স্বাস্থ্য
হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে একজন নিশ্চিত হামে এবং অপর ৩ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।
রোববার (১৯ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম সংক্রান্ত পরিস্থিতির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিগত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় হামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা, বরিশাল ও রাজশাহীতে ১ জন করে মারা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নতুন ১ শিশুর মৃত্যু নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৩৬। আর সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ১৮১। অর্থাৎ, সবমিলিয়ে হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১৭ জনে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬৫ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৪৩ জন। আর গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে এসেছে ১ হাজার ১৯৭ জন। এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৬০৬ জনে।
তবে এখন পর্যন্ত ১৫ হাজার ৩২৬ সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরমধ্যে ১২ হাজার ৩৯৬ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
স্বাস্থ্য
দেশেই ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক ও হামের টিকা উৎপাদনে সরকারি উদ্যোগ
সরকারি উদ্যোগে দেশে প্রথমবারের মতো ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক ও হামের টিকা এবং অ্যান্টিভেনম উৎপাদন করতে যাচ্ছে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রফতানির সুযোগও তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এসেনসিয়াল ড্রাগস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব টিকার দেশে ব্যাপক চাহিদা থাকায় এগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এ সামাদ মৃধা গণমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে জরুরি ভিত্তিতে এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। দেশের জনস্বাস্থ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক, সাপের কামড় ও হাম বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব রোগ প্রতিরোধে স্থানীয়ভাবে টিকা উৎপাদন অত্যন্ত জরুরি।
আমরা এক বছরের মধ্যে এই চারটি টিকার উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। আশা করছি আগামী বছরের জুনের মধ্যে উৎপাদন শুরু করে সরকারের কাছে সরবরাহ করা সম্ভব হবে, যোগ করেন তিনি।
এসেনসিয়াল ড্রাগস জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করেই এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এতে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা। প্রকল্পটি চালু হলে বছরে প্রায় ৯০ লাখ থেকে ১ কোটি ভায়াল টিকা উৎপাদন করা সম্ভব হবে।
স্বাস্থ্য
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ছিল এক হাজার ২১২ জন। আর গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ মে পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজার ৭১০ জনে।
শুক্রবার (৮ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগী শনাক্ত হয়েছেন ২৮২ জন। ১৫ মার্চ থেকে ৮ মে পর্যন্ত মোট নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ছয় হাজার ৪৯০ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ১৫ মার্চ থেকে ৮ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩২ হাজার ৮৬২ জন। এ সময়ের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৯ হাজার ১৫২ জন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আর ১৫ মার্চ থেকে ৮ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মোট মৃত্যু হয়েছে ৫৮ জনের।
এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে ৮ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮৫ জনে।
স্বাস্থ্য
গত ২৪ ঘন্টায় হামের উপসর্গে আরও ১২ শিশুর মৃত্যু
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৫২৪ জনের মধ্যে হামের লক্ষণ বা উপসর্গ শনাক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত স্বাস্থ্য প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত একদিনে শুধু ঢাকা বিভাগেই হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ২ জন এবং বরিশাল, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে একজন করে মোট ৪ জন মারা গেছেন। একই সময়ে ঢাকা বিভাগে আরও একজনের হামে মৃত্যু হয়েছে।
নতুন সংক্রমণের তথ্যে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ২৮৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি আরও ১ হাজার ২৩৮ জনের মধ্যে এই রোগের উপসর্গ পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় মোট ৪৫ হাজার ৪৯৮ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৬ হাজার ২০৮ জনের।
এই সময়ের মধ্যে ৩১ হাজার ৯১২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৮ হাজার ২৩৮ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
স্বাস্থ্য
দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে ৭ শিশুর মৃত্যু
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে নিশ্চিত হাম (নিশ্চিতভাবে শনাক্ত) রোগে, আর বাকি ৫ জন মারা গেছে হামের উপসর্গে।
বুধবার (৬ মে) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বিজ্ঞপ্তি জানায়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এই ২৪ ঘণ্টার তথ্য অনুযায়ী মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘন্টায় সারাদেশে নতুন করে ১ হাজার ৬৫৪ জন রোগী হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬৮ জনে।
এই সময়সীমায় নিশ্চিত হাম রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৯৯ জন। পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪ হাজার ২৬০ জনে।
এ পর্যন্ত মোট ৩০ হাজার ৮৮৫ জন রোগী হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৭ হাজার ২২৩ জন।
স্বাস্থ্য
দেশে পৌঁছেছে হাম-রুবেলার ১৫ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নতুন টিকা চালান গ্রহণের পর স্বাস্থ্য খাতের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি জানিয়েছেন, হাম-রুবেলার ১৫ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছেছে।
বুধবার (৬ মে) ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় দ্রুততার সঙ্গে টিকার বড় মজুত তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। সর্বশেষ চালানে ইউনিসেফের মাধ্যমে হাম-রুবেলা টিকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডোজ দেশে এসেছে।
তিনি জানান, নিয়মিত ভিত্তিতে টিকা সরবরাহ অব্যাহত থাকবে এবং প্রতি সপ্তাহেই নতুন চালান দেশে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আসন্ন দিনগুলোতে আরও বড় একটি টিকা চালান আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে টিকা সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল অবস্থায় আছে এবং অতীতের মতো ঘাটতির কোনো পরিস্থিতি নেই। সরকারের লক্ষ্য হলো একটি স্থায়ী বাফার স্টক গড়ে তোলা, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সংকট তৈরি না হয়।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি চলমান টিকাদান কর্মসূচিতে লক্ষ্য অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পুরো লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে টিকা কার্যক্রমে সময় লাগে, তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতির জন্য অস্থায়ী চিকিৎসা সুবিধাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়।
মন্ত্রী আন্তর্জাতিক অংশীদার ও গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, সহযোগিতা ও জনসচেতনতার কারণে টিকাদান কার্যক্রম আরও সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।




