বিকাশের মাধ্যমে খোলা হয়েছে ৬০ লাখের বেশি ডিপিএস, ৩৪ শতাংশই নারী

রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন রোদেলা হাসান। আগামী বছর ছেলেকে স্কুলে দিবেন ভেবে কিছুটা সঞ্চয় করতে চাচ্ছেন। তবে যানজট পার করে ব্যাংকে গিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা কিংবা নিয়মিত যাতায়াত করে টাকা জমা দেওয়ার প্রথাগত পদ্ধতি তাঁর জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং। একদিন এক বন্ধুর কাছে শুনলেন মোবাইলেই ঘরে বসে কোনো কাগজপত্র ছাড়াই কয়েক মিনিটে ডিপোজিট পেনশন স্কিম (ডিপিএস) খোলা যায়। এতে ব্যাংকের মতো মুনাফাও পাওয়া যায়। সাথে সাথেই খুলে ফেললেন একটা ডিপিএস।

মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা বা এফএফএস প্রতিষ্ঠান বিকাশ ডিজিটাল সঞ্চয়ের এই সুবিধা দিচ্ছে। সুদভিত্তিক ও ইসলামি ধারার উভয় পদ্ধতিতেই সঞ্চয় করার সুযোগ আছে। বিকাশ হিসাব দিয়ে প্রতি সপ্তাহে সর্বনিম্ন ২৫০ টাকা বা মাসে ৫০০ টাকা থেকে শুরু করা যায় সঞ্চয়। বর্তমানে এমএফএস প্রতিষ্ঠানটির অ্যাপ থেকে ব্র্যাক ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংক– এই পাঁচ বাণিজ্যিক ব্যাংকের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি ফাইন্যান্সে ডিপিএস খোলা যায়।

বিকাশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে বিকাশে ৬০ লাখের বেশি ডিপিএস খুলেছেন গ্রাহকেরা। তাঁদের ৩৪ শতাংশই আবার নারী। ডিপিএস খোলা ৪৮ শতাংশ গ্রাহকদের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। তার মানে তরুণেরাই তাঁদের সীমিত আয় থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেশি সঞ্চয়ে আগ্রহী।

আরও জানিয়েছে, গ্রাহকেরা সাধারণত ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা, চিকিৎসা, ব্যবসায়িক মূলধন সংগ্রহ, গৃহস্থালি ও ইলেকট্রনিকস পণ্য কেনা, ভ্রমণ, পড়াশোনার খরচ, যানবাহন কেনাসহ বিভিন্ন কারণে অর্থ সঞ্চয় করেন। এমনকি দেনা বা ঋণ পরিশোধের জন্যও অনেক অর্থ জমান।

আপনি চাইলে সঞ্চয়ের বিবরণী সংগ্রহ করতে পারবেন অ্যাপস থেকে। এই ডিপিএস থেকে মিলবে করছাড়ও। ২০২১ সালে বিকাশের ডিজিটাল সেভিংস বা সঞ্চয়ী সেবা কার্যক্রম শুরু হয়। তখন আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি ফাইন্যান্সের মাধ্যমে মাসিক ভিত্তিতে ডিপিএস সেবা চালু হয়। পরবর্তী সময়ে চারটি ব্যাংক কার্যক্রমে যুক্ত হয়। আর বিকাশ অ্যাপে সাপ্তাহিক ডিপিএস সেবা চালু হয় ২০২৪ সালের শুরুতে। এ ছাড়া ইসলামি শরিয়াহ্‌ অনুসারে সঞ্চয়ের জন্য সিটি ব্যাংক ও ঢাকা ব্যাংকের ইসলামিক ডিপিএস সেবাও চালু করেছে বিকাশ।

ডিপিএস খুলবেন যেভাবে
বিকাশ অ্যাপে সঞ্চয় অপশনে ক্লিক করে প্রথমেই ডিপিএস, না ইসলামিক ডিপিএস—কোনটা খুলবেন, সেটি চূড়ান্ত করুন। এরপর সাপ্তাহিক নাকি মাসিক, কোন ধরনের ডিপিএস খুলবেন—তা বাছাই করুন। এরপর মেয়াদ ও কোন প্রতিষ্ঠানে ডিপিএস করতে চান, তা ক্লিক করে এগিয়ে যেতে হবে। নমিনির ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার পর হিসাব খোলা হয়ে যাবে। হিসাবটি খোলা নিশ্চিত হলে আপনার মোবাইলে খুদে বার্তা আসবে।

অ্যাপে প্রতি সপ্তাহে জমা করা যায় ২৫০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর মাসিক সঞ্চয় হিসাবে ৫০০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত জমা করা যায়। সাপ্তাহিক ডিপিএস ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত মেয়াদ এবং মাসিক ডিপিএস ছয় মাস থেকে চার বছর পর্যন্ত মেয়াদে খোলা যায়।

শেয়ার করুন:-
শেয়ার