চলমান সংঘাত নিরসনে শুধু সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা কোনো যুদ্ধবিরতি চায় না, বরং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একটি ‘সমন্বিত ও স্থায়ী শান্তিচুক্তি’ চায়। আলজাজিরা মঙ্গলবারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
তেহরান থেকে আলজাজিরার প্রতিবেদক মোহাম্মদ ভাল জানিয়েছেন, ইরানের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন বর্তমান যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবটি শুধু ইসরায়েল ও আমেরিকার জন্য পুনরায় শক্তি সঞ্চয় এবং যুদ্ধের আরো ধ্বংসাত্মক ধাপের প্রস্তুতির একটি কৌশল মাত্র।
ইরান এমন একটি শান্তিচুক্তির ওপর জোর দিচ্ছে, যা শুধু তাদের একার জন্য নয়, বরং এই অঞ্চলের সঙ্গে জড়িত লেবানন, ইয়েমেন এবং ইরাককেও অন্তর্ভুক্ত করবে। তাদের প্রধান শর্ত হলো—ভবিষ্যতে ইরানের ওপর আর কোনো যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হবে না, এমন স্থায়ী গ্যারান্টি থাকতে হবে। ইরান মনে করে, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধকালীন ধ্বংসযজ্ঞের কারণে ইরানকে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে বলে দাবি করছে তেহরান। এই বিপুল আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তারা একটি নতুন প্রস্তাব সামনে এনেছে। ইরান চায় ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালিতে একটি নতুন বৈশ্বিক ব্যবস্থা বা ‘রেজিম’ চালু করতে। এই ব্যবস্থার আওতায় ইরান ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর ট্যাক্স বা কর আরোপ করতে পারবে, যা দিয়ে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ নেওয়া হবে।
ইরানি বিশ্লেষকদের মতে, সাময়িক যুদ্ধবিরতি যুদ্ধের মূল সমস্যার সমাধান করবে না। বরং এটি ইসরায়েল ও আমেরিকাকে মহড়া দেওয়ার এবং পরবর্তী ভয়াবহ আক্রমণের প্রস্তুতির জন্য সময় দেবে। তাই ইরান কোনো ‘যুদ্ধবিরতি’ নয়, বরং যুদ্ধের চিরস্থায়ী অবসান ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পক্ষেই অনড় অবস্থান নিয়েছে।