এজেন্ট কমিশন থাকছে না সাধারণ বীমায়

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, অর্থসংবাদ.কম প্রকাশ: ২০২১-০৫-০১ ১৫:৫২:৫৫

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) সাধারণ বীমা ব্যবসায় এজেন্ট কমিশন ১৫ শতাংশের পরিবর্তে শূন্য শতাংশ নির্ধারণের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। যার ফলে চলতি বছরের মার্চ থেকে সাধারণ বীমায় এজেন্ট কমিশন প্রথা স্থগিত করা হয়েছে।

তবে বিভিন্ন মহল থেকে জানা গেছে, কতিপয় সাধারণ বীমা কোম্পানি বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ থেকে জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের নির্দেশ অমান্য করে বিভিন্ন কুটকৌশল অবলম্বন করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। যার কারণে আইন মান্যকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

এর আগে, ৬ এপ্রিল বাংলাদেশ ইস্যুরেন্স এসোসিয়েশনের (বিআইএ) সভায় পর্যালোচনা করে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওই সভার সিদ্ধান্তগুলোও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। সিদ্ধান্তগুলো হলো-

– ইউনাইটেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম (ইউএমপি) এর মাধ্যমে প্রিমিয়াম রেট নিয়ন্ত্রণসহ আরো কিভাবে বীমা কোম্পানিসমূহকে অপেক্ষাকৃত উন্নত সেবা প্রদান করতে পারে সে বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ।

– কোন কোন বীমা কোম্পানি ইউএমপিতে নিয়মিত ডেটা প্রেরণ করে না সে বিষয়ে বিআইএকে তথ্য প্রদান করতে অনুরোধ করা।

– বিশ্বব্যাংক কর্তৃক গৃহীত বাংলাদেশের বীমা শিল্প উন্নয়ন প্রকল্প বেসরকারি বীমা কোম্পানিগুলোকে অন্তর্ভুক্তকরণ।

– বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ থেকে জারিকৃত সার্কুলার নং নন-লাইফ ৮৮ তারিখঃ ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২১ এর বিষয়ে জোর মনিটরিং ও পরিদর্শনের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষেত্র বিশেষে শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

– কোন কোম্পানি ডামী জনবলের বিপরীতে বেতন আহরণ করলে তা মনিটরিং ও পরিদর্শনের মাধ্যমে খুঁজে বের করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

– উন্নয়ন কর্মকর্তাদের অপ্রত্যাশিত বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে অপ্রত্যাশিত সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রতিনিধিদের সাথে সভা করে বেতন বৃদ্ধির কারণ ও যৌক্তিকতা নিয়ে আলােচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা ।

– ১৫% এজেন্ট কমিশনের পরিবর্তে ০% (শূন্য শতাংশ)। কমিশন নির্ধারণের ফলে ব্যাংকগুলো কোন অগ্নিবীমা পলিসির নবায়ন এবং নতুন ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে বীমা পলিসি গ্রহণে অনীহা প্রদর্শন করছে। এতে করে বীমা কোম্পানীগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমনিভাবে সরকার তার রাজস্ব প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়াও কোন বীমা কোম্পানী কোন প্রকার দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হবে। বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করা প্রয়াজোন।

– বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা নিয়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ বহির্ভূত কোন হিসাব কোন বীমা কোম্পানির আছে কিনা তা বের করা।

– সার্কুলার নং নন লাইফ ৮২ তারিখ ডিসেম্বর ২১, ২০২০ কে সফল করার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ ইস্যুরেন্স এসোসিয়েশন এর মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে একটি সভা আহ্বান করা প্রয়োজন।

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।