বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই সনদকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং তা হতে দেওয়া হবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর দিয়ে যারা এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন, তারা যদি সেই আত্মত্যাগের সঙ্গে বেইমানি করেন, তাহলে জাতি তাদের ক্ষমা করবে না।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দিবাগত রাতে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের কাউন্সিল হলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত হজযাত্রীদের গাইডলাইন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, অস্ত্র ও পেশিশক্তি দিয়ে মানুষকে দমিয়ে রাখা যায় না। ছাত্র-জনতার স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামীর মতো ত্যাগ অন্য কোনো দল স্বীকার করেনি। দলের শীর্ষ ১১ জন নেতাকে ‘বিচারিক হত্যা’ করা হয়েছে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য অসংখ্য নেতাকর্মী রাজপথে জীবন দিয়েছেন।
নিজে ফাঁসির মঞ্চ থেকে আজ জনতার মঞ্চে এসেছেন উল্লেখ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, শাহাদাতের তামান্না লালন করেই তিনি সামনের সারিতে থেকে জনগণের দাবি আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেবেন। এ সময় তিনি হজ যাত্রীদের কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, ‘আল্লাহর পবিত্র ঘরে গিয়ে দোয়া করবেন, যাতে বাংলাদেশে দ্বীন কায়েমের মাধ্যমে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হয়।’ তার মতে, ইসলামী শাসনব্যবস্থা ব্যতীত অন্য যত তন্ত্রমন্ত্র আছে, সবই স্বৈরতন্ত্র।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য আল্লাহ হজ ফরজ করেছেন। একইভাবে জমিনে দ্বীন কায়েম করাও ফরজ। ঈমান আনার সঙ্গে সঙ্গে নামাজ, রোজা, জাকাত ও হজের মতো অন্য সব বিধানকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এমপি বা মন্ত্রী হওয়া বড় কোনো সফলতা নয়। জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাত লাভ করাই প্রকৃত সফলতা। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে আল্লাহর বিধান পালনে জান ও মাল কোরবানি করতে হবে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পরিচালনায় কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, ইসলামিক স্কলার মুফতি আলী হাসান ওসামা এবং পল্টন বটতলা মসজিদের খতিব মাওলানা জাকারিয়া নুর।
এ সময় হজযাত্রীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন মাওলানা এমদাদুল্লাহ, আমির হামজা ও শাহ মুহাম্মদ ফয়সাল। অনুষ্ঠানে হজ গাইডলাইন বিষয়ে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল হক তানভীর।
এমএন