মাদক সদৃশ বস্তু সেবনের ছবি ভাইরাল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নেতার

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুবাশ্বির আমিনের মাদক সদৃশ বস্তু সেবনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ছবিটিকে ‘বন্ধুদের সঙ্গে অভিনয়ের দৃশ্য’ বলে দাবি করেছেন ওই ছাত্রনেতা।

রোববার (২৬ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “৩৬ দিনে খুনি হাসিনা ভারতে পালিয়েছিল, ৩৬ ঘণ্টাও লাগবে না লন্ডনে পালাতে” শিরোনামে মুবাশ্বির আমিনের একটি ভিডিও বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওর মন্তব্যের ঘরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান হাফিজ একটি ছবি পোস্ট করেন।

ছবিতে দেখা যায়, মুবাশ্বির আমিনের মুখে মাদক সেবনের মতো একটি বস্তু, হাতে লাইটার ও কাগজ রয়েছে। ছবির ক্যাপশনে হাফিজ লেখেন, খাওয়া শেষে বেচে থাকিস, বহুত হিসাব দেওয়া লাগবে। তুই আর তোর বাপের পালানোর সুযোগ নাই এইটুকু মাথায় ঢুকায়ে রাখ, কত হুমকি দেওয়া লোক তুই বুঝতে পারবিনি।

এবিষয়ে ইবি থানায় জিডি করেছেন ওই ছাত্র নেতা। জিডির সূত্রে, বিবাদীগণ অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র এবং ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল ২৬ এপ্রিল (২০২৬) দুপুরে আমি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার শাহ আজিজুর রহমান হলে অবস্থানকালে লক্ষ করি যে ১নং বিবাদী তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি থেকে আমার নামে বিভিন্ন ধরনের কুটুক্তিমূলক কথাবার্তা সহ প্রাণনাশের হুমকী প্রদান করে ফেসবুকে পোস্ট করেছে। কিছুক্ষণ পর দেখি যে, ৩নং বিবাদী শাহিন আলম তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি থেকে আমার নানা রকম অপ্রচার সহ হুমকী প্রদান করে পোস্ট করেছে। ২নং বিবাদী সাব্বির খান তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি থেকে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে কমেন্ট করেছে। বর্তমানে আমি বিবাদীদের ভয়ে আতংকে দিন কাটাচ্ছি।

বিষয়টি জানতে চাইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মুবাশ্বির আমিন বলেন, ২০২৩ সালের শেষের দিকে সেকেন্ড ইয়ারে পড়াকালীন শহীদ জিয়া হলে একটি অভিনয়ের দৃশ্য থেকে তোলা ছবিকে বিকৃতভাবে ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। এটি কোনো মাদকসংক্রান্ত বিষয় নয় বরং র‍্যাগিং সংস্কৃতির অংশ হিসেবে করা একটি অভিনয় ছিল। অতীতে এ ছবি দিয়ে আমাকে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রক্টরের কাছে অভিযোগ দিব। থানায় একটা জিডি করেছি। বাকিটা তারা দেখবেন।

জিডি সম্পর্কে জানতে চাইলে ইবি থানার ওসি মাসুদ রানা বলেন, ওই শিক্ষার্থী জিডি করে গেছে। আমরা উর্ধ্বতন কর্মকতার অনুমতি সাপেক্ষে তদন্ত করে দেখব। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এমএন/এমএসএ

শেয়ার করুন:-
শেয়ার