ভ্যাট সংক্রান্ত জটিলতা ও হয়রানির অভিযোগ তুলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, বিদ্যমান ভ্যাট আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা অযাচিত চাপ ও হয়রানির মুখে পড়ছেন।
শনিবার (২ মে) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বারভিডার মহাসচিব রিয়াজ আহমেদ খান বলেন, ব্যবসায়ীরা সৎভাবে ব্যবসা করতে চান, কিন্তু বাস্তবে তারা নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন। তার অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে ভ্যাট কর্মকর্তারা আইন না মেনে নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
তিনি বলেন, ভ্যাট ব্যবস্থাপনায় সৃষ্ট সমস্যার কারণে অনেক ব্যবসায়ী হতাশ হয়ে পড়েছেন এবং কেউ কেউ ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভাবছেন। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বারভিডার সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান খান চট্টগ্রামের পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, সেখানে অস্বাভাবিক হারে ভ্যাট অডিট পরিচালনা করা হচ্ছে। তার দাবি, প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবসায়ীকে অডিটের আওতায় আনা হয়েছে, যা কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়।
তিনি আরও বলেন, বহু বছর আগের হিসাব চাওয়ায় ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়ছেন। বিশেষ করে করোনা মহামারির সময় নথিপত্র সংরক্ষণে সীমাবদ্ধতা থাকায় এখন সেই সময়ের তথ্য সরবরাহ করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।
বারভিডার সভাপতি আবদুল হক আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপলক্ষে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি জ্বালানি সাশ্রয়ী হাইব্রিড ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ওপর শুল্ক কমানো, গণপরিবহন হিসেবে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসের সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার এবং রিকন্ডিশন্ড ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানিতে কর কমানোর দাবি জানান।
তার মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হলে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়বে, জ্বালানি ব্যয় কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ হ্রাস পাবে। পাশাপাশি বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা অত্যন্ত জরুরি। প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়িত হলে দেশের পরিবহন খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।