সংশোধন হচ্ছে বীমা আইন

ডেস্ক রিপোর্টার প্রকাশ: ২০১৯-১২-২৭ ০১:৪০:১১

বীমাখাতের উন্নয়ন এবং বীমা গ্রাহকদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য অন্যান্য আইনের সাথে সাংঘর্ষিক বিষয়সমূহ নিরসনে বীমা আইন ২০১০ সংশোধন করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বীমা কোম্পানিগুলোর চেয়ারম্যান ও মূখ্য নির্বাহীসহ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন, ইন্স্যুরেন্স ফোরাম এবং ইন্স্যুরেন্স সার্ভেয়র্স এসোসিয়েশনের কাছে প্রস্তাবনা চেয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ। আগামী ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে সংশোধনী প্রস্তাব পাঠাতে হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য অনুসারে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে বীমাখাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করতে বীমা প্রতিষ্ঠানসমূহের চেয়ারম্যান এবং মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বীমা আইন ২০১০ এর সাথে ব্যাংকিং আইন, মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি আইন, কোম্পানি আইন এবং সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইনসহ সংশ্লিষ্ট বিধি বিধানের সাংঘর্ষিক ধারাগুলো সংশোধন করার এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) গত ২৪ নভেম্বর এক চিঠিতে জানিয়েছে, বীমাখাতের উন্নয়ন এবং বীমা গ্রাহকদের স্বার্থ সংরক্ষণে অন্যান্য আইনের সাথে সাংঘর্ষিক বিষয়সমূহ নিরসনের জন্য বীমা আইন ২০১০ এর কোন সংশোধনীর প্রস্তাব থাকলে তা আগামী ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠাতে হবে। নির্ধারিত তারিখের মধ্যে কোন জবাব পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কোন প্রস্তাব নেই বলে গণ্য করা হবে বলে উল্লেখ করা হয় ওই চিঠিতে।

এদিকে বীমা আইন ২০১০ সংশোধনের প্রস্তাবনা পাঠাতে লাইফ ও নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাদের চিঠি দিয়েছে বীমা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন (বিআইএ) । গত ১ ডিসেম্বর পাঠানো ওই চিঠিতে বীমা কোম্পানিগুলোকে ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে সংশোধন প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়। সর্বশেষ গত ১২ ডিসেম্বর আরেক চিঠিতে বিআইএ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ১৫টি লাইফ ও নন-লাইফ বীমা কোম্পানির পক্ষ থেকে বীমা আইন ২০১০ সংশোধনে প্রস্তাব পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের তথ্য মতে, গত ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৫টি বীমা কোম্পানির পাঠানো সংশোধনী প্রস্তাবে বীমা আইন ২০১০ এর বেশ কিছু ধারা ও তফসিল সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশোধনের জন্য প্রস্তাবিত উল্লেখযোগ্য ধারাসমূহ হলো- ৬, ৭, ৮, ২১, ২৩, ২৭, ৩২, ৫৮, ৭১, ৭২, ৭৫, ৭৬, ৮০, ৮১, ১১৮, ১১৯, ১২৪, ১২৫, ১২৬, ১২৮, ১৩০, ১৪০, ১৪৬, ১৪৮, ১৫৫ এবং তফসিল -১।

বীমা আইন ২০১০ সংশোধনের বিষয়ে জেনিথ ইসলামী লাইফের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম নুরুজ্জামান বলেন, বীমা আইনের মাধ্যমে দেশের বীমাখাত পরিচালিত হয়। তবে বীমা আইন বাস্তবায়ন করতে গেলে দেশের প্রচলিত কিছু আইনও মানতে হয়। এক্ষেত্রে অনেক সময় বীমা আইনের কোন কোন বিধানের সঙ্গে প্রচলিত আইনের বিধান সাংঘর্ষিক হয়ে যায়। যা বীমা কোম্পানি পরিচালনায় সমস্যা সৃষ্টি করে। এ জন্য বীমা আইন সংশোধন জরুরি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেন বলেন, বীমা আইন সংশোধনের বিষয়ে আইডিআরএ আমাদের প্রস্তাবনা জানতে চেয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এরইমধ্যে আইডিআরএ’তে একটি সভা হয়েছে। আবারো সভা অনুষ্ঠিত হবে। শুধু বীমা আইন নয় সব কিছু মিলে আমরা সংশোধনের প্রস্তাব করছি। সবার সাথে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধান করা হবে।

বীমা আইন ২০১০ সংশোধনের বিষয়ে আইডিআরএ’র সদস্য গকুল চাঁদ দাস বলেন, আইন সংশোধন বিষয়টি সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। বীমা কোম্পানিগুলোর কাছে এ বিষয়ে মতামত আহবান করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের কাছ থেকে মতামত পাওয়ার পর সবাইকে নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আইনের একটি খসড়া প্রস্তুত করা হবে। খসড়া আইনটি যাচাই-বাছাইয়ের পর সেটি চূড়ান্ত করা হবে।

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।