গত ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) তার সঙ্গে আর চুক্তি নবায়ন না করায় আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয় তার অধ্যায়। বাংলাদেশ অধ্যায় শেষ হওয়ার পর এবার ক্যাবরেরা আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন।
২০২২ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়া এই স্প্যানিশ কোচের অধীনে বাংলাদেশ ৩৯টি ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে জয় ও ড্র ১০টি করে এবং হার ১৯টি। তার অধীনে দলটি ভুটান ও মালদ্বীপের বিপক্ষে তিনটি করে জয়, কম্বোডিয়ার বিপক্ষে দুটি এবং সিশেলস ও ভারতের বিপক্ষে একটি করে জয় পায়।
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পর এবার বিদায়ী পোস্টে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করলেন। বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে লম্বা সময় ধরে থাকা প্রধান কোচ তিনি। তার অধীনে ১৪ বছরে প্রথমবার সাফের সেমিফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ। দুই দশকেরও বেশি সময় পর ভারতকে হারানোর মতো সাফল্যও আছে তাদের, যা গর্বিত করেছে স্প্যানিশ কোচকে।
ক্যাবরেরা লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে আমার পথচলা শেষ হলো। চার বছর ও চার মাস পর, জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘতম, আমি এমন অবিস্মরণীয় স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা নিয়ে বিদায় নিচ্ছি, যার প্রতিটি মুহূর্ত সার্থক ছিল।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমরা মাঠে ও মাঠের বাইরে অনেক লম্বা পথ চলেছি। হাজারো ভক্তের সামনে খেলা থেকে শুরু করে দর্শকে ঠাসা স্টেডিয়ামগুলোতে অবিস্মরণীয় রাত, এমন সব মুহূর্ত তৈরি হয়েছে যেগুলো সবসময় বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে।’
লম্বা পোস্টে তার আরও কথা, ‘একসঙ্গে আমরা দৃঢ় পরিচিতি ও প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা তৈরি করেছি, যার মাধ্যমে আমরা মহাদেশের শক্তিশালী জাতীয় দলগুলোর বিপক্ষে ধারাবাহিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। ১৪ বছর পর সাফ সেমিফাইনালে ওঠা, ২২ বছরে প্রথমবার ভারতকে হারানো এবং ২০১৬ সালের পর ফিফার সর্বোচ্চ র্যাংকিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু মাইলফলক আমরা ছুঁয়েছি।’
ক্যাবরেরার দাবি, তার অধীনেই বাংলাদেশের ফুটবলের শক্ত ভিত তৈরি হয়েছে। তিনি বললেন, ‘বিশেষ করে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আমরা যে পথ তৈরি করেছি, তার জন্য আমি গর্বিত। এই সময়ে ২১ জন অনূর্ধ্ব-২৩ খেলোয়াড়ের অভিষেক হয়েছে, যারা এশিয়ার অন্যতম তরুণ জাতীয় দল প্রতিষ্ঠা করেছে এবং ভবিষ্যতের জন্য শক্ত ভিত তৈরি করেছে।’