ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতা করতে এই মুহূর্তে পাকিস্তানে অবস্থান করছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আর তার এই অতি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মিশন নিয়ে হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে বেশ মজার কিন্তু অর্থবহ মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সম্প্রতি ইস্টার লাঞ্চ চলাকালীন এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প রসিকতা করে বলেন, যদি এই শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়, তবে আমি জেডি ভ্যান্সকে দায়ী করব। আর যদি এটি সফল হয়, তবে এর পুরো কৃতিত্ব আমি নিজে নেব।
প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যে উপস্থিত কর্মকর্তারা হাসিতে ফেটে পড়লেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন—এর মাধ্যমে ভ্যান্সের ওপর এক বিশাল মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করেছেন ট্রাম্প।
ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে জেডি ভ্যান্সের জন্য এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় এবং চ্যালেঞ্জিং অ্যাসাইনমেন্ট। ইসলামাবাদে ইরানের প্রতিনিধিদের সাথে তার এই আলোচনাকে বিশেষজ্ঞরা ‘পলিটিক্যাল মাইনফিল্ড’ বা রাজনৈতিক মাইনক্ষেত্র হিসেবে অভিহিত করছেন। মধ্যপ্রাচ্যে গত ছয় সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাতের পর বিশ্ব অর্থনীতি যখন টালমাটাল, তখন এই শান্তি আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চ্যালেঞ্জের মুখে ভ্যান্স
এই আলোচনা সফল করা ভ্যান্সের জন্য মোটেও সহজ নয়। কারণ তাকে বেশ কিছু কঠিন পক্ষকে সন্তুষ্ট করতে হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প যিনি কখনো শান্তির কথা বলেন, আবার কখনো ইরানকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এছাড়া তেহরান সরকার যারা বর্তমানে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ শক্ত হাতে ধরে রেখেছে। এদিকে ইসরাইল যারা কোনোভাবেই অসম্পূর্ণ বা দুর্বল যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে নিতে রাজি নয়। এবং ইউরোপীয় মিত্র যারা এই যুদ্ধের বিরোধী কিন্তু হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে আমেরিকাকে সরাসরি সামরিক সাহায্য করতে অনিচ্ছুক।
২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জেডি ভ্যান্স একজন সম্ভাব্য প্রার্থী। ফলে ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক বা মাগা গোষ্ঠী তার এই সফরের দিকে কড়া নজর রাখছে। ইরাক যুদ্ধে অংশ নেওয়া সাবেক এই মেরিন সেনা ব্যক্তিগতভাবে বিদেশি যুদ্ধে মার্কিন হস্তক্ষেপের বিরোধী হিসেবে পরিচিত। এমনকি ইরানের ওপর হামলার আগেও তিনি ট্রাম্পের কাছে নিজের সংশয় প্রকাশ করেছিলেন বলে জানা গেছে।
একজন ইউরোপীয় কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভ্যান্সকে এই বৈঠক থেকে বড় কিছু অর্জন করে ফিরতে হবে। তা না হলে তার রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতে পারে।
সব মিলিয়ে পাকিস্তানের মাটিতে ইরানের সাথে এই আলোচনা জেডি ভ্যান্সের কূটনৈতিক ক্যারিয়ার এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি