ভারতে ঊর্ধ্বমুখী ইস্পাতের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২১-০১-১০ ১৯:২৫:৫৬

মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে ভারতজুড়ে জারি করা লকডাউনে শিল্প ও আর্থিক খাত কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। লকডাউন ও আর্থিক অনিশ্চয়তা দেশটিতে ইস্পাতের চাহিদা ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়। এতে ধাতব পণ্যটির দামও কমতে থাকে। একই সময়ে ভারত থেকে পণ্যটির রফতানি বৃদ্ধির পর থেকে দাম বাড়তে শুরু করে। নতুন বছরেও দাম বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান ইস্পাতের দাম টনপ্রতি ১ হাজার রুপি থেকে ২ হাজার ৪০০ রুপি পর্যন্ত বাড়িয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে শিল্প ধাতুটির দাম আরো বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও ইন্ডিয়া টুডে সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

খবরে বলা হয়েছে, ভারতের বাজারে চলতি মাসজুড়ে ইস্পাতের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকবে এবং প্রতি টনে এ বৃদ্ধি ৬ হাজার রুপি পর্যন্ত উঠতে পারে। প্রথম পদক্ষেপ এরই মধ্যে কার্যকর হয়েছে। হট রোল কয়েলের দাম প্রতি টনে ১ হাজার ৫০০ এবং রডের দাম টনপ্রতি ২ হাজার ৪০০ রুপি বাড়ানো হয়েছে।

জিন্দাল স্টিল অ্যান্ড পাওয়ার (জেএসপিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ভিআর শর্মা বলেন, ইস্পাতের মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকতে পারে। জাতীয় খনিজ উন্নয়ন কর্পোরেশন (এনএমডিসি) ইস্পাত তৈরির অন্যতম কাঁচামাল আকরিক লোহার দাম একই স্তরে রাখতে সক্ষম হলে শিল্প ধাতুটির দামও স্থিতিশীল হতে পারে।

কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ কমে আসা ও লকডাউন শিথিল হওয়ায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যক্রম শুরু করেছে। এ সুযোগে জেএসপিএল ডিসেম্বর মাসে সর্বোচ্চ উৎপাদন ও বিক্রির রেকর্ড করেছে।

ইন্ডিয়ান স্টিল অ্যাসোসিয়েশন (আইএসএস)এক সপ্তাহ আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চিঠি লিখে ইস্পাতের দাম বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করেছে। চিঠিতে বৈশ্বিক সরবরাহে ঘাটতি এবং আকরিক লোহার ঘাটতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম টনপ্রতি ৩৯৭ ডলার থেকে ৭৫০ ডলারে উন্নীত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছে আইএসএস।

উল্লেখ্য, গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রতিষ্ঠানটির ইস্পাত উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং একই সময়ে বিক্রিও ১২ শতাংশ বেড়েছে।

 

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।