আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন এলাকায় ডেঙ্গু মোকাবেলায় চলমান কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে মশক নিয়ন্ত্রণে গঠিত কারিগরি কমিটির একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার সকালে গুলশান নগর ভবনে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, মশক নিধনে ভিন্ন ভিন্ন কীটনাশকের সমন্বিত ব্যবহার (কম্বিনেশন) একাধিক ল্যাবে পরীক্ষা করা হবে এবং পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘মশা নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ক্যাম্পেইন চালানো হবে।’
সভায় মশক নিধনে নতুন এবং অধিক কার্যকর কীটনাশক নির্ধারণকে মূল এজেন্ডা হিসেবে আলোচনা করা হয়।
কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, সামনে বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাই এখনই কার্যকর প্রস্তুতি গ্রহণ জরুরি।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে লার্ভিসাইডিং কার্যক্রমে টেমিফস ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে বিশ্বের কিছু দেশে যেমন ব্রাজিল ও ফিলিপাইনে টেমিফসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ (রেজিস্টেন্স) তৈরি হয়েছে।
নির্দিষ্ট পরিমাণ পানিতে সঠিক মাত্রায় ওষুধ প্রয়োগ না হলে এই প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত তৈরি হতে পারে। তিনি বায়োলজিক্যাল কন্ট্রোল ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং অন্তত পাঁচটি ভিন্ন স্থানে পরীক্ষা পরিচালনা করে ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দেন।
কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার সভায় জানান, নোভালিয়ন, ম্যালাথিয়ন ও টেমিফস—এই তিনটি কীটনাশকের সেমি-ফিল্ড, ফিল্ড ও ল্যাব পর্যায়ে পরীক্ষা করে ম্যালাথিয়ন তুলনামূলকভাবে অধিক কার্যকর ফল প্রদান করেছে। বিকল্প হিসেবে বিটিআই ব্যবহারের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা যেতে পারে বলে তিনি মতামত প্রদান করেন।
এ সময় ফগিং কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ফল দেয় না এবং এ পদ্ধতির কার্যকারিতা সীমিত হওয়ায় ধীরে ধীরে ফগিং নির্ভরতা কমিয়ে আনার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. বেনজির আহমেদ বলেন, ‘মশা নিয়ন্ত্রণে সোর্স রিডাকশন বা মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরো জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।’
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, বিশেষজ্ঞ কমিটি (ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধকল্প)-এর সদস্য অধ্যাপক ড. গোলাম সারোয়ার ও ভেক্টর ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট ড. রাজিব চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ ।