চীনের পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী সান ওয়েইডংকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এটি বেইজিং-এর উচ্চপদস্থ কোনো কর্মকর্তাকে পদ থেকে অপসারণের সর্বশেষ ঘটনা।
মঙ্গলবার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় তাদের ওয়েবসাইটে একটি সংক্ষিপ্ত পোস্টে এই খবরটি ঘোষণা করে। এতে চীনের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সংস্থা স্টেট কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয় খবরটি।
তবে, পোস্টটিতে বলা হয়নি কেন বা কখন সানকে বরখাস্ত করা হয়েছিল, কিন্তু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে দেখা যায়, গত ১৩ মার্চ চীনে নিযুক্ত ব্রুনাই ও মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠকই ছিল তার সর্বশেষ জনসমক্ষে উপস্থিতির ঘটনা।
এদিকে, কূটনীতিক খলিল হাশমির এক্স অ্যাকাউন্টের একটি পোস্ট অনুসারে, দুদিন আগে সান দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করতে চীনে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করেছিলেন।
চীনা সরকারে এ ধরনের বরখাস্ত সাধারণত উচ্চ-পর্যায়ের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ইঙ্গিত দেয় এবং এর পরে প্রায়শই তদন্তের খবর আসে।
সানের বরখাস্তের নোটিশে জাতীয় রেলওয়ে প্রশাসনের উপ-পরিচালক পদ থেকে আরেক কর্মকর্তা আন লুশেংকে অপসারণের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
২০১২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ‘বাঘ ও মাছি’—অর্থাৎ উচ্চ ও নিম্ন-পদস্থ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে একটি ব্যাপক দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন।
দেশটির কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা পরিদর্শন কমিশন এবং জাতীয় তত্ত্বাবধায়ক কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর চীন দশ লক্ষেরও বেশি দুর্নীতির মামলা তদন্ত করেছে এবং ৯৩৮,০০০ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
শি জিনপিংয়ের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে চীনের ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারাও ধরা পড়েন।
সূত্র: আল জাজিরা