি। তার শ্বশুরের দুই একর জমি অধিগ্রহণ করা হলে পুরো পরিবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি এখন বানাতিবাজার অগ্রণী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাকিং শাখায় চাকরি করছেন। আরেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য হারুন অর রশিদ কম্পিউটার প্রশিক্ষণ শেষে বানাতিবাজারে কম্পিউটার ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীর দোকান দিয়েছেন। ভালোই আয় করছেন তিনি।

প্রশিক্ষণ প্রকল্পের টিম লিডার জেবা আফরোজা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবার থেকে একজন করে সদস্যকে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেয়া হচ্ছে। তিন সপ্তাহ ও এক মাসের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী প্রতিদিন ৩০০ টাকা এবং তিন মাস ও ছয় মাসের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে ভাতা পান। পায়রাবন্দর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ১৩৪ জন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ২৬টি ব্যাচে মোট ৬৬৬ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১৫০ জনের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে।

এখানে বেসিক কম্পিউটার, গাড়িচালক, রাজমিস্ত্রি, পোশাক তৈরি, ওয়েলডিং, ছাগল পালন, গরু মোটাতাজাকরণ, ব্রয়লার, ককরেল ও টার্কি পালন, মৎস্য চাষ ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মৎস্য আহরণ, উন্নত প্রযুক্তিতে হাঁস-মুরগি পালন ও হাঁস-মুরগির খাদ্য তৈরি, গাভী পালন এসব ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় বলে জানান জেবা আফরোজা।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে ঘুরে দেখা গেছে, লালুয়া ইউনিয়নের নাসিমা বেগম প্রশিক্ষণ শেষে ৪০০টি হাঁস নিয়ে খামার গড়ে তুলেছেন। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ১৫০টি হাঁস মারা গেছে। বর্তমানে প্রতিদিন ১৫০টি হাঁস ডিম দিচ্ছে। ডিম বিক্রি করে দৈনিক দেড় হাজার টাকা আয় করছেন তিনি।

চারিপাড়া গ্রামের হাসিনা বেগম ব্র্রয়লার, ককরেল ও টার্কি পালনের প্রশিক্ষণ নিয়ে টার্কি খামার গড়ে তুলেছেন। খামারে আছে ৪০টি টার্কি। তার সাফল্যে অন্যরাও উৎসাহিত হচ্ছেন। এ পর্যন্ত তিনি কয়েক হাজার টাকার ডিম বিক্রি করেছেন।

এছাড়া কলাউপাড়া গ্রামের জাহিদা বেগম, সাহেদা বেগম, হালিমা বেগম ব্রয়লার সোনালি মোরগের খামার গড়ে তুলেছেন। মঞ্জুপাড়া গ্রামের রিনি বেগম প্রশিক্ষণ ভাতার ৭ হাজার টাকাসহ ২৮ হাজার টাকা দিয়ে করেছেন হাঁসের খামার। তার খামারে ছোট-বড় মিলে এখন ৮০০ হাঁস। রিনি বেগমের স্বামী জাকারিয়া হাওলাদার আগে বাইরে কাজ করতেন, তিনিও এখন খামারেই সময় দেন। মঞ্জুপাড়া গ্রামের আবুল কাশেম ২৪ হাজার টাকা ব্যয়ে তেলাপিয়া মাছের চাষ শুরু করেছেন। মাছ বিক্রি করে ভালো আয় হবে বলে আশা করছেন তিনি। রাশিদা বেগম ক্ষতিপূরণের টাকায় দুটি গরু কিনেছেন। এভাবে আরো অনেকে ছোট ও মাঝারি আকারে খামার গড়ে তুলেছেন।

পায়রাবন্দর প্রকল্পের পরিচালক ক্যাপ্টেন এম. মুনিরুজ্জামান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রশিক্ষণের পর বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ সুবিধাও দেয়া হচ্ছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মুনিবুর রহমান বলেন, মানুষের পেশা পরিবর্তন করা কঠিন কাজ। তাই কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে তাদের মানসিকতা পরিবর্তন ও সাহস সঞ্চয় করানো উচিত। প্রশিক্ষণগুলোয় এসব বিষয় নিয়ে একটি সেশন থাকা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।