‘বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনায় বাংলাদেশ’

এস এম জাকির হোসাইন, নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশ: ২০২১-০৭-২৬ ২৩:২৮:৫৮, আপডেট: ২০২১-০৭-২৮ ১৮:১৭:৩৯

‘বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনায় বাংলাদেশ’

বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম। ছবি: অর্থসংবাদ

অর্থনৈতিকভাবে বিশেষ সম্ভাবনাময় দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম সারিতে রয়েছে। সুনির্দিষ্ট কয়েকটি কারণে এ সম্ভাবনা। এর মধ্যে রয়েছে, বিশাল বাজার, শ্রমশক্তি, ক্র‍য় ক্ষমতা, স্থিতিশীল গণতন্ত্র, ও সরকারের নীতি সহায়তা উল্লেখযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা।

এসময় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল- ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের এক অপার সম্ভাবনাময় অঞ্চল বলে মন্তব্য করেছেন তিনি ৷ এখানে লাভ করার প্রচুর সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রচুর সম্ভাবনা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে ভালো অবস্থানে দেখতে পারবো। আমি আপনাদের সবাইকে আহ্বান জানাই আপনারাও এই উন্নয়নে সঙ্গী হোন।

চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র। আমাদের জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান অর্থনীতির উন্নতিতে খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। সে সব সময় একটি সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছেন বাংলাদেশের মানুষ। গত বছর জিডিপিতে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশ ভারত, ভিয়েতনামসহ আরও অনেক দেশকে পেছনে ফেলেছে। আমাদের গড় জিডিপি গ্রোথ গত এক দশকে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়ে গত ১২ বছরে বাংলাদেশ অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সকল কিছুতেই অসাধারন উন্নতি করেছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য অনেকগুলো কারণ রয়েছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে বাংলাদেশ বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম। সেগুলো বিনিয়োগকারীদের সেখানে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী করে তোলে। আমাদের খুব ভালো শ্রমিক রয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশের শিক্ষার হারও আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। অপরদিকে শিক্ষিত ও আধাশিক্ষিত শ্রমশক্তি রয়েছে আমাদের, যারা বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নতিতে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য, নেটওয়ার্কিংসহ আরও অনেক কিছুতেই।

এছাড়াও আমরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পণ্য উৎপাদনে খরচ অনেক কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। যার ফলে বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ বাড়ছে। এদিকে বাংলাদেশের অধিকাংশ যুবকরা ডিজিটাল পদ্ধতির সাথে খুবই পরিচিত এবং সচেতন। তাদের এসব সক্ষমতা বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময়ে ব্যবসা বান্ধব পরামর্শ দিয়ে থাকে। বাংলাদেশ সামনের দিকে খুব দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। আমাদের পলিসিসহ সব কিছু এখন ব্যবসা বান্ধব। বর্তমান সময়ে সরকারি কর্মকর্তাসহ সকলের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আসছে। তারা সবাই ব্যবসায়ীদের ও ব্যবসায়ের পক্ষে কাজ করছে। এটি ব্যবসায়ের জন্য একটি ভালো দিক।

আমরা বিশ্বের সকল প্রান্তের মানুষকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানাই। আমরা আপনাদের পার্টনার হতে চাই। সুতরাং ব্যবসাবান্ধব সরকার, পলিসি এবং নিয়মকানুনসহ সকল কিছুই ব্যবসার পক্ষে। এছাড়া গত ১২ বছরে বাংলাদেশ সরকার প্রচুর বিদ্যুতের চাহিদা মিটিয়েছে। যার ফলে বিদ্যুতের ঘাটতি কমেছে। এখন কোন বিদ্যুত সমস্য নেই। এছাড়া কারখানার গ্যস চাহিদা মেটানো হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথরিটি (বেপজা) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তপক্ষের (বিডা) পক্ষ থেকে আমরা ভালো সাড়া পাচ্ছি। এর ফলে ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করতে আরও সুযোগ হচ্ছে।

এফডিআইতে সরকার অনেক ধরণের সুবিধা দিচ্ছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের। গত দশ বছরে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য হাইটেক পার্কে ২২ শতাংশ ট্যাক্স কমানো হয়েছে। এছাড়াও হাইটেক পার্কে তাদের ৮০ শতাংশ ভ্যাট ইউটিলিটি থেকে অভ্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য কোন ইক্যুইটি সীমাবদ্ধতা রাখা হয়নি। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রথম বছর ৫০ শতাংশ ভ্যাট ছাড় দেওয়া হয়েছে। এছাড়ও এক্সপোর্ট অরিয়েনটেড রেভিনিউর জন্য ১০ শতাংশ ক্যাশব্যাক দিচ্ছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ বিনিয়োগকারীদের প্রচুর লাভ দেওয়ার চেষ্টা করে। এর জন্য বাংলাদেশ পুঁজিবাজার অনেকগুলো ভালো নিয়ম করেছে। যার ফলাফল পুঁজিবাজারে ইতোমধ্যে দেখা গেছে। হংকংয়ের ফ্রন্টিয়ার জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে বাংলাদেশ এশিয়ার সেরা পুঁজিবাজারে উঠে এসেছে।

এছাড়া ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ডিএসইএক্স ডাবল ডিজিট গ্রোথ ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ। চলতি মাসে ডিএসইর মোট বাজার মূলধন রেকর্ড ৬৩ বিলিয়ন ডলারে দাড়িয়েছে। বর্তমান কমিশন পুঁজিবাজারে উন্নয়নে সকল ধরনের কাজ করে যাচ্ছে।

অপরদিকে বাংলাদেশের ই-কমার্স ২০২৩ সালে ৩ বিলিয়ন ডলারে যাওয়ার আশা করা হচ্ছে। এর পরিমাণ বর্তমানে রয়েছে ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার, এছাড়া বিশ্বে বাংলাদেশের ই-কমার্স বাজারের অবস্থান ৪৬ তম। এছাড় ২ হাজার সাইট এবং ৫০ হাজার ফেসবুক পেইজ রয়েছে এগুলোর।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।