পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির নিরীক্ষায় অবহেলা ও সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তিনটি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট চার্টার্ড একাউন্ট্যান্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান রিং শাইন টেক্সটাইল লিমিটেড এবং ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স-এর আর্থিক প্রতিবেদনে বড় ধরনের অসংগতি থাকা সত্ত্বেও ‘স্বচ্ছ’ নিরীক্ষা মতামত দেওয়ার কারণে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, মাহফেল হক অ্যান্ড কোম্পানি ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ২০১৮ সালের হিসাব নিরীক্ষার সময় জমি ক্রয় ও এফডিআর সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি উপেক্ষা করেছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে এক বছরের জন্য এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদার মো. আবু কায়সারকে দুই বছরের জন্য তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের নিরীক্ষা কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
একইভাবে, রিং শাইন টেক্সটাইলের ২০১৮ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে বিভিন্ন সূচকে জালিয়াতি শনাক্তে ব্যর্থ হওয়ায় ওই নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে তিন বছরের জন্য এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদার মো. আব্দুস সাত্তারকে পাঁচ বছরের জন্য নিরীক্ষা কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছে। তবে কমিশন জানিয়েছে, আদেশ জারির আগে চলমান নিরীক্ষাগুলো তারা সম্পন্ন করতে পারবে।
এছাড়া রিং শাইন টেক্সটাইলের ২০১৯ সালের নিরীক্ষায় নগদ প্রবাহ ও শেয়ার মানি ডিপোজিট সংক্রান্ত গুরুতর তথ্য গোপনের প্রমাণ পাওয়ায় আতা খান অ্যান্ড কোম্পানিকে তিন বছরের জন্য বিএসইসির অডিটর প্যানেল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অংশীদার মকবুল আহমেদকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২০ সালের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক অডিটিং মানদণ্ড লঙ্ঘনের দায়ে শিরাজ খান বসাক অ্যান্ড কোম্পানিকে তিন বছরের জন্য এবং এর অংশীদার রামেন্দ্র নাথ বসাককে পাঁচ বছরের জন্য অডিটর প্যানেলে অন্তর্ভুক্তির অযোগ্য ঘোষণা করেছে কমিশন।