ক্যাটাগরি: আন্তর্জাতিক

আড়ালে থেকেই ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করছেন মোজতবা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নে বলা হচ্ছে, জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকলেও দেশটির সামরিক ও কূটনৈতিক সিদ্ধান্তে এখনো প্রভাব বিস্তার করছেন তিনি।

গোয়েন্দা সূত্রগুলোর দাবি, যুদ্ধের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় গুরুতর আহত হন মোজতবা খামেনি। এরপর থেকেই তিনি কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে অবস্থান করছেন এবং সরাসরি কোনো ইলেকট্রনিক যোগাযোগ ব্যবহার করছেন না। তার নির্দেশ বিশ্বস্ত দূতদের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা করছে ওয়াশিংটন।

তবে ইরান সরকার এসব দাবিকে অতিরঞ্জিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, মোজতবা বর্তমানে সুস্থ আছেন এবং রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে তার দীর্ঘ বৈঠকের তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের মতে, ইরানের বর্তমান ক্ষমতা কাঠামো অনেকটাই বিভক্ত ও জটিল হয়ে উঠেছে। কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তা স্পষ্ট নয়। এ পরিস্থিতি চলমান যুদ্ধবিরতি ও সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমঝোতার পথকে আরও কঠিন করে তুলছে।

গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন গোষ্ঠী নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে মোজতবার নাম ব্যবহার করছে। ফলে বাস্তবে কতটা ক্ষমতা তার হাতে রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে সামরিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়লেও ইরান এখনো পুরোপুরি দুর্বল হয়নি বলে মনে করছে মার্কিন গোয়েন্দারা। তাদের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামোর বড় অংশ এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং যুদ্ধবিরতির সময় ব্যবহার করে সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে।

অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান। মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ইরান আপাতত পিছু হটার বদলে সময় নিয়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চাইছে।

বর্তমানে ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে অন্যতম প্রভাবশালী মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। কূটনৈতিক ও সামরিক, দুই ক্ষেত্রেই তার সক্রিয় ভূমিকা পশ্চিমা মহলে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আলোচনায়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছেন বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবা খামেনিকে ঘিরে ধোঁয়াশা যত বাড়ছে, ততই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তির চেষ্টা চালাচ্ছে, অন্যদিকে ইরান যুদ্ধ ও অবরোধ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি দ্রুত সমাধানের বদলে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার দিকেই যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: সিএনএন

শেয়ার করুন:-
শেয়ার