ক্যাটাগরি: ধর্ম ও জীবন

সাঈদ ইবনে জায়েদ (রা.)-এর জীবনবৃত্তান্ত

ইসলামের ইতিহাসে এমন কিছু নাম আছে, যাদের অবদান নীরব হলেও অনস্বীকার্য। তেমনই একজন মহান সাহাবি হলেন সাঈদ ইবনে জায়েদ (রা.)। তিনি জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহান দশ সাহাবিদের অন্যতম। তিনি ইসলামের একেবারে সূচনালগ্নে ইসলাম গ্রহণকারীদেরও একজন।

যে সময় সত্যকে গ্রহণ করা মানেই ছিল কঠিন পরীক্ষা ও নির্যাতনের সম্মুখীন হওয়া। ঠিক সেই সময়েই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। তখনও মহানবী (সা.) দাওয়াতের কেন্দ্র-দারুল আরকাম-প্রতিষ্ঠা করেননি। তবে তার এই ইসলাম গ্রহণ এত সহজ ছিল না। কিন্তু সত্যের পথে অটল থাকার দৃঢ়তা তাকে কখনো বিচলিত করতে পারেনি।

যদিও তিনি বদরের যুদ্ধে অংশ নিতে পারেননি, তবে এর বাইরে প্রায় সকল গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে তিনি উপস্থিত ছিলেন। উহুদ, খন্দকসহ অন্যান্য অভিযানে তিনি নবীজীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছেন। শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই নয়, জ্ঞানচর্চাতেও তিনি ছিলেন অগ্রগণ্য।

মহানবী (সা.) থেকে প্রায় ৪৮টি হাদিস বর্ণনা করেছেন, যা ইসলামী জ্ঞানভাণ্ডারে মূল্যবান সংযোজন। তিনি কুরাইশ গোত্রের প্রসিদ্ধ বংশ কাব ইবনে লুআই বংশোদ্ভূত। পারিবারিকভাবেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত মর্যাদাবান। তিনি ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর চাচাতো ভাই এবং একই সঙ্গে তার ভগ্নিপতি। তিনি বিবাহ করেছিলেন ফাতিমা বিনতে খাত্তাব (রা.)-কে, যিনি ওমর (রা.)-এর বোন।

আবার ওমর (রা.) বিবাহ করেছিলেন তার বোন আতিকা বিনতে জায়েদকে-এভাবে তাদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। আর ওমর (রা.) তাঁর এই ভগ্নিপতির কোরআন তিলাওয়াতে প্রভাবিত হয়েই ইসলাম গ্রহন করেছিলেন। যে ঘটনা ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

তার পিতা জায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফায়েল ছিলেন জাহেলিয়াত যুগের সেই বিরল মানুষদের একজন, যারা একত্ববাদে বিশ্বাসী ছিলেন। ইবরাহিম (আ.)-এর ধর্ম অনুসরণ করতেন এবং মূর্তিপূজাকে ঘৃণা করতেন। তিনি কখনো মূর্তির উদ্দেশ্যে উৎসর্গকৃত খাবার গ্রহণ করতেন না। নিজের সম্প্রদায়কে তিনি বলতেন, ‘হে কুরাইশ! আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে উৎসর্গ করা কিছু আমি খাব না। আমি ইবরাহিমের ধর্মে আছি।’ পিতার এই সত্যনিষ্ঠতাই সাঈদ (রা.)-এর জীবনেও গভীর প্রভাব ফেলেছিল।

তবে বিশিষ্ট এই সাহাবির ইন্তিকালের বছর নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে কিছু মতভেদ আছে। কেউ বলেন ৫০ হিজরি, কেউ বলেন ৫২, আবার কেউ বলেন ৫৮ হিজরি। তবে এ বিষয়ে সকলেই একমত যে তিনি সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে জীবন অতিবাহিত করে দুনিয়া ত্যাগ করেন। তবে তাঁর জীবন আমাদের শেখায়, সত্যকে গ্রহণ করতে হলে সাহস লাগে, আর সেই সাহসই একজন মানুষকে ইতিহাসে অমর করে তোলে।(তারিখে তবারি, সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং : ৩৭৪৮)

শেয়ার করুন:-
শেয়ার