দেশের পুঁজিবাজারে রাশেদ মাকসুদ কমিশন যেন মড়ার উপরে খাঁড়ার ঘা! স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতনের পর সবার প্রত্যাশা ছিল পুঁজিবাজার দৈন্যদশা থেকে মুক্তি পাবে। তবে কমিশনের খাম খেয়ালিপনা, বাজার সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের অভাব, নানা হঠকারী সিদ্বান্ত, নতুন মিউচুয়্যাল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫ ও মার্জিন রুলের মতো আত্মঘাতি সিদ্বান্ত বাস্তবায়ন, আইপিও খরা, কমিশনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, পুঁজিবাজারের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিদেরকে অবমূল্যায়ন এবং একটি স্বার্থান্বেষী কুচক্রি মহল দ্বারা প্রভাবিত হওয়াসহ নানাবিধ কারণে দেশের পুঁজিবাজার ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
একই সঙ্গে মাকসুদ কমিশন নতুন মিউচুয়্যাল ফান্ড বিধিমালা ও মার্জিন রুলের মতো এমন কিছু কালো আইন বাস্তবায়ন করেছে যার ফলে বিনিয়োগকারীরাও আরো সর্বস্বান্ত হবে। এদিকে একাধিক কালো আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বিপর্যস্ত পুঁজিবাজারকে আরো বিপর্যস্ত করার মাধ্যমে নতুন সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টায় লিপ্ত মাকসুদ কমিশন। একই সঙ্গে এসব কালো আইনের মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজার যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে তেমনি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে দেশের বিনিয়োগও।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিএনপি সরকার ও পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারীদের যেন আস্থার নাম। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সকলের প্রত্যাশা ছিল স্বৈরাচার হাসিনার সহচর রাশেদ মাকসুদসহ তার কমিশনকে বাদ দিয়ে নতুন করে সাজানো হবে কমিশন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়ন, সুশাসন এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি পুঁজিবাজারের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করে একটি শক্তিশালী ও আধুনিক পুঁজিবাজার তৈরির অঙ্গীকার করেছেন।
এছাড়া, বিনিয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হিসেবে পুঁজিবাজারকে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। যদিও বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় দু’মাস অতিবাহিত হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দায়িত্ব পাওয়া বিতর্কিত রাশেদ মাকসুদ এখনও স্বপদে বহাল রয়েছেন। আর্থিকখাতে নানা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও শেয়ারবাজারের শত্রু হিসেবে পরিচিত এই কমিশনই বহাল রয়েছে। এতে বাড়ছে পুঁজিবাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের হতাশা। যদিও সরকারের একাধিক ঊর্ধ্বতন সূত্র জানিয়েছে, পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি থেকে শুরু করে আর্থিকখাতকে দ্রুতই ঢেলে সাজানো হবে। ইতোমধ্যে উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র মতে, স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতনের পর ব্যাংকিংখাতসহ দেশের অন্যান্য আর্থিক খাতে নানামুখী সংস্কার ও পদক্ষেপের মাধ্যমে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হলেও আর্থিকখাতের গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি পুঁজিবাজারে বিপরীত অবস্থা বিরাজমান। দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ড। মেয়াদি ফান্ড দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে উৎসাহিত করে, পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের বৈচিত্র্যময় বিনিয়োগের সুযোগ প্রদান করে। ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত, পুঁজিবাজারে ৩৬টি ক্লোজ-এন্ড ফান্ড তালিকাভুক্ত রয়েছে, যার মোট সম্পদ প্রায় চার হাজার ৬৫০ কোটি টাকা।
অথচ মাকসুদ কমিশন দ্বারা জারিকৃত নতুন মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০২৫ এর ৬২ (২) অনুযায়ী এই বিধিমালা সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হওয়ার পরবর্তী ছয় মাস, কোনো বিদ্যমান মেয়াদি স্কীমের ইউনিট প্রতি গড় ট্রেডিং মূল্য, যদি উক্ত স্কীমের ক্রয়মূল্য ও ফেয়ার ভ্যালুতে প্রকাশিত ইউনিট প্রতি নীট সম্পদের গড় মূল্যের মধ্যে যা বেশি হবে, তার চাইতে ২৫ শতাংশ কম হয় তাহলে উক্ত মেয়াদি স্কীম অবলুপ্তির সিদ্ধান্ত নিতে পারবে কমিশন। বিশেষজ্ঞরা বিষয়টিকে একটি কালো আইন হিসেবে দেখছেন। কারণ এমন অবলুপ্তির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার হাজার হাজার কোটি টাকার মূলধন হারাবার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা সামগ্রিক পুঁজিবাজারের জন্য অত্যন্ত ক্ষতির কারণ হতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, ট্রেডিং মূল্য কিংবা বাজার মূল্য কখনো সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে থাকেনা। এটা নির্ধারণ করে দেওয়ার নজির পৃথিবীর কোথাও নেই। যদিও ইতিপূর্বে দু’একটি মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ড অন্যায়ের আশ্রয় গ্রহণ করেছে। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করারও ক্ষমতা আছে কমিশনের। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা না নিয়ে মাকসুদ কমিশন পুরো মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের উপর চাপিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বিষয়টিকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে পুঁজিবাজারকে অস্থিতিশীল করার পায়তারা বলছেন। তাদের মতে, মাথা ব্যথার কারণে মাথার চিকিৎসা না করে, মাথা কেটে ফেলার মত অবস্থা।
উন্নত বিশ্বে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্য ইটিএফ, কমোডিটি ফান্ড, ইকুইটি ফান্ড, ডেট ফান্ডসহ বিভিন্ন বৈচিত্রময় মেয়াদি ও বে-মেয়াদি ফান্ডে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে অপরদিকে আমাদের দেশে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের সুযোগ খুবই সীমিত, কারণ দেশে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বৈচিত্রতা নেই বললেই চলে। তাই পুঁজিবাজারের বৃহত্তর স্বার্থে মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ডসহ আরো বৈচিত্রময় মেয়াদি ফান্ড যেমন- স্থায়ী আয় ফান্ড, ব্যালেন্সড ফান্ড এবং সেক্টর-নির্দিষ্ট ফান্ড প্রবর্তন করলে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। যা কেবল বাজারের গভীরতা ও বিনিয়োগকারীর জন্য বিকল্প বিনিয়োগের মাধ্যম বৃদ্ধি করবে না, বরং দেশের পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
এদিকে মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০২৫-এ এক দিকে ট্রাস্টি ও কাস্টোডিয়ান প্রত্যেকের ফি পূর্বের তুলনায় প্রায় ৫ গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এমনকি নিয়ন্ত্রক সংস্থার ফিও বৃদ্ধি করা হয়েছে। অপরদিকে সম্পদ ব্যবস্থাপকের ব্যবস্থাপনা ফি পূর্বের বিধিমালা থেকে কমানো হয়েছে। গত পঁচিশ বছরে সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতাসহ পরিচালনা ব্যয় অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বর্ধিত ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফি কমানো হলে, দক্ষ সম্পদ ব্যবস্থাপকদের পক্ষে পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের মিউচ্যুয়াল ফান্ড শিল্প এখনো প্রাথমিক বা বিকাশমান পর্যায়ে রয়েছে এবং বেশিরভাগ ফান্ডের আকার তুলনামূলকভাবে ছোট, তাই বিদ্যমান গণনার অধীনে ফি কমানো হলে ছোট আকারের তহবিল পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলোর পক্ষে টিকে থাকা দুরূহ হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।
মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালা ২০২৫-এ ব্যবস্থাপনা ফি সীমিত করার ফলে সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানিগুলোর বর্তমানের তুলনায় ২৩ শতাংশ ব্যবস্থাপনা ফি কমে যাবে, যার ফলে সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানিগুলো টিকে থাকা কষ্টসাধ্য হবে। পাশাপাশি নতুন কোম্পানির অংশগ্রহণ কমে যাওয়া এবং এই শিল্পে দক্ষ ও পেশাদার জনবল আকৃষ্ট করা কঠিন হবে এবং ফান্ড ব্যবস্থাপনার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
এছাড়া মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালা,২০২৫-এ পরিচালনা পরিষদের মোট সদস্যের এক-পঞ্চমাংশ স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ প্রদানের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগের যৌক্তিকতা নেই, এক্ষেত্রে অর্থের অপচয়সহ অযাচিত জটিলতা তৈরির হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী দ্বারা নিয়ন্ত্রণ কিংবা হস্তক্ষেপ করার প্রবানতাও দেখা দিবে।
অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালে ১৮ আগষ্ট খন্দকার রাশেদ মাকসুদকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়। তিনি প্রকৃতপক্ষে একজন ব্যাংকার এবং পুঁজিবাজার সম্পর্কে তার কোন ধারণাই ছিলনা। একইসঙ্গে কাজ করেছেন স্বৈরাচার হাসিনার মদদপুষ্ট একাধিক ব্যাংকে। হাসিনার অন্যতম দোসর স্টান্ডার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদের সাথে ছিল তার দহরম-মহরম সম্পর্ক। কাজী আকরাম উদ্দিনকে লুটপাটের সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি তার সময়ে ব্যাংক দু’টিকে তলানীতে রেখে যান। পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ পদে বসে নানা হঠকারী সিদ্বান্ত ও ব্যক্তিগত অভিপ্রয়াসের মাধ্যমে তার আর্শিবাদপুষ্ট কিছু ব্যক্তিবর্গের যোগসাজশে এই খাতকে ধ্বংসের দারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এনআরবিসি ব্যাংকে চাকুরিকালীন ২০২৩ সালে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থপাচারে জড়িত থাকার বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। এরপরও ক্ষমতার ব্যবহার করে শীর্ষপদ দখল করে রেখেছেন।
এদিকে মাকসুদ কমিশনে তার আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত বিএসইসি’র কমিশনার মোহসিন চৌধুরী। যিনি বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং কমিশনের গুরত্বপূর্ণ বিভাগগুলো তার আওতায়। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনে অন্যান্য কমিশনারদের বিদায় নিতে হলেও অদৃশ্য ক্ষমতার বলে স্বপদে বহাল রয়েছেন কমিশনার মোহসিন চৌধুরী। এমনকি তিনি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার হিসেবে দায়িত্বরত থাকাকালীন আইন লঙ্গন করে নিজ নামে শেয়ার ব্যবসা করছেন। যা দেশের শেয়ারবাজারে নতুন ইতিহাস। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের আওতাধীন জিরো ওয়ান লিমিটেড নামে একটি ব্রোকারেজ হাউজে তার সক্রিয় বিও অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যার নম্বর- ১২০৪১৫০০৭৪৫১৮৭৩৪। এই ধরনের কাজ আইন, বিধিমালা এবং নৈতিকতার সম্পূর্ণ পরিপন্থি হলেও, খন্দকার রাশেদ মাকসুদের আস্থাভাজন হওয়ার ফলে তিনি স্বপদে বহাল আছেন।
এদিকে আইডিএলসি সিকিউরিটিজ এর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফউদ্দিনকে বিএসইসি’র কমিশনার হিসেবে নিয়োগ প্রদানের বিষয়টি পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের হতবাক করছে। মূলত বিপুল অংকের অর্থের বিনিময়ে তার মতো একজন অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার গুরত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়। মো. সাইফউদ্দিন কমিশনার হিসেবে যোগদানের পর থেকে একটি মহলের নানা এজেন্ডা বাস্তবায়নে নিরবে কাজ করে যাচ্ছেন।
খন্দকার রাশেদ মাকসুদ যোদদানের পর থেকে অনভিপ্রেত, উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত পুঁজিবাজারের মূল উদ্দেশ্যকে তথা দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সরবরাহের পথকে রুদ্ধ করে পুঁজিবাজারকে আরো অবনতির দিকে নিয়ে গেছে।
পরিসংখ্যানেও দেখা যায়, ডিএসইএক্স সূচক ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট ছিল পাঁচ হাজার ৭৭৮ দশমিক ৬৪ যা ২০২৫ সালের ৩ জুনে নেমে আসে চার হাজার ৬৬৪ দশমিক ৭৯-এ অর্থাৎ এক হাজার ১১৩ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট বা ১৯ দশমিক ২৮ শতাংশ কম। একই সঙ্গে মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন ৭,০১০,৭৮২ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন টাকা থেকে কমে ৬,৪৭১,৫২৭ দশমিক ৬৯ মিলিয়ন টাকায় দাঁড়িয়েছে অর্থাৎ ৫৩৯,২৫৫ দশমিক ১৭ মিলিয়ন টাকার বা সাত দশমিক ৬৯ শতাংশ পতন। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের আস্থা হারানোর আরেকটি বড় প্রমাণ হলো খুচরা বিনিয়োগকারীদের বাজার থেকে চলে যাওয়া। তথ্য মতে, তার যোগদানের পর থেকে থেকে প্রায় ৬৪ হাজার বিনিয়োগকারী তাদের পোর্টফোলিও বিক্রি করে বাজার ছেড়েছেন। এর মাধ্যমে রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্ব কমিশন একদিকে যেমন বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে, অপরদিকে শিল্পায়নে দীর্ঘমেয়াদি পুঁজি সরবরাহের মূল প্রক্রিয়াকে করেছে ধ্বংস।
এদিকে মিউচুয়্যাল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫ ও মার্জিন রুল আইন বাস্তবায়ন হলে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ৮/৯টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা আছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল আমিন তালুকদার বলেন, দেশের একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ছিল। নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। আশা করছি পুঁজিবাজারের সকল প্রতিবন্ধকতা দূর হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পুঁজিবাজার নিয়ে পৃথক চিন্তা আছে। ইতোমধ্যে উপদেষ্টা এবং বিশেষ সহকারি নিয়োগ দিয়েছেন। তাই এই খাতের সার্বিক বিষয় নিয়ে তাঁরা পর্যালোচনা করবেন। পাশাপাশি দেশের পুঁজিবাজার বান্ধব কিছু পাবো আমরা।
দেশের প্রথম বেসরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি এইমস ১৯৯৮ সালে নিবন্ধিত এবং ১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটি পেশাদার ব্যবস্থাপনায় মিউচ্যুয়াল ফান্ড এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডের মত বিনিয়োগ পোর্টফোলিও পরিচালনা করে। কিন্তু তারপরও বর্তমান কালো আইনে তাদের দুইটি ফান্ড বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা মাহমুদা শিল্পী ইনকিলাবকে বলেন, আইনের কিছু ধারা পুঁজিবাজারে অস্থিরতা তৈরি করবে। বিশেষ করে নতুন বিধিতে ফান্ডের বাজার মূল্য তার নিট সম্পদমূল্যের ২৫ শতাংশের বেশি কমে গেলে বিএসইসি প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করতে পারবে। এটি হলে পুঁজিবাজার আরো বিপাকে পড়বে। তিনি বলেন, বাজারমূল্য কমা বা বাড়ার সঙ্গে এই ধরণের প্রক্রিয়া থাকতে পারে না। বাজারমূল্য বেধে দেওয়া যায় না, তাই এটি অবশ্যই পরিবর্তন করা দরকার। এক্ষেত্রে নিট সম্পদমূল্য ফেস ভেল্যুতে হতে পারে। এছাড়া বিধিতে ২০-২৫ বছর আগের ব্যবস্থাপনা ব্যয় থেকেও ২৩ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। যা বর্তমান সময়ে অবাস্তব এবং ছোট ছোট সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানিগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকবেনা। তাই মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০২৫-এর এসব অবাস্তব ধারা বাতিলের আহ্বান জানান লায়লা মাহমুদা শিল্পী।
এমএন