ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বিকল্প এবং নতুন শ্রমবাজার সন্ধানে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করতে এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠাতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও লবিস্ট ফার্ম নিয়োগের মতো নানামুখী পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিনের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সরকার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন বাজার খুঁজছে। শ্রমবাজার সম্প্রসারণে কিছু দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেমন ইউরোপের সার্বিয়া, গ্রীস, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল ও রাশিয়া; দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল; এশিয়ার থাইল্যান্ড (কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত চুক্তির প্রক্রিয়া চলমান)।
সংসদ নেতা আরও জানান, বিদেশে বাংলাদেশি মিশনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজন সাপেক্ষে দেশভিত্তিক স্থানীয় লবিস্ট বা বিশেষজ্ঞ ফার্ম নিয়োগের কার্যক্রমও হাতে নেওয়া হয়েছে।
সংসদ সদস্য নায়াব ইউসুফ আহমেদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় সচল করতে সরকার নিরলস কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও উপদেষ্টা চলতি মাসের ৮-১১ তারিখ মালয়েশিয়া সফর করেছেন। এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর পথ সুগম হবে।
বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, সমুদ্র সম্পদ ও সুনীল অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সামুদ্রিক সম্পদ, মৎস্য, পর্যটন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রয়োজনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষক রয়েছেন ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৯ জন। এরইমধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষককে ইংরেজি বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’র আওতায় বাকি সব শিক্ষককেও ইংরেজি প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।