ক্যাটাগরি: জাতীয়

গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য: প্রধানমন্ত্রী

গণতন্ত্রকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে রাষ্ট্রে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার ছাড়া কোনো রাষ্ট্র প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক হতে পারে না।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময়ের স্বৈরশাসনের অবসানের পর দেশ আবার গণতন্ত্রের পথে এগোচ্ছে। এই অগ্রযাত্রাকে টেকসই করতে হলে সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে, বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের জন্য।

তিনি জানান, কোনো নাগরিক যেন অর্থের অভাবে আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই সরকার লিগ্যাল এইড কার্যক্রম জোরদার করেছে। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধি-বিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে এবং দরিদ্র মানুষের জন্য আইনি সহায়তা সহজলভ্য করতে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

ন্যায়বিচারকে কেবল আদালতের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে রাষ্ট্রীয় নীতি ও সিদ্ধান্তে প্রতিফলনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিচারব্যবস্থা কেবল প্রক্রিয়া নয়, এটি একটি নৈতিক প্রতিশ্রুতি, যা মানুষের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করে।

বিচার বিম্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিচার দেরিতে পাওয়া মানেই বিচার না পাওয়া।’ এ বাস্তবতা মাথায় রেখে আদালতের বাইরে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার ফলে কম সময়ে ও কম খরচে অনেক বিরোধ মীমাংসা সম্ভব হচ্ছে এবং আদালতের চাপও কমছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক আইনি পরামর্শ না পাওয়ার কারণে অনেক ছোট বিরোধ বড় আকার ধারণ করে। এ ক্ষেত্রে লিগ্যাল এইড হেল্পলাইনকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কারাগারে থাকার সময় তিনি দেখেছেন অনেক মানুষ কেবল আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে দীর্ঘদিন বিচারবিহীন অবস্থায় বন্দি থাকেন, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য কাম্য নয়।

অনুষ্ঠানে সেরা প্যানেল আইনজীবী হিসেবে ঢাকার সায়েম খান ও রাজশাহীর নীলিমা বিশ্বাস সম্মাননা পান। এছাড়া লিগ্যাল এইড কার্যক্রমে অবদানের জন্য বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাককে সম্মাননা দেওয়া হয়, যা গ্রহণ করেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ।

অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন:-
শেয়ার