চাল আমদানিতে শুল্ক কমলো ১০ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২১-০১-০৮ ১৪:৩৪:৪৪

লাগামহীন বাজার নিয়ন্ত্রণে চাল আমদানিতে ১০ শতাংশ শুল্ক কমানোর পাশাপশি যাবতীয় রেগুলেটরি ডিউটি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) অর্থমন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, চাল আমদানিতে শুল্ক ২৫ শতাংশ হতে ১০ শতাংশ এবং শর্ত সাপেক্ষে সমুদয় রেগুলেটরি ডিউটি থেকে অব্যাহতি দেয়া হলো। এ প্রজ্ঞাপনের আওতায় রেয়াতি হরে চাল আমদানির শর্ত হচ্ছে, এ জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত কমপক্ষে যুগ্মসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তার কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নিতে হবে। এ প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে কার্যকর হয়ে ২০২১ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বহাল থাকবে।

এদিকে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে গত তিনদিনে ২৯টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ ৩০ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। গত রোব, সোম ও মঙ্গলবার এসব চাল আমাদানির অনুমতি দিয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এবার আমন মৌসুমে মোটা চালের দাম ৫০ টাকা ছুঁয়েছে। চালের দাম দুর্ভোগে ফেলেছে সাধারণ মানুষকে। এই পরিস্থিতিতে গত ২৭ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনে চাল আমদানির শুল্ক ৬২ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করার ঘোষণা দেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

শুল্ক কমিয়ে নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় চাল আমদানির কথাও ওইদিন জানিয়েছিলেন খাদ্যমন্ত্রী। পরে চাল আমদানি করতে ইচ্ছুক ব্যবসায়ীদের আবেদন করার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এই আবেদনের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ জানুয়ারি। আবেদন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে অনুমতিও দিয়ে দিচ্ছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে সরকারি পর্যায়েও (জি-টু-জি) চাল কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ ভাঙ্গা দানাবিশিষ্ট বাসমতি নয় এমন সিদ্ধ চাল শর্তসাপেক্ষে আমদানির জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে বলে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার বগুড়ার মেসার্স এবি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ১০ হাজার টন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মেসার্স নজরুল সুপার রাইস মিল ১০ হাজার টন, সাতক্ষীরার মেসার্স নিশাত ইন্টারন্যাশনাল ১৫ হাজার টন, চট্টগ্রামের আল আমিন এস্টাব্লিশমেন্ট ৫ হাজার টন, মেসার্স সামছুল আলম ১০ হাজার টন, মেসার্স এস অ্যান্ড কোং ১০ হাজার টন, বগুড়ার ফারিয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ৫ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি পায়।

গত সোমবার যশোরের মেসার্স মজুমদার অ্যান্ড সন্স ২০ হাজার টন, মেসার্স লিটন এন্টারপ্রাইজ ১০ হাজার টন, মেসার্স সুশান্ত কৃষ্ণ রায় ১০ হাজার টন, মেসার্স গ্লোবাল এন্টারপ্রাইজ ৫ হাজার টন, সাতক্ষীরার মেসার্স মজুমদার এন্টারপ্রাইজ ২৫ হাজার টন, ময়মনসিংহের মেসার্স মজুমদার ট্রেডার্স ৫০ হাজার টন, গাইবান্ধার মেসার্স প্রধান ট্রেডার্স ৫ হাজার টন, পাবনার পূর্বাশা ট্রেডিং ৫ হাজার টন, দিনাজপুরের মেসার্স ইউনাইটেড রাইস মিল ৫ হাজার টন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মেসার্স হোসেন ট্রেডার্স ১০ হাজার টন, মেসার্স ইসলাম ট্রেডার্স ৫ হাজার টন, মেসার্স নবাব ফুড প্রোডাক্টস ১০ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি পায়।

এছাড়া গত রোববার জয়পুরহাটের হেনা এন্টারপ্রাইজ ১০ হাজার টন, দিনাজপুরের রেনু কন্সট্রাকশন ১৫ হাজার টন, খুলনার কাজী সোবহান ট্রেডিং করপোরেশন ১০ হাজার টন, বগুড়ার আলাল এগ্রো ফুড প্রোডাক্টস ১০ হাজার ও আলাল এন্টারপ্রাইজ পাঁচ হাজার টন, নওগাঁর দীপ্ত এন্টারপ্রাইজ ১০ হাজার টন, আকাশ এন্টারপ্রাইজ ১০ হাজার টন, ঘোষ অটোমেটিক রাইস মিল ১৫ হাজার টন, মেসার্স নুরুল ইসলাম ১০ হাজার টন ও জগদীশ চন্দ্র রায় ১০ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি পায়।

চাল আমদানির শর্তে বলা হয়েছে, বরাদ্দপত্র ইস্যুর সাত দিনের মধ্যে ঋণপত্র (এলসি) খুলতে হবে। এ সংক্রান্ত তথ্য খাদ্য মন্ত্রণালয়কে তাত্ক্ষণিকভাবে জানাতে হবে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে যারা ৫ হাজার টন বরাদ্দ পেয়েছেন, তাদের এলসি খোলার ১০ দিনের মধ্যে ৫০ শতাংশ এবং ২০ দিনের মধ্যে পুরো চাল বাজারজাত করতে হবে।

এছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠান ১০ থেকে ৫০ হাজার টন বরাদ্দ পেয়েছে তাদের এলসি খোলার ১৫ দিনের মধ্যে ৫০ শতাংশ এবং ৩০ দিনের মধ্যে সব চাল এনে বাজারজাত করতে হবে শর্ত দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

 

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।