ক্যাটাগরি: জাতীয়

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পদক্ষেপের আহ্বান

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক ও স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে ডা. মোস্তফা-হাজেরা ফাউন্ডেশন।

রোববার (১০ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এই আহ্বান জানায় ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ক্যাপ্টেন একেএম গোলাম কিবরিয়া।

মিট দ্যা প্রেসে বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি চারটি সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। এগুলো হলো- রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম জোরদার করা; রোহিঙ্গা তরুণদের জন্য টেকসই শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা; রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক দায়িত্ব ভাগাভাগির কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ; রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের আন্তর্জাতিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পসমূহে দ্রুত অবনতিশীল স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ফাউন্ডেশন। এতে বলা হয়, বিষয়টি আর কেবল শরণার্থী সংকট নয়; এটি ধীরে ধীরে আঞ্চলিক ও জাতীয় জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকিতে পরিণত হচ্ছে।

ফাউন্ডেশন জানায়, ২০২৬ সালের ৫ থেকে ৭ মে পর্যন্ত কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্পে পরিচালিত তিন দিনের জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রমে তারা এক হাজার ৪০০ বেশি রোগীকে চিকিৎসা, ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তরুণদের শিক্ষার অভাব, দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব এবং কাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার অনুপস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ তরুণদের অপরাধচক্র, মাদকাসক্তি, মাদক ও মানবপাচার, সাইবার অপরাধ, উগ্রবাদ ও সামাজিক অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করে ফাউন্ডেশন।

ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা গোলাম কিবরিয়া বলেন, সংক্রামক রোগের বিস্তার, অপুষ্টি, দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা এবং অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা মিলিয়ে এমন এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে, যাকে বিশেষজ্ঞরা ‘জৈবিক টাইম বোমা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এটি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্যও হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ভাইরাস ও রোগের বিস্তার কোনো সীমান্ত মানে না। তাই শরণার্থী জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরাসরি বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও জাতীয় স্থিতিশীলতার সঙ্গে সম্পৃক্ত।

ক্যাপ্টেন গোলাম কিবরিয়া বলেন, ফাউন্ডেশনের বৈশ্বিক মানবিক উদ্যোগ ‘ফাইভ জিরো গ্লোবাল ক্যাম্পেইন’ স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করছে। এর মূল দর্শন ‘অনুদানের ঊর্ধ্বে মানবতা- শান্তি ও সমৃদ্ধির এক নতুন পথ’। মানবিক পরিবর্তন শুধু আর্থিক অনুদানের ওপর নির্ভর করতে পারে না; এর জন্য প্রয়োজন সরাসরি মানবিক অংশগ্রহণ, স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম এবং বৈশ্বিক সংহতি।

মিট দ্যা প্রেসে জানানো হয়, সম্প্রতি ফাউন্ডেশনের নেতারা জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মি. ভলকার তুর্ক-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের আওতায় রোহিঙ্গা মানবিক সহযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদি টেকসই সমাধান বিষয়ে যৌথ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছে। সেখানে আমরা চারটি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো হল- রোহিঙ্গা নির্যাতনে যারা জড়িততাদের বিচার করা, তাদের প্রত্যাবসন নিশ্চিত করা, ক্যাম্পের তরুণ প্রজন্ম কর্মকাণ্ডের ব্যবস্থা এবং এই কাজে পৃথিবীর সবাই মিলে কাজ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক পরিচালক (স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নয়ন) ডা. সুলতানা খানম, এমএইচ গ্লোবাল গ্রুপের একাডেমিক ডিরেক্টর রণজিত দস্তিদার প্রমুখ।

শেয়ার করুন:-
শেয়ার