জাতীয়
১২ পুলিশ সুপারসহ ৩৯ কর্মকর্তাকে রদবদল
বাংলাদেশ পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। ১২টি জেলায় নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) নিয়োগসহ মোট ৩৯ জন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ রদবদলের আদেশ জারি করা হয়। আদেশটি জনস্বার্থে অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী-পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার রবিউল ইসলামকে নৌ পুলিশে, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা এপিবিএন-২ এর পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানকে পঞ্চগড়ে, বান্দরবানের পুলিশ সুপার আবদুর রহমানকে আরএমপির উপপুলিশ কমিশনার, এসবির (ঢাকা) পুলিশ সুপার ওহাবুল ইসলাম খন্দকারকে বান্দরবানে, জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদাকে ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার, ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজির পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগমকে জয়পুরহাটে, পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদকে এসবিতে, এসবির (ঢাকা) পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহকে পাবনার পুলিশ সুপার, নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলামকে ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার, শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন খাঁনকে নীলফামারীতে এবং নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদারকে ট্যুরিস্ট পুলিশে বদলি করা হয়েছে।
এছাড়া ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামীকে নড়াইলে, সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েলকে এপিবিএনের পুলিশ সুপার, রাজশাহীর সারদার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলমকে সাতক্ষীরায়, চাঁদপুরের পুলিশ সুপার রবিউল হাসানকে ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার, ঝালকাঠির পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানকে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার, সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদারকে ঝালকাঠির পুলিশ সুপার, মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনকে নৌ পুলিশ সুপার, আরএমপির উপপুলিশ কমিশনার রিয়াজুল ইসলামকে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁনকে এপিবিএনের পুলিশ সুপার, ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মাসুদ আলমকে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার, ফেনীর পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলামকে পুলিশ সদরদফতরের এআইজি এবং সিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানকে ফেনীর পুলিশ সুপার করা হয়েছে।
এদিকে আরেক প্রজ্ঞাপনে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মুশফেকুর রহমানকে পুলিশ অধিদফতরের ডিআইজি, আরএমপির পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) জিল্লুর রহমানকে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, এসবির (ঢাকা) ডিআইজি মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরকে আরএমপির কমিশনার (ডিআইজি), বরিশালের পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলামকে ট্যুরিস্ট পুলিশের ডিআইজি, পুলিশ অধিদফতরের (ঢাকা) ডিআইজি আশিক সাঈদকে বরিশালের পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি), ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) এস এন মো. নজরুল ইসলামকে সিআইডির ডিআইজি, সিআইডির (ঢাকা) ডিআইজি আবুল বাশার তালুকদারকে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিআইজি), ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (বর্তমানে ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) সানা শামীনুর রহমানকে সিআইডির ডিআইজি, সিআইডির ডিআইজি মোহাম্মদ শামসুল হককে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি), উপসচিব পদ থেকে প্রত্যাগত ড. শাহেদুল আকবর খানকে এসবির (ঢাকা) বিশেষ পুলিশ সুপার, ১৩ এপিবিএনের পুলিশ সুপার ড. এলিজা শারমীনকে পুলিশ অধিদফতরের পুলিশ সুপার (টিআর পদে), ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমানকে এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার, এপিবিএনের পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলমকে এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার, ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মোর্শেদ আলমকে কেএমপির উপপুলিশ কমিশনার, ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়াকে কেএমপির উপপুলিশ কমিশনার এবং এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত সাজেদুর রহমানকে ডিএমপির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার) পদে বদলি করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রশাসনিক ও জনস্বার্থ বিবেচনায় এই ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে।
জাতীয়
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে দক্ষিণ কোরিয়ায় যাচ্ছেন ইসির ৩ কর্মকর্তা
দক্ষিণ কোরিয়ায় যাচ্ছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তিন কর্মকর্তা। মূলত দেশটির স্থানীয় নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কর্মসূচিতে’ অংশ নিতে এই সফরে যাচ্ছেন তারা।
গত ৪ মে নির্বাচন কমিশনের উপ-সচিব জিএম শাহাতাব উদ্দীনের স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, আগামী ২৯ মে থেকে ৫ জুন একযোগে অনুষ্ঠেয় দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পর্যবেক্ষণের জন্য তিন কর্মকর্তাকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তারা হলেন- ইসির উপসচিব মো. হুমায়ুন কবীর, চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমেদ ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইস) এ এম এম নাসির উদ্দিনের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আশ্রাফুল আলম।
এই কর্মকর্তাদের সমস্ত ব্যয় বহন করবে কোরিয়ার জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তারা ২৭ মে দেশত্যাগ করে ফিরবেন ৭ জুন।
জাতীয়
বাংলাদেশে তুর্কি বিনিয়োগ বাড়াতে বিডা–তুরস্কের বৈঠক
বাংলাদেশে তুর্কি বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
রোববার (১০ মে) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিডা কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, তুর্কি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। অনেক বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে এসে সম্ভাবনা যাচাই করছেন।
আলোচনায় বাংলাদেশে তুর্কি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং চলমান আগ্রহকে আরও বিনিয়োগে রূপান্তরের উপায় নিয়ে মতবিনিময় হয়।
এ সময় রাষ্ট্রদূত সেন বলেন, দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ দরকার। এর মধ্যে সরকারি-বেসরকারি খাতের পারস্পরিক সফরও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি তুরস্কের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকেন্দ্র-গাজিয়ানতেপ, দেনিজলি এবং কোকায়েলি-ইজমিত-এর কথাও উল্লেখ করেন।
টেক্সটাইলসহ আরও বিভিন্ন খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো বুঝতে এসব জায়গা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বৈঠকে বাংলাদেশে তুর্কি বিনিয়োগের বিদ্যমান আইনি কাঠামো নিয়েও কথা হয়। একইসঙ্গে কোচ গ্রুপের আইগ্যাস (@aygazunited) ও আর্চেলিকের (Singer Bangladesh Limited) মতো সফল বিনিয়োগের উদাহরণ এবং বাংলাদেশে প্রবেশের সম্ভাবনা যাচাই করছে এমন বড় তুর্কি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ও আলোচনায় আসে, যাদের সঙ্গে বিডা বর্তমানে কাজ করছে।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, বাণিজ্য ও সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ উভয় ক্ষেত্রেই তুরস্ক বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাজার। দুই দেশের মধ্যে যে সুস্পষ্ট মিল ও সম্ভাবনা রয়েছে, তা বিবেচনায় নিলে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য দুটোর পরিমাণই আরও বেশি হওয়া উচিত।
অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করে আরও লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবসায়িক আউটরিচ গড়ে তুলতে বিডার তুরস্ক ডেস্ক, দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।
জাতীয়
বাংলাদেশ থেকে পোশাক-চামড়াজাত পণ্য নিতে আগ্রহী ইতালি
বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো।
রবিবার (১০ মে) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়।
বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, খাদ্যপণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যসহ বিভিন্ন মানসম্পন্ন পণ্য আমদানিতে গভীরভাবে আগ্রহী ইতালি।
এ সময় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন নতুন ক্ষেত্র নিয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
পাশাপাশি, বাংলাদেশের শিল্পখাতের আধুনিকায়নে ভূমিকা রাখতে ইতালির দূতাবাসের পক্ষ থেকে আধুনিক প্রযুক্তি ও শিল্প-কারখানায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি (মেশিনারিজ) ইতালি থেকে ক্রয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে দুই দেশের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব পায়। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশে ইতালির খ্যাতনামা ফুটবল ক্লাবগুলোকে সফর ও প্রীতি ম্যাচ খেলার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
একইসঙ্গে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ (পিপল টু পিপল কন্টাক্ট) বৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদারের ওপরও জোর দেওয়া হয়।
এছাড়া, নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন ব্যবস্থাপনা আরও সহজতর করতে বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে চলমান সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন তারা।
বৈঠকে উভয়পক্ষই বাংলাদেশ-ইতালি সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্য, সামরিক, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও অভিবাসন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় বৈঠকে ইতালির মিশনের উপ-প্রধান ফেদেরিকো জাম্পারেল্লি উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয়
মেগা প্রকল্পের বদলে সামাজিক সুরক্ষায় অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার : অর্থমন্ত্রী
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান সরকার মেগা প্রকল্পের তুলনায় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর মানদণ্ড বা বেঞ্চমার্ক নির্ধারণ করেছে। প্রতিটি প্রকল্পের ক্ষেত্রে বিনিয়োগের রিটার্ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির সক্ষমতা এবং পরিবেশগত প্রভাবকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রোববার (১০ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ ভবনে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফ চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। বক্তব্য রাখেন, বিশেষ অতিথি হিসেবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক এবং পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: ফজলুল কাদের।
পিকেএসএফ জানায়, দেশের অনানুষ্ঠানিক খাতের উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংক ও পিকেএসএফ-এর যৌথ অর্থায়নে আরএআইএসই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির আওতায় এ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার কর্মহীন তরুণকে প্রশিক্ষণ ও ঋণ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। প্রকল্পের অভাবনীয় সাফল্যে পিকেএসএফ এটির সম্প্রসারণ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ বর্ধিত প্রকল্পের আওতায় ২ লাখ তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে দক্ষতা উন্নয়ন ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
আমির খসরু বলেন, বিগত দিনের দুর্নীতি ও অপচয়ের পরিপ্রেক্ষিতে এখন থেকে যে কোনো প্রকল্প হাতে নেয়ার আগে তার ভ্যালু, রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট, কর্মসংস্থান সৃষ্টির সক্ষমতা এবং পরিবেশগত প্রভাবকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকারি টাকা মানেই জনগণের ট্যাক্সের টাকা, তাই প্রতিটি প্রকল্পের পেছনে সুনির্দিষ্ট চিন্তাভাবনা, আউটপুট এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে থাকা প্রায় ১৩ শ’ প্রকল্পের অনেকগুলোতেই কোনো রিটার্ন বা কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই এবং পরিবেশগত দিক বিবেচনা করা হয়নি বলে সেগুলো সরকার বাতিল করা হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল স্লোগান হলো অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ বা ডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমি। শুধু রাজনীতিতে গণতন্ত্র থাকলে চলবে না, অর্থনীতিতেও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
ডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমির তিনটি প্রধান স্তম্ভের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথমত, বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, অর্থনীতির সুফল বা বেনিফিট সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া এবং তৃতীয়ত যারা সবসময় অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বাইরে ছিল তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা। যদিও বাংলাদেশে এই কাজ করা অত্যন্ত কঠিন, তবুও সরকার সাহসের সাথে এই পথেই এগোচ্ছে। সরকার এখন মেগা প্রকল্পের বদলে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। যাতে বিশেষ গোষ্ঠীর বদলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হয় বলে জানান তিনি।
সামাজিক ক্ষমতায়নের উদাহরণ দিতে গিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ফ্যামিলি কার্ডের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পরিবারের নারীরা সারাদিন কাজ করলেও তাদের যথাযথ স্বীকৃতি থাকে না। সরকার এখন ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি নারীদের হাতে টাকা পৌঁছে দিচ্ছে, যাতে পরিবার ও সমাজে তাদের ক্ষমতায়ন ঘটে। নারীরা সাশ্রয়ী এবং তারা জানেন কিভাবে সংসার চালাতে হয়। এই নগদ অর্থ লোকাল ইকোনমিতে ডিমান্ড তৈরি করবে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করবে। একইভাবে কৃষকদের জন্য সরাসরি কার্ডের মাধ্যমে সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে যাতে তারা বীজের মতো মৌলিক চাহিদাগুলো অনায়াসেই মেটাতে পারেন।
অর্থমন্ত্রী সংস্কৃতি ও ক্রীড়া খাতকেও জিডিপিতে কন্ট্রিবিউট করার মতো শক্তিশালী শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেন। তিনি বলেন, থিয়েটার বা স্টেডিয়ামে মানুষ যখন টিকিট কেটে খেলা দেখতে যায়, তখন সেটিও জিডিপির অংশ। ইউকের থিয়েটার ডিস্ট্রিক্টের মতো আমাদের দেশেও লাইটম্যান, মেকাপম্যান এবং ডিজাইনারদের সমন্বয়ে একটি বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গড়ে তোলা সম্ভব।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া অর্থনৈতিক বোঝা বয়ে নিয়েও বর্তমান সরকার দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বপ্ন বাস্তবায়ন কোনো একটি দলের নয় বরং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিষয়।
পিকেএসএফের কার্যক্রম সরকারের দর্শনের সাথে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ হওয়ায় এই প্রতিষ্ঠানকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
জাতীয়
পুলিশের যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণ করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক ও জনকল্যাণমুখী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার (১০ মে) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ মিলনায়তনে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কল্যাণ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অনেক পুলিশ কনস্টেবল ৪০ বছর চাকরি করে অবসর গ্রহণ করলেও পরবর্তী পদোন্নতি পান না। এ কারণে বিশেষ নীতিমালা ও সন্তোষজনক চাকরির রেকর্ড বিবেচনায় অবসরকালীন সময়ে কিছুসংখ্যক পুলিশ সদস্যকে কনস্টেবল থেকে অনারারি সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই), সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) থেকে অনারারি উপপরিদর্শক (এসআই) এবং উপপরিদর্শক (এসআই) থেকে অনারারি পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) পদে পদোন্নতি দেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, পুলিশের কাজকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের জন্য বিশেষ নীতিমালার ভিত্তিতে ওভারটাইম ভাতা চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। এটি ইন্সপেক্টর থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত সব স্তরের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে এবং এতে তাদের মনোবল ও সেবার মান বাড়বে।
দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের কারণে পুলিশ সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। এ লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালগুলোকে আধুনিকায়ন করা হবে এবং প্রয়োজনে আরও উন্নত হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের ভবন, কার্যালয় নির্মাণ এবং আবাসন সংকট দূরীকরণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এ জন্য ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করা অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিগত দুই মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে অপরাধের ধরন ও প্রকৃতি পরিবর্তন হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আধুনিক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা ছাড়া পুলিশের পক্ষে অপরাধ দমনে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়।




