ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে চলমান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, দুপক্ষের জন্যই তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।
রোববার (১২ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এক বিবৃতিতে ইসহাক দার বলেন, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতি বজায় রাখবে। আমরা আশা করি, তারা ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে টেকসই শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে এগোবে। এটি শুধু এই অঞ্চলের জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্য।
তিনি জানান, ভবিষ্যতেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপ ও সম্পৃক্ততা সহজ করতে পাকিস্তান তার ভূমিকা পালন করে যাবে। ইসহাক দার উভয় পক্ষকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতামূলক প্রচেষ্টার স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এছাড়া উভয় পক্ষ ‘ইতিবাচক মনোভাব’ বজায় রেখে একটি স্থায়ী সমাধানের দিকে এগোবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কোনো চুক্তি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। রোববার (১২ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসলামাবাদে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভ্যান্স প্রথমেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানকে ধন্যবাদ জানান। তিনি তাদের ‘অসাধারণ আতিথেয়তা’র জন্য প্রশংসা করে বলেন, আলোচনায় কোনো ঘাটতি থাকলে তার জন্য পাকিস্তান দায়ী নয়।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, গত ২১ ঘণ্টা ধরে আমরা ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়েছি এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। এই মুহূর্তে এটাই ভালো খবর। তবে তিনি স্বীকার করেন, খারাপ খবর হলো, আমরা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারিনি। আর এটা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্যই বেশি খারাপ খবর।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘রেড লাইন’ বা অগ্রহণযোগ্য সীমারেখা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। কোন বিষয়ে ছাড় দেওয়া সম্ভব এবং কোন বিষয়ে নয়, তা পরিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু ইরান সেই শর্ত মেনে নেয়নি বলেই চুক্তি হয়নি।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি বৈঠক হয়েছে। ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ৪৭ বছর পর তারা সরাসরি বৈঠকে বসেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে প্রতিনিধিরা লেবানন সংকট, ইরানের জব্দ অর্থছাড় নিয়ে আলোচনা করেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এ বৈঠককে সংকট সমাধানের পথে অভাবনীয় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা একে সংঘাত ছেড়ে কূটনীতির মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।