নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতা ও অভিযানগত প্রস্তুতি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি জাহাজ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের সফল অগ্নিপরীক্ষা চালিয়েছে পাকিস্তান নৌবাহিনী। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি উচ্চ গতিতে ও বর্ধিত পাল্লা থেকে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, যা ‘প্রস্তুতি ও নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতার এক দৃঢ় প্রদর্শন’।
দেশটির নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফ জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে নিয়ে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেন।
পাকিস্তান আইএসপিআর বলেছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি অত্যাধুনিক দিকনির্দেশনা ব্যবস্থা এবং উন্নত পরিচালনা ক্ষমতা দিয়ে সজ্জিত, যা এটিকে হুমকি এড়াতে, পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, দেশীয়ভাবে তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উৎক্ষেপণ প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং পরিচালন দক্ষতার সমন্বয়কে তুলে ধরে।
এতে উল্লেখ করা হয়, পরীক্ষাটি একটি বিশ্বাসযোগ্য সমুদ্র-ভিত্তিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা বজায় রাখা এবং এই অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পাকিস্তান নৌবাহিনীর অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান এবং সার্ভিস প্রধানরা এই মাইলফলক অর্জনের জন্য অংশগ্রহণকারী ইউনিট ও বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।
চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তান নৌবাহিনী পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একই ধরনের সাফল্যের পর সাম্প্রতিক এই সফল পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন হলো।
গত ১০ জানুয়ারি, দেশটির নৌবাহিনী উত্তর আরব সাগরে একটি নৌ-মহড়ার সময় ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য একটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করে, যা ক্রমবিকাশমান নৌ-যুদ্ধের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রচলিত ও চালকবিহীন উভয় ধরনের সক্ষমতার প্রদর্শন।
এর আগে, পাকিস্তান বিমান বাহিনী দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্র ব্যবস্থা ‘তৈমুর’-এর একটি সফল উড্ডয়ন পরীক্ষা সম্পন্ন করে, যা ৬০০ কিলোমিটার দূর থেকে শত্রুপক্ষের স্থল ও সামুদ্রিক লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।
সূত্র: জিও নিউজ