১৫ বছর পর মূল ক্যাম্পাসে ফিরে বর্ষবরণে নানা শৈল্পিক কাঠামো তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে উঠেছে চারুকলা ইনস্টিটিউট।
পয়লা বৈশাখে সকালে প্রশাসনের উদ্যোগে থাকবে বৈশাখী শোভাযাত্রা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেবেন। শোভাযাত্রার পর জারুলতলায় আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এদিন প্রশাসনের উদ্যোগে আরো থাকবে কাবাডি ও বলি খেলা। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে থাকবে বৈশাখী মেলা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা বিভাগের যাত্রা শুরু হয় ১৯৭০ সালে। বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন শিল্পী রশিদ চৌধুরী। ২০১০ সালের ২ আগস্ট এটি নগরীর সরকারি চারুকলা কলেজের সঙ্গে একীভূত হয়ে চারুকলা ইনস্টিটিউট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। মূল ক্যাম্পাস থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে নগরীর মেহেদীবাগের বাদশা মিয়া সড়কে অবস্থিত ছিল এই ইনস্টিটিউট। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে চারুকলা ইনস্টিটিউটকে মূল ক্যাম্পাস থেকে শহরে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে এই ইনস্টিটিউটে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন।
২০২২ সালের নভেম্বরে শ্রেণিকক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার পর ১১ দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। ক্লাস বর্জনের পাশাপাশি ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন চলতে থাকে। পরে ইনস্টিটিউটকে মূল ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনার দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। এক পর্যায়ে গত বছর উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান এপ্রিলের মধ্যে চারুকলাকে মূল ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দেন। অবশেষে ২০২৫ সালের ২২ মে থেকে মূল ক্যাম্পাসে ক্লাস করছেন এ ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা।
প্রতিবছর মূল ক্যাম্পাস ও শহরে পৃথক বাংলা নববর্ষ উদযাপিত হয়ে আসছে। তবে দীর্ঘ ১৫ বছর পর প্রথম মূল ক্যাম্পাসে বৈশাখী উৎসব পালন করবেন চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী। ইতোমধ্যে বাঁশ, কাগজ দিয়ে নানা শৈল্পিক কাঠামো ও মুখোশ তৈরির কাজ চলছে।
নববর্ষের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে শিল্পী রশিদ চৌধুরী হোস্টেল সংসদের সহসভাপতি খন্দকার মাসরুল আল ফাহিম বলেন, ঈদের ছুটির কারণে মুখোশ ও ভাস্কর্যের কাজ দেরিতে শুরু করা হয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে প্রথমে যোগাযোগ রক্ষা করা যায়নি। তবে উপাচার্যের সঙ্গে কথা হয়েছে। বৈশাখী উৎসব সফল করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা তিনি দেবেন।
চারুকলার এক শিক্ষার্থী বলেন, ক্যাম্পাসে প্রথমবার বাংলা নববর্ষ উদযাপন করব। এতে আমরা অনেকে আগ্রহী। আমি কাজ করছি রং-তুলিতে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি কাজ শেষ হয়েছে। আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এতদিন ক্যাম্পাসের বাইরে অল্প শিক্ষার্থী নিয়ে নববর্ষ উদযাপন করা হতো। তবে এবার ক্যাম্পাসে অনেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে নববর্ষ উদযাপন বেশ আনন্দে দেবে।
এ ব্যাপারে পহেলা বৈশাখ আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) কামাল উদ্দিন খান বলেন, ‘গত বছরের মতো এ বছরও আমরা সুন্দরভাবে নববর্ষ উদযাপন করতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে কাজ করছি। চারুকলার শিক্ষার্থীরা চমৎকার কাজ করছে।’