ক্যাটাগরি: জাতীয়

অব্যবহৃত ২০০ ভবনে হবে হাসপাতাল-মাতৃসদন, সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা

শহরের অব্যবহৃত ২০০টি বহুতল ভবন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করে দ্রুত হাসপাতাল ও মাতৃসদন ক্লিনিকে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে এসব ভবন জনস্বাস্থ্যের উপযোগী করে তোলা হবে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরবান এলাকায় পড়ে থাকা সরকারি ২০০টি বহুতল ভবন বর্তমানে কোনো কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে না। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে এসব ভবন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আগামী মাস দুয়েকের মধ্যে মাতৃসদন ক্লিনিকসহ স্বাস্থ্যসেবায় এই ভবনগুলো ব্যবহারের উপযোগী করা হবে।”

এ সময় পূর্ববর্তী সরকারগুলোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচার ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা আমদানিতে অবহেলার কারণে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। বর্তমান সরকার দ্রুত ইউনিসেফ থেকে টিকা সংগ্রহ করেছে এবং প্রায় দুই কোটি শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। কিট সংকটের দ্রুত সমাধানের আশ্বাসও দেন সরকারপ্রধান।

কৃষি খাতে প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগাতে বড় উদ্যোগের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কৃষকদের উৎপাদন বাড়াতে পর্যায়ক্রমে ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে বিশেষ কার্ড দেয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা একসঙ্গে ১০টি সেবা পাবেন। ফলে কৃষি প্রণোদনা নিতে আর দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে জেলা শহরে যেতে হবে না, কার্ডেই সব সুবিধা মিলবে।

কৃষিখাতে সরকারের অন্যান্য পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আধুনিক সেচ ব্যবস্থাপনায় আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে।

কৃষি যন্ত্রপাতিতে ভর্তুকি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের বিশেষ প্রণোদনা দেয়া হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া ন্যানো সারের ব্যবহার ও আধুনিক কোল্ডস্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জনপ্রতিনিধিদের বিলাসিতা পরিহারের এক বিরল দৃষ্টান্ত ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সংসদ সদস্যরা ট্যাক্স-ফ্রি (শুল্কমুক্ত) গাড়ি এবং সরকারি প্লট সুবিধা নেব না।’ এ বিষয়ে আগের দিনের বিভ্রান্তি দূর করে তিনি জানান, ব্যক্তিগত মালিকানার পরিবর্তে সরকারি কার্যপরিচালনার জন্য প্রয়োজনে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করা যাবে, তবে তা ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে নয়। বর্তমানে গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যে ৭০ হাজার টাকা দেয়া হয়, সেটিই বহাল থাকবে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য বড় সুখবর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে ২ লাখ শিশুকে বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস, পাটের ব্যাগ ও জুতা দেয়া হবে। উন্নত ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টাকারী ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য চিফ হুইপের দাবির সঙ্গে সহমত পোষণ করেন প্রধানমন্ত্রী ও পুরো সংসদ।

এমএন

শেয়ার করুন:-
শেয়ার