ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া
উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ সম্মত হয়েছে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সুযোগ সম্প্রসারণ এবং মালয়েশিয়ান সমাজে তাদের একীভূতকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে দেশ দুটি।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দেশটির উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জাম্ব্রি আবদুল কাদিরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিনের এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা সহযোগিতা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মশক্তির গতিশীলতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
এর আগে বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মন্ত্রী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং হাই কমিশনার। একইদিন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী দাতো শ্রী রমনন রামকৃষ্ণনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন মন্ত্রী ও উপদেষ্টা।
শুক্রবার মালয়শিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জাম্ব্রি আবদুল কাদিরের সঙ্গে বৈঠকের শুরুতেই উভয়পক্ষ শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। মালয়েশিয়া বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারের ম্যান্ডেটকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং নতুন নীতিমালার অধীনে প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততাকে আরও দৃঢ় করার অঙ্গীকার প্রকাশ করেছে।
উপদেষ্টা মাহদী আমিন আন্তর্জাতিক শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের কথা বলেন, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানব সম্পদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির অগ্রাধিকারের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বহুমুখী ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ জোরদার করার পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য মালয়েশিয়া থেকে বৃত্তির সুযোগ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেন।
মাহদী আমিন এমন সুসংগঠিত বৃত্তি ব্যবস্থার গুরুত্বের ওপর জোর দেন, যা শুধু প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষকেই সমর্থন করে না, বরং মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, নিরাপত্তা এবং সামাজিক একীকরণও নিশ্চিত করে। তিনি শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তি, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং সহায়তা পরিষেবা প্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য আরও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা মালয়েশিয় সমাজে উন্নতি লাভ করতে পারে।
উপদেষ্টা মাহদি আমিন পুনরায় নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বের উপর গুরুত্ব দিয়ে দুই দেশের মধ্যে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অংশীদারিত্ব জোরদার করা, একাডেমিক বিনিময় কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা এবং মালয়েশিয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তায় যৌথ শিক্ষা প্রকল্প গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
মালয়েশিয়ার মন্ত্রী জাম্ব্রি আবদুল কাদির এই প্রস্তাবগুলোকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বিদ্যমান ও ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষা কর্মসূচির অধীনে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি বরাদ্দ সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনা করার বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মালয়েশিয়ার পক্ষ তাদের বৈচিত্র্যময় উচ্চশিক্ষা পরিমণ্ডল সম্পর্কে ধারণা দিয়েছে, যার মধ্যে বিভিন্ন শাখায় বিশেষায়িত দক্ষতাসম্পন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নেটওয়ার্কও অন্তর্ভুক্ত। উল্লেখ করা হয় যে, মালয়েশিয়ায় বর্তমানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক—১১,০০০-এরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রয়েছে, যাদের অনেকেই বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছে। উভয়পক্ষই একাডেমিক বিনিময় ও আর্থ-সামাজিক সংযোগে এই শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক অবদান এবং বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে তারা যে ভূমিকা রাখে করে, তা স্বীকার করেছে।
উভয়পক্ষ পারস্পরিকভাবে স্বীকৃত যোগ্যতা, যৌথ ডিগ্রি প্রোগ্রাম, দূরশিক্ষণ এবং সহজ শিক্ষা পদ্ধতির সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করেন। তারা উভয় দেশের শ্রম বাজারের চাহিদা এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতের সঙ্গে একাডেমিক প্রোগ্রামগুলোকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার গুরুত্বের বিষয়ে একমত হন।
আলোচনায় স্নাতকদের গতিশীলতা এবং দক্ষতা উন্নয়নও অন্তর্ভুক্ত ছিল। উপদেষ্টা মাহদী আমিন মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও স্নাতকদের জন্য পেশাগত অভিজ্ঞতা ও উন্নয়নের পর্যাপ্ত সুযোগ নিশ্চিত করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। মন্ত্রী জাম্ব্রি প্রস্তাবটি স্বীকার করেন এবং মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষা নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সহায়ক কাঠামো খুঁজে বের করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
কাঠামোগত বৃত্তি কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা, শিক্ষার্থী সহায়তা ব্যবস্থা উন্নত করা এবং বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী শিক্ষাগত, সামাজিক ও জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক গভীর করার বিষয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে বৈঠক শেষ হয়। যা একটি টেকসই অর্থনৈতিক ও জ্ঞানভিত্তিক অংশীদারিত্বে অবদান রাখবে।
গত বুধবার মালয়েশিয়ায় সফরে যান শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহদী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মূখপাত্র তিনি।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
ঢাবির ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর হলেন ইসরাফিল রতন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষক অধ্যাপক ইসরাফিল রতন। রোববার (১০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুন্সী শামস উদ্দিন আহম্মদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অধ্যাপক ইসরাফিল রতন চারুকলা অনুষদের গ্রাফিক্স ডিজাইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপাচার্যের অনুমোদনে ১০ মে থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থে যে কোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করা যেতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এর আগে আজ দুপুরের দিকে প্রক্টরের দায়িত্ব ছাড়েন অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলামের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।
পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি জানান, ‘ ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করছি, কোন চাপে পড়ে না।’
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদের পদত্যাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ পদত্যাগ করেছেন। রোববার (১০ মে) তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পদত্যাগপত্রে তিনি গত ২০ মাস প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করার সুযোগকে নিজের জন্য সম্মানের বলে উল্লেখ করেন।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে সাইফুদ্দীন আহমদ জানান, ব্যক্তিগত কারণেই তিনি দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত কারণে আমি প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। মাত্রই পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে এসেছি। আমি এই মুহূর্তে কিছুটা বিশ্রামে থাকতে চাই। তাই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
তবে তার পদত্যাগের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রক্টর হিসেবে কে দায়িত্ব পাবেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করতে গিয়ে বুয়েট শিক্ষিকার মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আফিফা রহমান নাইমা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা-শ্যাম্পেইনে পিএইচডি করছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিকট আত্মীয় ও সহকর্মীরা।
পরিবার ও ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় জটিলতা দেখা দিলে আফিফা কয়েকদিন ধরে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
পরে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় তার পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে।
বুয়েটের সাবেক শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে লেখেন, ‘বুয়েটে পানিসম্পদ কৌশল বিভাগে এক সময়ে শিক্ষক থাকায় চাকরি ছেড়ে দেবার অনেক বছর পরেও পানিসম্পদ কৌশলের ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে ফেইসবুকে যুক্ত আছি।
সেরকমই একজন ছিল আফিফা রহমান নাইমা! ছিল বললাম – কারন আজই ওর মৃত্যুর দু:সংবাদ টা পেলাম। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন! সন্তান জন্ম দেবার সময়ের জটিলতা নিয়ে আইসিইউ তে ছিল কয়েকদিন ধরে। মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল।
পানিসম্পদ কৌশল এর সহকারী অধ্যাপক ছিল, পিএইচডি করছিল আরবানা তে। খুব কম বয়সে একটি প্রতিভা হারিয়ে গেল আমাদের কাছ থেকে। দোয়া করি আল্লাহ ওকে বেহেশত নসীব করুন। সেই সাথে প্রার্থনা রইল ওর স্বামী ও দুটি সন্তানের জন্য।’
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী শিব্বির আহমেদ লেখেন, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা-শ্যাম্পেইনের পিএইচডি স্টুডেন্ট আফিফা রহমান নাইমা ইন্তেকাল করেছেন।
আফিফা ও ওর হাজবেন্ড মো. ইফতেখার ইসলাম সাকিব আমাদের আরবানার খুব ক্লোজ প্রতিবেশি, ফ্রেন্ড। ওরা দুজনেই ওখানে পিএইচডি স্টুডেন্ট, বুয়েটের শিক্ষক। গত চার বছরের কত স্মৃতিগুলো ভাসছে চোখের সামনে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে রাহনুমার কাছ থেকে আপডেট নিচ্ছিলাম, ও বলতেছিলো আপুর বাঁচার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। এটা শুনতেই খারাপ লাগতেছিলো- বললাম, এভাবে বলো না, আল্লাহ চাইলে তো শেষ মুহূর্তেও ফিরিয়ে দিতে পারেন। ২য় সন্তান জন্মের সময় ডেলিভারি সংক্রান্ত জটিলতা হয়।
ডাক্তাররা ইমার্জেন্সি সিজার করেছেন। ইউএস সময় আজ শুক্রবার বিকেলে (ঘন্টা দুয়েক আগে) আফিফাকে ডাক্তাররা মৃত ঘোষণা করে ভেন্টিলেশন খুলে নেয়। বড় বাচ্চাটার বয়স মাত্র দেড় বছর। দুইটা অবুঝ শিশু কিছু বুঝে উঠার আগেই মাকে হারিয়ে ফেললো চিরদিনের জন্য।
ঘুম থেকে উঠে খবরটা শোনার পর থেকে অস্থির লাগতেছে। আল্লাহ আফিফার পরিবারকে ধৈর্য্য ধারণ করার তৌফিক দান করুন, তার মৃত্যুকে শহীদি মৃত্যু হিসেবে কবুল করুন।’
অন্যদিকে লাইসা সালমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘তুমি তো শহীদী মৃত্যু নিয়ে দুনিয়া থেকে চলে গেলে। আমি জীবনে কোনো আত্মীয়ের মৃত্যুতেও এত কষ্ট পাইনি। তোমার চলে যাওয়া আবারও আমাকে মনে করিয়ে দিল, দুনিয়া আসলে কতই না অস্থায়ী।
তোমার মতো ভালো মানুষ, এত ব্রিলিয়ান্ট, উপকারী এবং সফট-হার্টেড মানুষ খুব কমই দেখা যায়। আল্লাহ তোমাকে অনেক অনেক শান্তিতে রাখুন। তুমি জান্নাতুল ফেরদৌস লাভ করবে, ইন শা আল্লাহ।’
তিনি আরও লেখেন, ‘এই দুনিয়ায় যাদের রেখে গেলে, তোমার বুকের মানিকদের, সাকিব ভাই, তোমার মা-বাবা, আল্লাহ ধৈর্য দান করুন। আল্লাহ তাদের হেফাজতকারী হোন। আমরা সবাই তোমার জন্য প্রাণ খুলে দোয়া করেছি।
বাকি জীবন তুমি সবসময় আমাদের মনে এবং দোয়ায় থাকবে। তোমার সাথে কাটানো সব স্মৃতি এখন বারবার মনে পড়ছে। তোমার দেওয়া ছোট একটা চামচও আমি যত্ন করে রেখে দিছি।’
আফিফা রহমান নাইমার মৃত্যুতে তার সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয়ের পরিকল্পনা সরকারের
সরকার শিক্ষা খাতে দেশের জিডিপির পাঁচ শতাংশ বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন।
বৃহস্পতিবার (৬ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে ইউনিসেফ আয়োজিত শ্রেণিকক্ষে উদ্ভাবনী ধারা শক্তিশালীকরণ বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি এই তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ কখনোই দেড় শতাংশের বেশি যায়নি, দক্ষ মানবপুঁজি তৈরি করতেই শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।
তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষা নিশ্চিতের সঙ্গে সঙ্গেও দক্ষতাও বৃদ্ধি প্রয়োজন। ডিজিটাল ক্লাসরুমের ব্যাপারে বিগত সরকার ব্যর্থ ছিল, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার অভাব ছিল। এ সরকার প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইন্টারেক্টিভ ডিজিটাল ক্লাসরুম করার দিকে এগোচ্ছে।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটেছে, সেটা ফিরিয়ে আনতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী
আমাদের মূল্যবোধের যে অবক্ষয় ঘটেছে, সেটা পারিবারিক মূল্যবোধ হোক বা ধর্মীয় মূল্যবোধ হোক, সেটার উন্নতি ঘটাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মূলত এসব বিষয়গুলো নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বুধবার (৬ মে) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
এসময় শিক্ষা ব্যবস্থা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সামাজিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনতে বিএনসিসির মতো সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবে সরকার। তিনি বলেন, আমাদের পারিবারিক মূল্যবোধ এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ কীভাবে পলিসিগতভাবে উন্নতি করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা সেটাই করছি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা দেশের স্কুলপর্যায়ের অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি এবং স্নাতক পর্যায়ে বিএনসিসি গড়ে তোলা আমাদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। নিরক্ষরতা দূরীকরণসহ যে কোনো জাতীয় দুর্যোগে বিএনসিসি কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে এবং এই সংগঠনটিকে কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়—আজ আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, আমরা এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা চাই যেখানে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কালচার গড়ে উঠবে অর্থাৎ এমন একটি শিক্ষা কার্যক্রম যেখানে আনন্দের সঙ্গে উৎসবমুখর পরিবেশে আমাদের শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জন করবে। বাস্তব জীবনের জন্য তারা প্রিপেয়ার হবে, সেই লক্ষ্যে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আমরা মূল্যবোধ বা মান-সম্পন্ন শিক্ষারভিত্তিক করতে চাই, প্রিন্সিপাল বেস করতে চাই, এথিক্স বেস করতে চাই, যেন তারা সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে এবং সেই ক্ষেত্রে কারিকুলার অক্টিভিটিকে প্রাধান্য দেয়া হবে।
তিনি বলেন, সরকারের যে উন্নয়ন কার্যক্রম রয়েছে ম্যানিফেস্টোতে, যে ধারাগুলো রয়েছে সেই পলিসিগুলো বাস্তবায়নে আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের যুক্ত করতে চাই। তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা বিএনসিসি, গার্লস গাইড, স্কাউট, রোভারসহ বিভিন্ন কার্যক্রমকে আরও সানিত করতে চাই।
আমাদের মূল উদ্দেশ্য বিএনসিসি, গার্লস গাইড কিংবা স্কাউটের মতো এ ধরনের যে প্ল্যাটফর্মগুলো রয়েছে এগুলোকে ন্যাশনাল লেভেলে কীভাবে আরও বিস্তৃত আকারে আমরা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে পারি তা নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।




