সাপ্তাহিক লেনদেনের ৫.৬২ শতাংশ রিং শাইন টেক্সটাইলের

ডেস্ক রিপোর্টার প্রকাশ: ২০১৯-১২-২১ ১৬:৫৫:৩১, আপডেট: ২০১৯-১২-৩১ ১১:১৯:৫৯

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে বস্ত্র খাতের কোম্পানি রিং শাইন টেক্সটাইলস লিমিটেড। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির চার কোটি ৬০ লাখ ৩১ হাজার ৬৭৬টি শেয়ার ৬২ কোটি ৮৮ লাখ ৯৯ হাজার টাকায় লেনদেন হয়, যা মোট লেনদেনের পাঁচ দশমিক ৬২ শতাংশ। সপ্তাহজুড়ে শেয়ারটির দর ১৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ কমেছে।

সম্প্রতি রিং শাইন টেক্সটাইলস লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর এ অনুমোদিত মূলধন বাড়ানোর জন্য রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিস অ্যান্ড ফার্মসের (আরজেএসসি) অনুমোদনও পেয়েছে। ১০০ কোটি টাকা বাড়লে কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন হবে ৫৪০ কোটি টাকা। বর্তমানে কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন রয়েছে ৪৪০ কোটি টাকা।

এছাড়া চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর, ২০১৯) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রিং শাইন টেক্সটাইলস।

তথ্যমতে, প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৪৬ পয়সা, এ প্রান্তিকে করপরবর্তী মুনাফা হয়েছে ১৯ কোটি ৯৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ২০ টাকা ১৭ পয়সা।

আর কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ ৩০ জুন ২০১৯ সমাপ্ত হিসাববছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে এক টাকা ৭২ পয়সা, আগের হিসাববছরে যা ছিল এক টাকা ৯৯ পয়সা। ৩০ জুন ২০১৯ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৪ টাকা ৮৮ পয়সা, আগের হিসাববছরের একই সময় যা ছিল ২৩ টাকা ১৭ পয়সা। ঘোষিত বোনাস লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের অনুমোদনের জন্য আগামী ২৬ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় রাজধানীর সাভারে অবস্থিত সাভার গলফ ক্লাবে কোম্পানিটির ২২তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর চার দশমিক ৬৯ শতাংশ বা ৬০ পয়সা কমে প্রতিটি সর্বশেষ ১২ টাকা ২০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ১২ টাকা ২০ পয়সা। ওইদিন ৬৭ লাখ ২৫ হাজার ২২৪টি শেয়ার মোট চার হাজার ২০৪ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর আট কোটি ৪০ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনি¤œ ১২ টাকা ১০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১৩ টাকায় ওঠানামা করে।

উল্লেখ্য, রিং শাইন টেক্সটাইলসের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) লটারির ড্র গত ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়। গত ২৫ আগস্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইপিও আবেদনের চাঁদা গ্রহণ চলে। এর আগে গত ১২ মার্চ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৬৭৯তম সভায় এ রিং সাইনের আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয়।

রিং সাইন টেক্সটাইল পুঁজিবাজারে ১৫ কোটি সাধারণ শেয়ার ছেড়ে ১৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১০ টাকা। উত্তোলিত অর্থ দিয়ে কোম্পানিটি যন্ত্রপাতি ও কলকব্জা ক্রয়, ঋণ পরিশোধ এবং আইপিও খরচ খাতে ব্যয় করবে।

আর লেনদেনের দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে ছিল বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির ৯৩ লাখ ৪৮ হাজার ৮৪০টি শেয়ার ৩৭ কোটি ৫২ লাখ ৮০ হাজার টাকায় লেনদেন হয়, যা মোট লেনদেনের তিন দশমিক ৩৫ শতাংশ। সপ্তাহজুড়ে শেয়ারটির দর ১৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়েছে।

এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর শূন্য দশমিক ৪৮ শতাংশ বা ২০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ৪২ টাকা ৩০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৪২ টাকা ৩০ পয়সা। দিনজুড়ে ১৯ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩৩ শেয়ার মোট এক হাজার ৭৫২ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর আট কোটি ১৬ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। এক বছরে শেয়ারদর সর্বনি¤œ ১৬ টাকা থেকে ৪৩ টাকা ৫০ পয়সায় হাতবদল হয়।

২০১৯ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য কোম্পানিটি পাঁচ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আলোচিত সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫১ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ৯০ পয়সা। আর শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ হয়েছে ৯৫ পয়সা। ঘোষিত লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের সম্মতিক্রমে অনুমোদনের জন্য আগামী ২৪ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় কারখানা প্রাঙ্গণে (কাঁঠালি, ভালুকা, ময়মনসিংহ) বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে।

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ‘বি’ ক্যাটেগরির এ কোম্পানি। অনুমোদিত মূলধন ৩০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ২৩১ কোটি টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৬৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

তালিকায় তৃতীয় স্থানে ছিল জেনেক্স ইনফোসিস লিমিটেড। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির ৪১ লাখ ৫৮ হাজার ৯২৩টি শেয়ার ২৬ কোটি ৬৯ লাখ ২৭ হাজার টাকায় লেনদেন হয়, যা মোট লেনদেনের দুই দশমিক ৩৯ শতাংশ। সপ্তাহজুড়ে শেয়ারটির দর ১২ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়েছে।

এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারদর চার দশমিক ৯২ শতাংশ বা তিন টাকা ২০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ৬৮ টাকা ৩০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৬৮ টাকা। দিনজুড়ে ১৭ লাখ ৪৬ হাজার ৪৭২টি শেয়ার মোট ৯৯৭ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ১১ কোটি ৩৯ লাখ ১৫ হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর ৬৪ টাকা থেকে ৬৯ টাকায় হাতবদল হয়। এক বছরে শেয়ারদর সর্বনি¤œ ৩১ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ৬৯ টাকায় হাতবদল হয়।

২০১৯ সালে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানিটির ১০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৮১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৩৬ কোটি ৮৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির মোট আট কোটি ১৬ লাখ শেয়ার রয়েছে।

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।