ক্যাটাগরি: জাতীয়

তেলের অস্বাভাবিক চাহিদা পূরণ করা অসম্ভব ব্যাপার: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, প্রত্যেকে দায়িত্বশীল আচরণ করলে গ্রাহক পর্যায়ে জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধান করা সম্ভব। তবে বর্তমানে ‘তেলের অস্বাভাবিক চাহিদা! অস্বাভাবিক চাহিদা পূরণ করা আসলে একটি অসম্ভব ব্যাপার’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে ইস্টার্ন রিফাইনারি পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আপনারা সকলে বোঝেন, এটা অস্বাভাবিক চাহিদা। অস্বাভাবিক চাহিদা পূরণ করা আসলে একটি অসম্ভব ব্যাপার।” তিনি আরও জানান, প্রতিনিয়ত হাজার হাজার লিটার তেল অবৈধ মজুতদারদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ফুয়েল পাসের পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু করেছি, আমাদের আরও কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। আমি ভীষণভাবে আশাবাদী, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই (জ্বালানির জন্য) লম্বা লাইন সংক্ষিপ্ত হবে।’

লোডশেডিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের পিক আওয়ার সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়। গতকাল (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় আমাদের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট। এই চাহিদার বিপরীতে আমাদের উৎপাদন ছিল ১৪ হাজার ৮৪৬ মেগাওয়াট। অর্থাৎ লোডশেডিং ছিল ৪৮১ মেগাওয়াট। এই লোডশেডিং আমাদেরকে ডিস্ট্রিবিউট করতে হয়েছে। চট্টগ্রামে লোডশিডিং ছিল মাত্র ৩৫ মেগাওয়াট।’

এ সময় গণমাধ্যমকর্মীরা দাবি করেন, চট্টগ্রামে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনার তথ্য আপনার কাছে থাকুক, আমি অফিশিয়াল চ্যানেল থেকে তথ্য পেয়েছি। আপনার কাছে কী তথ্য আছে সেটা আপনার কাছে…আর যখন আমার চেয়ার থেকে কথা বলছি, আমার প্রতিটি অংক, প্রতিটি শব্দের পেছনে দায়িত্বশীলতা আছে। আপনি আপনারটা নিয়ে আরগু করতে পারেন, আই অ্যাম সরি ফর দ্যাট।’

অমিত আরও বলেন, এলএনজির মূল সোর্স ছিল কাতার এনার্জি। আজকে যে বাস্তবতা, আগামী পাঁচ বছর লাগবে এটা পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে। যে কারণে বিকল্পভাবে সোর্সিং করতে হচ্ছে। এই সংকটগুলো তো কারও অস্বীকার করার কোনো জায়গা নেই।

এই পরিস্থিতিতে সরকার কৃষি ও শিল্প খাতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটা বোরো মৌসুম। সেচ পাম্প চালাতে কৃষকের যেন কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়, তার পিক আওয়ারে সে যেন বিদ্যুৎ পায়, সে যেন ডিজেল পায়—এটাকে যেমন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে একইসঙ্গে শিল্প উৎপাদন যেন কোনোভাবে বিঘ্নিত না হয়; কারণ এর সঙ্গে মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যাপার রয়েছে।

‘কিছু ক্ষেত্রে আমাদেরকে হাউস হোল্ডে লোড শেডিংয়ের মাত্রা বাড়াতে হচ্ছে। কারণ আমাদের ওই দুটি জায়গায় ফোকাস করতে হচ্ছে। মে মাসের প্রথম থেকে ফসল ওঠা শুরু করবে। তখন কৃষির (বিদ্যুৎ) চাহিদা কমে যাবে। স্বাভাবিকভাবে এটা (বিদ্যুৎ) তখন আবার আমরা বাসাবাড়িতে সরবরাহ করতে পারবো,’ জানান তিনি।

শেয়ার করুন:-
শেয়ার