৩১ ব্যাংকের সুদহার দুই অঙ্কে

ডেস্ক রিপোর্টার প্রকাশ: ২০১৯-১২-২৩ ০০:২৬:১১, আপডেট: ২০১৯-১২-২৫ ১৯:০৪:২৯

বেসরকারি খাতের ৪০টি ব্যাংকের মধ্যে গড়ে ৯ শতাংশের উপরে সুদ নিচ্ছে ৩৬ ব্যাংক। গড়ে ২৯ ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে দুই অঙ্কের সুদ গুণতে হচ্ছে গ্রাহকদের। বেসরকারি ব্যাংকগুলো গড়ে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ সুদ নিচ্ছে এখনও। কিন্তু ব্যাংঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার কথা ছিল আরও এক বছর আগে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পাওয়ার করণেই সুদহার কমানো সম্ভব হচ্ছে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবর শেষে পুরো ব্যাংক খাতের গড় সুদহার ৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ। সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবাই এক অঙ্কের সুদহার বাস্তবায়ন করতে পারলেও পিছিয়ে পড়েছে অধিকাংশ বেসরকারি ব্যাংক। এছাড়া বিদেশি ২টি ব্যাংকের ঋণের গড় সুদহার ১০ শতাংশের উপরে। ব্যাংক ঋণের সুদহার কমাতে আইনী বাস্তবায়নের প্রয়োজন বলে মত বিশ্লেষকদের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০১৯ শেষে ব্যাংক খাতে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে নয় লাখ ৬৯ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা। এর মধ্যে অবলোপন বাদে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় এক লাখ ১৬ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ১১ দশমিক ৯৯ শতাংশ। অবলোপনসহ খেলাপি ঋণের পরিমাণ দেড় লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। গত বছর একই সময়ে (সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে) খেলাপি ঋণ ছিল ৯৯ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। এ হিসাবে গত এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৬ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা।

সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী ব্যাংকগুলো ক্ষুদ্র ও মাঝারিশিল্পের মেয়াদি ঋণে সুদ নিয়েছে ১২ থেকে সাড়ে ১৬ শতাংশ। দুটি ব্যাংক ১৮ শতাংশ পর্যন্ত সুদে এসএমই ঋণ দিয়েছে। ২০১৮ সালে ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালকরা সিঙ্গেল ডিজিট সুদে ঋণ বিতরণের ঘোষণা দিলেও ব্যাংকগুলো এসএমই’র মেয়াদি ঋণ বিতরণ করছে ১১ থেকে ১৫ শতাংশ সুদে। এর আগে ২০১৭ সালের জুনে ৯ থেকে ১৩ শতাংশ সুদ ছিল এসএমই’র। একইভাবে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত বড় শিল্পের মেয়াদি ঋণে সুদের হার ১০ শতাংশের কম ছিল। ২০১৮ সালে যা ১২ থেকে ১৩ শতাংশের ওপরে ওঠে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ১৩ থেকে ১৭ শতাংশে উঠেছে। বাড়ি-গাড়ি কেনার ঋণে ১৪ থেকে ১৭ শতাংশ সুদ নিচ্ছে ব্যাংক। ক্রেডিট কার্ডে অধিকাংশ ব্যাংকের সুদহার রয়েছে ১৮ থেকে ২৭ শতাংশ।

চলতি বছরের ১ ডিসেম্বর রাতে ডেপুটি গভর্নর এসএম মনিরুজ্জামানকে প্রধান করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই দিন দুপুরে এ কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। কমিটিকে কীভাবে ব্যাংক ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে একটি সুপারিশ উপস্থাপনের নির্দেশনা দেয়া হয়। সুপারিশমালা চূড়ান্ত হলেও এখনও প্রকাশ করা হয়নি। জানা গেছে খুব শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সার্কুলার জারির মাধ্যমে শিল্প ঋণে এক অঙ্কের সুদহার বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়ওয়া হবে।

ব্যাংক মালিকদের দাবিতে গত বছরের ১৫ এপ্রিল থেকে নগদ জমা সংরক্ষণ হার (সিআরআর) কমিয়ে দ্বিসাপ্তাহিক গড় ভিত্তিতে ৫.৫ শতাংশ এবং দৈনিক ভিত্তিতে ন্যূনতম ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছরের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত হিসাবে ব্যাংকগুলো এক্ষেত্রে ১১ হাজার ১১২ কোটি টাকার সুবিধা পেয়েছে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে ব্যাংকের কর্পোরেট করহার ৪২.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। এতে ব্যাংকগুলো ২.৫ শতাংশ ট্যাক্স সুবিধা পায়। ফলে ১৩ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকার সুবিধা পেয়েছেন ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালকরা।

ব্যাংক সংগঠনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কৃষি খাতে প্রদত্ত ঋণের বিপরীতে রক্ষিতব্য সাধারণ প্রভিশন সংরক্ষণের হার ২.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সময়ে এতে ব্যাংকগুলো ৫৩৪ কোটি টাকা সুবিধা ভোগ করেছে।

একইভাবে গৃহায়ণ খাতে রক্ষিতব্য সাধারণ প্রভিশন সংরক্ষণ হারেও সুবিধা দেয়া হয়। গৃহায়ণ খাতে সাধারণ প্রভিশন সংরক্ষণের হার ২ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। এতে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ব্যাংকগুলো ২৫৫ কোটি টাকা সুবিধা পায়।

সব মিলিয়ে শুধু এ সুবিধাগুলো থেকে ব্যাংকগুলোর লাভ হয়েছে প্রায় সাড়ে ২৫ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া বেসরকারি ব্যাংকগুলোয় সরকারি তহবিল জমার হার বৃদ্ধি, পরিচালক পদে অধিষ্ঠিত থাকার মেয়াদ ও একক পরিবারের সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি, ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ১০ বছর মেয়াদে পুনঃতফসিল এবং ঋণ শ্রেণিকরণ নীতিমালা শিথিলকরণ সুবিধা দেয়া হয়েছে। তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।