অর্থনীতি
সংস্কারে ব্যর্থতা: ঋণের পরবর্তী কিস্তি স্থগিত করেছে আইএমএফ
রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতে সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান ঋণ কর্মসূচির পরবর্তী কিস্তি স্থগিত করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। জুনের মধ্যে এই কিস্তি ছাড় করার কথা থাকলেও সংস্থাটি এখন অতিরিক্ত শর্তসহ একটি নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছে।
ওয়াশিংটন ডিসিতে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠকে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের এক সদস্য এ তথ্য জানিয়েছেন। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
ওই কর্মকর্তা বলেন, গত দু’দিনের বৈঠকে এমন কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। এ অবস্থায় চলমান ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় চলতি অর্থবছরের জুনের মধ্যে ১.৩ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার যে আশা করছে বাংলাদেশ, তা জুনের মধ্যে ছাড় করা হবে না বলে বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।
বর্তমান কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ এখনো মোট ১.৮৬ বিলিয়ন ডলার পাবে, যার মেয়াদ আগামী জানুয়ারিতে শেষ হবে।
”আইএমএফ আমাদের বলেছে, ঋণ চুক্তির আওতায় রাজস্বখাত সংস্কার, ব্যাংকখাত সংস্কার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ভর্তুকি প্রত্যাহার, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার নিশ্চিত করাসহ যেসব শর্ত ছিল, বাংলাদেশ সেগুলো বাস্তবায়ন করেনি। এ অবস্থায়, চলমান ঋণচুক্তির বাস্তবায়ন পরিস্থিতি রিভিউ (পর্যালোচনা) না করে ঋণের কিস্তি ছাড় করার ব্যাপারে তারা আগ্রহী নয়। আর রিভিউ করার ক্ষেত্রেও সংস্থাটি অনেক সময়ক্ষেপণ করবে বলে আলোচনায় স্পষ্ট হয়েছে” –বলেন ওই কর্মকর্তা।
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ যদি সব শর্ত পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বর্তমান কর্মসূচি চালিয়ে যেতে চায়, তবুও কোনো অর্থ ছাড় সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিলম্বিত হতে পারে। আইএমএফ বর্তমান ব্যবস্থার পরিবর্তে সংশোধিত শর্তে নতুন ঋণ দিতে বেশি আগ্রহী বলে মনে হয়েছে।”
এছাড়া সম্প্রতি সংসদে পাস হওয়া ব্যাংক রেজ্যুলেশন বিলে সরকার ১৮ক ধারা যুক্ত করে রেজ্যুলেশনের জন্য তালিকাভুক্ত করা ব্যাংকগুলো পুরনো মালিকদের ফিরে আসার সুযোগ দেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইএমএফ।
সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের আমানতকারীদের ক্ষতিপূরণ দিতে বাজেটের অর্থ ব্যবহারের সরকারি পরিকল্পনারও সমালোচনা করেছে সংস্থাটি। তাদের মতে, আমানতকারীদের পাওনা মেটাতে বাজেট থেকে অর্থ খরচ না করে—ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স স্কিম বা অন্য কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমে দেওয়া উচিত।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে, জ্বালানি আমদানির উচ্চ ব্যয় মেটাতে বাংলাদেশ আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে অতিরিক্ত অর্থ সহায়তা চেয়েছে।
তবে বর্তমান কর্মসূচি নিয়ে আইএমএফের কঠোর অবস্থানের কারণে ওয়াশিংটনে অবস্থানরত বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল তুলনামূলক সহজ শর্তে অতিরিক্ত অর্থায়নের সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গেও আলোচনা করছে।
গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত গত শেখ হাসিনা সরকারের সময় ২০২৩ সালে আইএমএফ এর সঙ্গে ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি সই করে বাংলাদেশ। অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় ঋণের পরিমাণ আরও ৮০০ মিলিয়ন ডলার বাড়ানো হয়। ফলে ঋণ কর্মসূচির মোট আকার দাঁড়ায় ৫.৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্য থেকে বাংলাদেশকে মোট ৩.৬৪ বিলিয়ন ডলার ঋণের অর্থ ছাড় করেছে আইএমএফ।
গত ডিসেম্বরে আরেকটি কিস্তি পাওয়ার কথা থাকলেও—নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করে ঋণের অর্থ ছাড় করার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে তা আটকে রাখে সংস্থাটি। ডিসেম্বরের বকেয়া কিস্তির সঙ্গে আগামী জুনের একটি কিস্তি মিলিয়ে জুন মাসেই ১.৩ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার আশা করেছিল বাংলাদেশ।
তবে গত মাসে বাংলাদেশ সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদের সঙ্গে বৈঠক করে আইএমএফ-এর উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল জুনে কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি।
গতকাল ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন বলেন, তিনি সাম্প্রতিক বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরুর সঙ্গে বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
তিনি বলেন, “দেশটি যে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে তা নিয়ে আমাদের মধ্যে ভালো আলোচনা হয়েছে। আমরা উল্লেখ করেছি, শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নতুন সরকার ক্ষমতায় থাকায় এখনই উচ্চাকাঙ্ক্ষী সংস্কারের পদক্ষেপ গ্রহণের উপযুক্ত সময়। তারা আমাদের কথা শুনেছেন, এখন আমরা দেখব তারা কীভাবে সাড়া দেন।”
শ্রীনিবাসন বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের রাজস্ব আদায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে এবং দেশটির অর্থনৈতিক চাহিদা পূরণে যেটুকু প্রয়োজন তার চেয়েও অনেক নিচের স্তরে রয়েছে।
তিনি বলেন, “রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ভালো নয়। এটি কম এবং গত তিন বছরে আরও কমেছে। রাজস্ব খাত, আর্থিক খাতের পুনর্বাসন এবং বিনিময় হার সংস্কারসহ আর্থিক ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন।”
তিনি আরও জানান, আইএমএফ সমর্থিত ঋণ কর্মসূচির তিনটি মূল ভিত্তিতেই এখনো উল্লেখযোগ্য কাজ বাকি রয়েছে।
শ্রীনিবাসন বলেন, আইএমএফ-এর টিম বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং পরবর্তীতে এ বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য জানানো হবে।
অর্থনীতিবিদরা বলেন, ঋণ কর্মসূচি অনুমোদনের সময় আইএমএফ বাংলাদেশকে কর অব্যাহতি সুবিধা কমানোসহ বিস্তৃত সংস্কারের মাধ্যমে জিডিপির অনুপাতে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর শর্ত দিয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাতই উল্টো কমেছে।
তারা আরও বলেন, ব্যাংকিংখাতে কাগজে-কলমে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত সংস্কার হয়নি। এমনকী মুদ্রার বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার কথা বলা হলেও—বর্তমানে বাংলাদেশে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার কার্যকর নয় বলে মনে করে আইএমএফ।
ঋণচুক্তি করার সময় ২০২৬ সালের মধ্যে গ্যাস ও বিদ্যুৎখাতে ভর্তুকি পুরোপুরি প্রত্যাহার করার অঙ্গীকার করেছিল বাংলাদেশ। এ শর্ত বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগ সরকার কয়েকদফা গ্যাস বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পর, প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে অন্তবর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের মেয়াদে গ্যাস বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন টিবিএসকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আইএমএফের শর্ত বাস্তবায়নের উদ্যোগ পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, “ব্যাংক খাতে কিছু সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবায়নের দায়িত্ব নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। রাজস্ব খাতে কোনো সংস্কার হয়নি এবং পর্যায়ক্রমে ভর্তুকি কমানোরও কোনো প্রচেষ্টা ছিল না। এ কারণেই আইএমএফ বর্তমান ঋণ কর্মসূচিতে অসন্তুষ্ট এবং এখন এটি থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে।”
ড. ফাহমিদার মতে, আইএমএফ কর্মসূচির শেষ কিস্তিগুলো পর্যালোচনার আগে সরকারের সামনে দুটি পথ খোলা রয়েছে। “হয় সরকার আইএমএফের সব শর্ত মেনে কর্মসূচি চালিয়ে যাবে, অথবা শর্ত প্রত্যাখ্যান করে চুক্তি থেকে সরে আসবে।”
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি আমদানির বাড়তি ব্যয় মেটানো এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের জরুরি অর্থ প্রয়োজন, তবে জানুয়ারির মধ্যে সব শর্ত পূরণ করা কঠিন হবে।
তার মতে, সরকার চাইলে প্রধান শর্তগুলো বাস্তবায়ন শুরু করে ভবিষ্যতে সংস্কার চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে বাকি অর্থ ছাড়ের জন্য আলোচনা করতে পারে।
অর্থ বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, আইএমএফ কর্মসূচির পুরো অর্থ তুলতে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তবে তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও জ্বালানি পরিস্থিতিতে আইএমএফের সব শর্ত পূরণ করা সরকারের জন্য কঠিন হবে।
মাহবুবের মতে, অতীতে আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের সঙ্গে করা একাধিক চুক্তির চূড়ান্ত কিস্তিগুলোও বাংলাদেশ পায়নি, কারণ প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করা সম্ভব হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে আইএমএফের মাত্র একটি কর্মসূচির পুরো অর্থ বাংলাদেশ তুলতে পেরেছিল—২০১২ সালে স্বাক্ষরিত ১ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তির।
অর্থনীতি
গরুর মাংস আমদানির অনুমতি চায় রেস্তোরাঁ মালিকরা
দেশের বাজারে গরুর মাংসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। সরবরাহ কমেছে, পশুখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে কমেছে গবাদিপশু পালনও। এই পরিস্থিতিতে বিদেশ থেকে নিজেরাই সরাসরি গরুর মাংস আমদানির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।
রবিবার (১০ মে) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে রেস্তোরাঁ খাতের সংকট ও ১১ দফা দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের নেতারা। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি শাহ সুলতান খোকন, যুগ্ম মহাসচিব ফিরোজ আলম, কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান চৌধুরী ও দপ্তর সম্পাদক আমির হোসেনসহ নেতারা।
সমিতি জানায়, বর্তমানে বাজারে গরুর মাংসের কেজি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সিন্ডিকেটের কারণে পশুখাদ্যের দাম বাড়ায় অনেক এলাকায় গবাদিপশু পালন কমে গেছে এবং সরবরাহ সংকট তীব্র হয়েছে। এতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের রেস্তোরাঁ খাতে।
মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, রেস্তোরাঁ খাতে ভ্যাট ১৫ থেকে ৫ শতাংশে নামানো হলেও ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও উৎসে করসহ অন্যান্য করের ভার সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তাই আগামী বাজেটে কর সহনীয় রাখা, উৎসে কর প্রত্যাহার এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের ক্যানটিন ও ক্যাটারিং সেবায় ভ্যাট ৫ শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানান তিনি।
এলপিজি গ্যাস সংকটকে আরেকটি গুরুতর সমস্যা হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক নতুন ও ছোট রেস্তোরাঁ গ্যাস সংযোগের অভাবে পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছে না। পরিকল্পিতভাবে নতুন সংযোগ দেওয়া হলে এলপিজির ওপর নির্ভরতা ও ব্যয় দুটোই কমবে। এছাড়া কিছু অসাধু গোষ্ঠী ট্রেড ইউনিয়নের নাম ব্যবহার করে রেস্তোরাঁ মালিকদের হয়রানি ও চাঁদাবাজি করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
১১ দফা দাবির মধ্যে আরও রয়েছে— রেস্তোরাঁ পরিচালনায় ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু, রেস্তোরাঁ খাতকে আনুষ্ঠানিকভাবে শিল্প হিসেবে ঘোষণা এবং ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়া সহজীকরণ।
অর্থনীতি
লজিস্টিকস খাত সংস্কার না হলে রপ্তানি প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে বাংলাদেশ: ডিসিসিআই গোলটেবিল
দেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে একটি দক্ষ ও সমন্বিত লজিস্টিকস ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। গত শনিবার (৯ মে) ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে ‘বাণিজ্য নির্ভর বাংলাদেশের জন্য সমন্বিত বন্দর এবং লজিস্টিকস খাতের উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি গোলটেবিল আলোচনায় এ আহ্বান জানানো হয়। রবিবার (১০ মে) সংস্থাটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই’র ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী বলেন, লজিস্টিকস খাতের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতা দেশের রপ্তানি সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, যার ফলে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে। তিনি জানান, বন্দরে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রিতা, সড়ক ও রেলপথে পণ্য পরিবহনে ধীরগতি এবং আধুনিক কোল্ড-চেইন লজিস্টিকসের অপ্রতুলতা সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যয়বহুল ও মন্থর করে তুলছে। এ পরিস্থিতি উত্তরণে বন্দরগুলোতে পেপারলেস অটোমেটেড ব্যবস্থা প্রবর্তন, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কোল্ড-চেইন লজিস্টিকসে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মত দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম)-এর মহাপরিচালক মো. সলিম উল্লাহ বলেন, সমন্বিত বন্দর ও লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে, যা ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় ক্রমাগত বাড়িয়ে তুলছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একযোগে কাজ করার তাগিদ দেন।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী ড. এম. মাসরুর রিয়াজ বলেন, বাংলাদেশের জিডিপিতে উৎপাদনমুখী খাতের অবদান প্রায় ২৫ শতাংশ হলেও রপ্তানি এখনো গুটিকয়েক পণ্য ও বাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নীতিগত সংস্কার এখন সময়ের দাবি। তিনি জানান, দেশের বিদ্যমান লজিস্টিকস ব্যয় ২৫ শতাংশ কমানো সম্ভব হলে রপ্তানি ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে এবং পণ্য পরিবহন ব্যয় মাত্র ১ শতাংশ কমলেও রপ্তানিতে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব।
আলোচনায় অন্য বক্তারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা তুলে ধরেন। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সম্প্রসারণের সুযোগ সীমিত হওয়ায় রেলপথই সবচেয়ে কার্যকর বিকল্প হতে পারে। বুয়েটের অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনায় বাস্তবভিত্তিকতার অভাব এবং যোগাযোগ অবকাঠামোর অসমন্বয়ের কারণে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না। শাহরিয়ার স্টিল মিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস কে মাসাদুল আলম মাসুদ জানান, পানগাঁও বন্দরে স্ক্যানার মেশিন না থাকায় এবং অভ্যন্তরীণ নৌপথের সীমাবদ্ধতায় শিল্পখাতে পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়ছে।
বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ট্রান্সপোর্ট স্পেশালিস্ট নুসরাত নাহিদ বাবী জানান, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি আধুনিক হয়নি এবং স্থলবন্দরগুলোতে ডিজিটাল কার্যক্রমের অনুপস্থিতি পণ্য খালাসে বিলম্ব তৈরি করছে। এডিবির সিনিয়র প্রজেক্ট অফিসার হুমায়ুন কবির জানান, ধীরাশ্রম আইসিডি কনটেইনার ডিপো ও মাল্টিমোডাল লজিস্টিক হাব বাস্তবায়নে এডিবি সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে ডিসিসিআই সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মান, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরাসহ সরকারি-বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
অর্থনীতি
বিনিয়োগ আকর্ষণে কর্পোরেট কর ২০ শতাংশে কমানোর দাবি
দেশে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে বেসরকারি খাতের কর্পোরেট করের হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (জেবিসিসিআই)।
রোববার (১০ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ প্রস্তাব তুলে ধরে সংগঠনটি।
জেবিসিসিআই জানায়, অনেক দেশ ইতোমধ্যে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কর হার কমিয়েছে। তুলনামূলক উচ্চ করের কারণে বাংলাদেশে শিল্প সম্প্রসারণ ও মূলধন প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মত তাদের।
সংগঠনটি মনে করে, কর্পোরেট কর কমানো হলে বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব প্রবৃদ্ধিও বাড়বে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (জেবিসিসিআই) সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়া (জুন), আইসিএবি সাবেক সভাপতি এবং জেবিসিসিআই সাধারন সম্পাদক মারিয়া হাওলাদার এফসিএ, জেবিসিসিআই প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও উত্তরা গ্রুপের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান, জেবিসিসিআই সহ সভাপতি মতিউর রহমান, জেবিসিসিআই সাবেক সভাপতি আসিফ এ চৌধুরী প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (জেবিসিসিআই) ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের জন্য বিভিন্ন সুপারিশমালা পেশ করে। এর মধ্যে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা, শিল্প প্রতিযোগিতা সক্ষমতা শক্তিশালী করা, অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ ও আনুষ্ঠানিকীকরণের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং টেকসই দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন করার ওপর আলোচনা করা হয়। জেবিসিসিআই মনে করে আসন্ন জাতীয় বাজেটে শুধুমাত্র রাজস্ব আদায়ের ওপর মনোযোগ না দিয়ে প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ এবং রাজস্ব ব্যবস্থার আধুনিকীকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
জেবিসিসিআই সামগ্রিক ভ্যাট ব্যবস্থাকে সরল করার জন্য স্ট্যান্ডার্ড ভ্যাট হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করার এবং একটি একীভূত ভ্যাট হার কাঠামো প্রবর্তনের প্রস্তাব করে। অতিরিক্ত উৎসে কর ব্যবসার নগদ প্রবাহের উপর চাপ সৃষ্টি করে, কার্যকরী মূলধনের সীমাবদ্ধতা বাড়ায় এবং ব্যবসা পরিচালনার সামগ্রিক ব্যয় বৃদ্ধি করে। অতিরিক্ত অগ্রিম বা ন্যূনতম কর ব্যবস্থার পরিবর্তে কর ব্যবস্থা প্রাথমিকভাবে নিট লাভের উপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত। বিদ্যমান ন্যূনতম কর ব্যবস্থা লোকসানে পরিচালিত হলেও কোম্পানিগুলোর উপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দেয়, যার ফলে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হয় এবং ব্যবসার স্থায়িত্বের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
জেবিসিসিআই সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়া (জুন) বলেন, বেসরকারি খাতের জন্য সাধারণ কর্পোরেট করের হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা প্রয়োজন। বিশ্বের অনেক দেশই অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে করের হার কমাচ্ছে। প্রতিযোগিতামূলক কর্পোরেট কর কাঠামো শিল্প সম্প্রসারণকে উৎসাহিত করবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং বৃহত্তর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
তিনি বলেন, ২০২৫ সাল পর্যন্ত টেক্সটাইল খাত ১৫ শতাংশ হ্রাসকৃত কর্পোরেট কর সুবিধা পেতো। বর্তমানে এই খাতটি সাধারণ কর হারের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা এমন এক সময়ে শিল্পের ওপর করের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট এবং পণ্যের দামের চাপ ব্যবসায়িক সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
অর্থনীতি
মে মাসের ৯ দিনেই রেমিট্যান্স এসেছে ১০২ কোটি ৯০ লাখ ডলার
চলতি মে মাসের প্রথম ৯ দিনেই দেশে প্রবাসী রেমিট্যান্স এসেছে ১০২ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১১ কোটি ৪৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।
রোববার (১০ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, চলতি মে মাসের প্রথম ৯ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১০২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৮৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৯ মে পর্যন্ত দেশে এসেছে ৩ হাজার ৩৬ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ।
এর আগে গত এপ্রিলে দেশে এসেছে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার। আর গত মার্চে দেশে এসেছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা দেশের ইতিহাসে যে কোনো এক মাসের সর্বোচ্চ।
গত ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসে যথাক্রমে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার; নভেম্বরে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।
এছাড়া গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর গত আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।
এদিকে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।
অর্থনীতি
পশুর হাটে জাল নোট ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ নির্দেশনা
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাটে জাল নোটের প্রচলন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য ১০টি নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
রোববার (১০ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়।
১. ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন অনুমোদিত পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিনের সহায়তায় অভিজ্ঞ ক্যাশ কর্মকর্তাদের দিয়ে হাট শুরুর দিন হতে ঈদের পূর্ব রাত পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে পশু ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের বিনামূল্যে নোট যাচাই-সংক্রান্ত সেবা প্রদান করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত তপশিলি ব্যাংকগুলোর তালিকা এতদসঙ্গে সংযুক্ত করা হলো।
এ হাটগুলো সেবা প্রদানের লক্ষ্যে মনোনীত কর্মকর্তাদের নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বরসহ আপনাদের ব্যাংকের সমন্বয়ক হিসেবে মনোনীত একজন উপযুক্ত কর্মকর্তার নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বর আগামী ১৭ মে-এর মধ্যে naima.tanzin@bb.org.bd এবং zarrin.tasnim@bb.org.bd ই-মেইলে পাঠাতে হবে।
উল্লেখ্য, আপনাদের ব্যাংকের সমন্বয়কারী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট হাটে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের কার্যাদি মনিটরিং করবেন।
২. ঢাকার বাইরে যেসব জেলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিস রয়েছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন/পৌরসভার অনুমোদিত পশুর হাটসমূহে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট অফিসের নেতৃত্বে গৃহীত অনুরূপ ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য আপনাদের সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কার্যালয়/প্রধান শাখাসমূহকে নির্দেশনা প্রদান করতে হবে;
৩. বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিস নেই, এমন জেলাসমূহের সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও থানা/উপজেলার অনুমোদিত পশুর হাটে বিভিন্ন ব্যাংকের এতদ-সংক্রান্ত দায়িত্ব বণ্টনের জন্য সোনালী ব্যাংক পিএলসির চেস্ট শাখাগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সোনালী ব্যাংক পিএলসির চেস্ট শাখা কর্তৃক বণ্টন করা দায়িত্ব অনুযায়ী, আপনাদের ব্যাংকের জেলা/উপজেলা পর্যায়ের শাখাসমূহ যাতে পশুর হাটগুলোতে নোট যাচাই-সংক্রান্ত সেবা প্রদান করে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শাখাসমূহকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করতে হবে;
৪. হাটে স্থাপিত বুথে নোট কাউন্টিং মেশিনের সাহায্যে নগদ অর্থ গণনাকরণ সুবিধা প্রদান করতে হবে;
৫. বুথ স্থাপন কার্যক্রমের সুবিধার্থে ও সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ, জেলা মিউনিসিপ্যালিটি কর্তৃপক্ষ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার/সংশ্লিষ্ট পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও অনুমোদিত হাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইজারাদার এবং সার্বিক নিরাপত্তার জন্য (প্রয়োজনে) সংশ্লিষ্ট পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও আনসার কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে;
৬. বুথে নোট যাচাইকালে কোনো জাল নোট ধরা পড়লে এ বিভাগের (তদানীতন DCMPS) ০৪/০৭/২০০৭ তারিখের পরিপত্র নং- জাল নোট: ০১(পুলিশ)/২০০৭-১৯১ এ বর্ণিত নির্দেশনা মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে;
৭. বুথে ব্যাংকের নাম ও তার সঙ্গে ‘জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ’ উল্লেখপূর্বক ব্যানার/নোটিশ প্রদর্শন করতে হবে;
৮. ব্যাংক নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্বলিত ভিডিও চিত্রটি আপনাদের ব্যাংকের শাখাসমূহে ঈদের আগ পর্যন্ত প্রতি কর্মদিবসে গ্রাহকদের জন্য স্থাপিত টিভি মনিটরগুলোতে পুরো ব্যাংকিং সময়ে প্রদর্শন করতে হবে;
৯. দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা/কর্মচারীদের এতদ-সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনের জন্য আপনাদের ব্যাংকের প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আর্থিক সুযোগ সুবিধা প্রদান করা যাবে; এবং
১০. পবিত্র ঈদুল আজহা সমাপ্তির পরবর্তী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে উপরে বর্ণিত নির্দেশনার সূত্রে আপনাদের কর্তৃক পরিপালিত বিষয়াদির ওপর প্রস্তুত করা একটি প্রতিবেদন আবশ্যিকভাবে এ বিভাগে পাঠাতে হবে।




