বিজয় দিবসে বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত মতিঝিল পাড়া

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, অর্থসংবাদ.কম প্রকাশ: ২০২১-১২-১৬ ২৩:২৫:৩৬, আপডেট: ২০২১-১২-১৭ ০১:৪৭:৩৫

বিজয় দিবসে বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত মতিঝিল পাড়া

ছবি: অর্থসংবাদ

বিজয় দিবস বাঙালি জাতির আত্মগৌরবের একটি দিন। এবছর ৫০তম বিজয় দিবস ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছে জাতি। দিনটিকে ঘিরে বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে মতিঝিলের শাপলা চত্তর এলাকা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে শাপলা চত্তর এলাকা দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজানো হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মনে এলাকাটি আজ বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে যায়গা করে নিতে পেরেছে। শাপলা ফুলের ভাস্কর্যের চারদিকে মানুষের ঢল নেমেছে।

জাহিদ হাসান নামে ঘুরতে আসা একজন বলেন, আজকের দিনটি আমাদের প্রত্যেকের জন্য গৌরভময়। এই দিনে আমরা বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। এই আনন্দের দিনটিতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে এখানে ঘুরতে এসেছি। ঐতিহ্যবাহী শাপলা ফুলের ভাস্কর্যটিসহ পুরো এলাকাটি আজকে দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজানো হয়েছে।

আরও দেখা যায়, লাল-সবুজে সাজানো হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভবন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভবনে দেখানো হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর ছবি। সরকারি সোনালী ব্যাংকের ভবনটিও বেশ সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। এছাড়া আশেপাশের জনতা ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ভবন দুটিও বেশ জমকালো ভাবে সাজানো হয়। এসব কারণেই দর্শনার্থীদের মধ্যে ঘুরতে আসতে বেশ আগ্রহ বাড়ে। এছাড়াও এসময় অনেককে ফুঠপাতের মজাদার খাবার খেতে দেখা গেছে। ফুসকা ও ঝালমুড়িসহ আরও অনেক খাবার পরিবেশন করছিলেন তারা।

এসময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি পোস্ট করার আগ্রহ দেখা যায় এসব দর্শনার্থীদের মধ্যে। শাপলা ফুলের ভাস্কর্যের আশেপাশে দাড়িয়ে ছবি তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন তারা। এসব দর্শনার্থীরা কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভবনের পাশের রাস্তায় ছবি তুলতে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছিলো। এসময় রাস্তায় গাড়ি চলাচলেও কমতি ছিলো না। ভিড় করা জনতার মধ্যে কারও কারও মধ্যে রাস্তা পারাপারে অসাবধনতা অবলম্বন করতে দেখা গেছে।

১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব- মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন ও সার্বভৌম হানাদার মুক্ত বাংলাদেশ রাষ্ট্রের। ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান আর দুই লাখ মা-বোনের ত্যাগ আর তিতিক্ষা এবং কোটি বাঙালির আত্মনিবেদন ও গৌরবগাঁথা গণবীরত্বে পরাধীনতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পায় বাঙালি জাতি।

বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতিকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় উজ্জীবিত করে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের পথে এগিয়ে নিয়ে যান। ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে ১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ স্বাপধীনতা লাভ করলেও ভ্রান্ত দ্বিজাতির তত্ত্বের ভিত্তিতে যে অসম পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয় তার শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা হয় বাঙালি জাতিকে। পাকিস্তান রাষ্ট্রের শুরু থেকে বাঙালি জাতির ওপর শুরু হয় বৈষম্য, শোষণ, অত্যাচার নির্যাতন। পাকিস্তানের এই শোষণ বঞ্জনা আর অত্যাচার নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাঙালি সোচ্চার হতে থাকে এবং ধাপে ধাপে পাকিস্তানের অত্যাচরের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে উঠতে থাকে। বাঙালির এই আন্দোলনের এক পর্যায়ে নেতৃত্বে আসেন শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালির এই আন্দোলনকে তিনি নেতৃত্ব দিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে পরিণত করেন।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালিদের হত্যা যজ্ঞে মেতে উঠলে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সারা দিয়ে সর্বস্তরের বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের পাশে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে এগিয়ে আসে প্রতিবেশী দেশ ভারত। সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং কোটি বাঙালিকে আশ্রয় দিয়ে ভারত সাহায্যের হাত বাড়িযে দেয়। ওই সময় পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়নও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থন দিয়ে সরাসরি পক্ষ্য নেয়।

দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী যৌথবাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ নামে নতুন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।