জুলাই সনদের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং জনগণের ম্যান্ডেট পূরণ করতে হলে সংবিধান সংশোধন অনিবার্য বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি। বর্তমান সরকারের সামনে এ ছাড়া কার্যকর কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় অন্যান্য চারজন হুইপও উপস্থিত ছিলেন।
চিফ হুইপ বলেন, এবারের নির্বাচনে বিজয়ী প্রতিনিধিদের প্রধান লক্ষ্য হলো জুলাই সনদের প্রতিটি শর্ত হুবহু বাস্তবায়ন করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নীতি তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষের খাদ্য নিশ্চিত করা এবং কামার, কুমার, তাঁতী, স্বর্ণকারসহ সব পেশার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই সরকারের মূল দর্শন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, যদি মানুষের কাজ না থাকে এবং কেউ না খেয়ে থাকে, তাহলে সেই রাষ্ট্রের সাফল্য কোথায়?
তিনি আরও বলেন, মানুষের মৌলিক চাহিদার মধ্যে অন্নই প্রথম। এই চাহিদা পূরণে গণতান্ত্রিক পরিবেশ অপরিহার্য। গণতন্ত্র ও সামাজিক স্থিতিশীলতা থাকলে মানুষ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে। অন্যথায় সমাজের সব স্তরের মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, স্বাধীনতার পর এক সময় দেশে দমন-পীড়নের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যখন বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ছিল না এবং সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল।
তিনি দাবি করেন, সেই পরিস্থিতি থেকে দেশকে বের করে এনে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়াও অর্থনীতি ও গণতন্ত্র পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখেন। তবে গত দেড় দশকে দেশের গণতন্ত্র ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে সংসদ ১১৫ নম্বর অনুচ্ছেদসহ ১৫৩টি অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনও এই সংবিধানের আওতায় শপথ নিয়েছে। তবে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংবিধান সংশোধন জরুরি।
তিনি জানান, সংসদে বর্তমানে ২২০ জন নতুন সদস্য রয়েছেন, যাদের সংসদীয় কার্যক্রমে দক্ষ হতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে বিরোধী দলের অনেক যোগ্য সদস্যের গঠনমূলক অংশগ্রহণের মাধ্যমে কমিশন ও সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, মাত্র দুই মাস ১২ দিনের মধ্যেই সরকার বিভিন্ন খাতে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে। ১০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ, কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড চালুর মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া অল্প সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে কাজ করাও একটি বড় অর্জন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে চিফ হুইপ বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান।
এমএন