প্রায় দুই যুগ বন্ধ থাকার পর দিনাজপুর টেক্সটাইল মিল পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই মিলটি চালু করা হবে।
রোববার (১২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টায় প্রায় ২২ বছর বন্ধ হয়ে যাওয়া দিনাজপুর টেক্সটাইল মিলের কারখানা, গুদামসহ প্রশাসনিক ভবন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বন্ধ হওয়া মিলগুলো চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই মিলটি চালুর জন্য এরইমধ্যে আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বড় বড় বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা। এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এই লক্ষ্যে বস্ত্র ও পার্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেগুলো যাচাই-বাছাই করে চালু করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘মিলগুলো চালু হলে পুনরায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে, শ্রমিকরা পুনরায় চাকরি ফিরে পাবে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। পিপি পদ্ধতিতে পাবলিক এবং সরকার পার্টনারশিপে প্রতিষ্ঠানগুলো চালানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই আজকে আমরা দিনাজপুর টেক্সটাইল মিল পরিদর্শনে এসেছি।’
প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলমের সফর সঙ্গী ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক এবং বিটিএমসির কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, দিনাজপুর সদর উপজেলার দুই নম্বর সুন্দরবন ইউনিয়নে সদরপুর এলাকায় ৩৭ একর জায়গা জুড়ে ১৯৭৮ সালে মিলটি নির্মিত হয় এবং ১৯৮০ সালে উৎপাদনে যায়। তৎকালীন সরকার ২০০২ সালের দিকে বন্ধ ঘোষণা করে। এই মিলের সুতার মান উন্নতমানের ছিল। সারাদেশের টেক্সটাইল মিল ছাড়াও বিদেশেও রফতানি হতো। এই মিলে ২৪০০ শ্রমিক কর্মরত ছিলেন।
বর্তমানে মিলটি অবকাঠামো থাকলেও টাকু, যন্ত্রাংশ ও কারখানার শুধু মাটি রয়েছে; বাকি সব কিছুই বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। জানালা-দরজার লোহার রড সবকিছু চুরি হয়ে যাচ্ছে।