পুঁজিবাজারকে সাপোর্ট দিতে বিআইএফএফএল তালিকাভুক্ত হতে চায়

ডেস্ক রিপোর্টার প্রকাশ: ২০১৯-১২-২৩ ০২:১৪:৪৭, আপডেট: ২০২০-০১-০১ ১৩:৩০:১৬

বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপী ঋণের প্রভাবে দেশের আর্থিক খাত যেমন এখন চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে । আবার হাতে গোনা কয়েকটা প্রতিষ্ঠান তার উল্টো ভালো উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। ঠিক তেমনি উদাহরণ দেওয়ার মত সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংক-বর্হির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল)। বিগত আট বছরে এই প্রতিষ্ঠানটির খারাপ ঋণ অথবা খেলাপী ঋণ নেই বললেই চলে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন চমকপ্রদ সফলতার গল্প অর্থসংবাদ– এর সঙ্গে শেয়ার করেছেন বিআইএফএফএল এর নির্বাহী পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এস এম ফরমানুল ইসলাম। আলোচনার চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো….

অর্থসংবাদ: বিআইএফএফএল কি কি সেবা দিচ্ছে ?

এস এম ফরমানুল ইসলাম: আমরা অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করছি।
বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য কয়েকটি বিষয়ের মধ্যে অবকাঠামো উল্লেখযোগ্য একটি। আমরা বিভিন্ন প্রকল্পে দীর্ঘ মেয়াদী ফাইন্যান্স করে থাকি। ইক্যুইটিতে বিনিয়োগসহ অ্যাডভাইজারি সার্ভিস দিয়ে থাকি। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মীরশরাই ইকোনোমিক জোন, অনেকগুলো বিদ্যুৎ প্রকল্প ও গ্রিন ব্রিক ফিল্ডসহ প্রায় ৪০ টিরও বেশি প্রকল্পে আমরা ফাইন্যান্স করেছি।

অর্থসংবাদ: আপনাদের ফোকাস কোন দিকে?

এস এম ফরমানুল ইসলাম: আমাদের দেশে ইকোনোমিক জোন দেশকে ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজড করতে কাজ করছে, সেটাকে আমরা প্রাইরিটি দিয়ে থাকি। নতুন এবং উদ্ভাবনমূলক প্রকল্পে ফাইন্যান্স করতে আমরা অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি। আর এই ধরনের প্রকল্পে আমাদের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটেই থাকে।

অর্থসংবাদ: বর্তমান সময়ে আর্থিক খাতে ঋণ একটা আতঙ্কের বিষয়, আপানাদের এবিষয়ে কোন বেগ পেতে হচ্ছে কিনা?

এস এম ফরমানুল ইসলাম: ঋণ ছাড়া তো আর কোন বড় বড় প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করা যায় না, কারণ শুধু ব্যক্তিগত টাকা দিয়ে তো আর বড় বড় প্রজেক্ট কেউ করতে পারবে না এবং করবেও না। সবাই যদি নিজের টাকা দিয়ে প্রজেক্ট করে তাহলে ব্যাংকের আর কাজ কি? আমরা যখন ঋণ দেই সম্পূর্ণ যাচাই-বাছাই করে দিয়ে থাকি। যদি সবকিছু সঠিক থাকে তাহলেই আমরা ফাইন্যান্স করি। ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে যদি সঠিকভাবে যাচাই করে লোন দেওয়া হয় তাহলে লোন ফেল করার কোন কারণই নেই।

যদি কোন কোন সময় আমাদের একটা এ্যাপ্রোভাল যদি কোন কিছু দ্ধারা প্রভাবিত হয়, সেটা রাজনৈতিক হোক, সামাজিক হোক, ব্যক্তিগত তখন আর লোনটা সঠিক হবে না এবং সেখানেই দেখা লোন ফেল করার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। কারন তখন সঠিক জায়গায় সঠিক কাজে টাকাটা ব্যবহৃত হয়না। দেখা যাবে টাকাটা অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার হয়ে গেছে।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যেটাই করা হবে সেখান থেকে রেভিনিউ আসতে হবে। যেখানে রেভিনিউ নাই সেখানে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইনভেস্ট করবে না। যেমন একটা সরকারি রাস্তায় ইনভেস্ট করবো না, কারন সেখানে যে যাবে সেতো আর টাকা দেবে না, কিন্তু টোল রোড হলে বিনিয়োগ করবো, কারণ টোল রোডে মানুষ টাকা পরিশোধ করবে। সুতরাং আমি মনে করি লোন ফেল করার প্রধান কারণ হলো লোনের টাকার প্রোপার ইউটিলাইজ না করা।

আর দু’একটা লোন খারাপ হতে পারে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অগ্নিকান্ড বা বিরুপ রাজনৈতিক কারনে যেটা হয়ত এরানো সম্ভব নয়। অথবা গ্লোবাল কোনো সমস্যার কারনেও লোন খারাপ হতে পারে। তাছাড়া এমনও হতে পারে যে সরকার আইন করে কোন ব্যবসা বন্ধ করে দিলে যেমন পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য ইত্যাদি সেক্ষেত্রে লোন ফেল হতে পারে।

অর্থসংবাদ: সরকারি প্রতিষ্ঠান অনেক সময় স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনা, বিআইএফএফএল এর ক্ষেত্রেও কী তেমন ?
এস মানুল ইসলাএম ফরম: আমাদের পরিচালনা পর্ষদ খুবই ডায়নামিক। যার কারনে আমরা সম্পুর্ণটাই ফ্রি ভাবে কাজ করতে পারি। কারো অন্যায় আবদার আমরা রক্ষা করিনা, যে কারনে আমাদের অনেক সময় কিছুটা সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়েছে। অন্যায় আবদার না রাখার ফলেই কিন্তু বিআইএফএফএল এর খেলাপী ঋন নেই।

অর্থসংবাদ: আপনারা পুঁজিবাজারে আসতে চাচ্ছেন কেন?
এস এম ফরমানুল ইসলাম: আমরা পুঁজিবাজারকে সাপোর্ট দিতে চাই। পুঁজিবাজারের ডেপথ বাড়াতে ভালো কোম্পানি দরকার, আর বিআইএফএফএল যেহেতু ভালো প্রতিষ্ঠান তাই তালিকাভুক্ত হলে বাজারকে সাপোর্ট দিতে পারবে। আমরা চাই ক্যাপিটাল মার্কেট ডেভেলপ করুক । আর সে ক্ষেত্রে আমরাও ভুমিকা রাখতে চাই। বিআইএফএফএল যেহেতু লাভজনক অবস্থানে রয়েছে তাই আমরা পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে দেশের জনগনকে লভ্যাংসের অংশীদার করতে চাই।

 

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।