গ্রামাঞ্চলে দিতে হবে ৭০ শতাংশ এজেন্ট ব্যাংকিং ঋণ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২০-০২-২৩ ১১:২০:৪৪

দেশজুড়ে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে বিপ্লব এনেছে মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। ১৬টি ব্যাংক এখন দেশজুড়ে এ সেবা দিচ্ছে। সারা দেশে যারা প্রায় ১০ লাখ এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাদের দিয়েই দেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়তে হবে। আর এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে যে ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে, তার অন্তত ৭০ শতাংশ গ্রামাঞ্চলে বিতরণ করতে হবে। শনিবার রাজধানীর ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিকসের (ডিএসসিই) উদ্যোক্তা ক্লাবের আয়োজনে ‘পরিবেশবান্ধব ও সবুজ প্রকৌশলভিত্তিক উদ্যোক্তা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা

ডিএসসিই উদ্যোক্তা অর্থনীতি কোর্সের সমন্বয়ক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলীর সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও ডিএসসিই চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূর ও সিকিউরা বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম আহসান খান। এছাড়া উদ্যোক্তা অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রেহানা পারভীন, সারাহ তাসনীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজিত সেমিনারে কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিং পদ্ধতিকে পুনর্গঠন করতে হবে। এখন গ্রামের উদ্যোক্তারা যেন ঋণ পান, সে ব্যবস্থা করতে হবে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য উদ্যোক্তা তৈরির বিকল্প নেই। এজন্য শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তনসহ উদ্যোক্তাবিষয়ক পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিগ্রির ওপর গুরুত্ব বাড়াতে হবে।

বিশ্ব চতুর্থ শিল্প বিপ্লব প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে উল্লেখ করে অধ্যাপক মুনাজ আহমেদ নূর বলেন, এ শিল্প বিপ্লব পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শ্রমশক্তির সঠিক ব্যবহার এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার বিষয়ে নজর রাখতে হবে।

বাংলাদেশে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের মধ্যে রয়েছে। অর্থাৎ অধিকাংশ জনসংখ্যা তরুণ ও যুবক। এ শ্রমশক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে বলে মনে করেন অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী। তিনি বলেন, দেশের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক তরুণ এখনো কোনো ধরনের চাকরি, লেখাপড়া এমনকি প্রশিক্ষণের মধ্যে নেই। তরুণদের কর্মসংস্থান ও আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করতে উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন এবং তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। তারা যেন উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, এজন্য শিক্ষা ব্যবস্থায় সেই কারিকুলাম তৈরি করতে হবে।

ব্যাংকিং ব্যবস্থায় পরিবর্তন জরুরি জানিয়ে অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী আরো বলেন, সুদহারসহ তদারকিতে আরো সংস্কার প্রয়োজন। দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ও টেকসই উন্নয়ন ধরে রাখতে নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে। উদ্যোক্তা তৈরিতে ব্যাংকগুলো পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখতে পারছে না। কেননা ব্যাংক সুদের হার এখন উচ্চ। উচ্চ সুদহার দেশের উদ্যোক্তা তৈরিতে এখনো প্রধান অন্তরায়।

উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশজুড়ে ১৬টি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে। তবে এ সেবার বড় অংশ ব্র্যাক ব্যাংকের বিকাশ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের রকেট ও ডাক বিভাগের নগদের দখলে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত এ সেবার গ্রাহক সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৯৬ লাখ। এর মধ্যে সক্রিয় গ্রাহক ৩ কোটি ৪৭ লাখ। আর দেশজুড়ে এ সেবা দিতে এজেন্ট রয়েছেন ৯ লাখ ৭১ হাজার। গত ডিসেম্বরে দৈনিক লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা, যা নভেম্বরে ছিল ১ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা।

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।