দেশের পুঁজিবাজারকে গতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের প্রধান উৎস হিসেবে গড়ে তুলতে একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। পুঁজিবাজারকে মূল উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে আইনি সংস্কার, পণ্যের বৈচিত্র্য আনা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর অংশ হিসেবে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের মধ্যে তিনটি নতুন আইন ও বিধিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। পুঁজিবাজারে সুশাসন নিশ্চিত করা, বাজারের গভীরতা বাড়ানো এবং বিনিয়োগ শিক্ষার প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, বাজারে মৌলভিত্তিসম্পন্ন বেসরকারি কোম্পানির পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে নতুন পণ্য আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে শক্তিশালী বন্ড মার্কেট গঠন, এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ETF), সুকুক (ইসলামিক বন্ড), গ্রিন বন্ড, কমোডিটি ও ফিন্যান্সিয়াল ডেরিভেটিভ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে সুশাসন নিশ্চিত করে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দিতে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে সরকার বড় ধরনের আইনি সংস্কারের হাত দিয়েছে। বিএসইসি আইন ২০২৫ : ১৯৬৯ সালের অর্ডিন্যান্স এবং ১৯৯৩ সালের আইনের সংমিশ্রণে সম্পূর্ণ নতুন একটি আইন প্রণয়নের কাজ চলছে। ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আইন ২০২৬ : দাবিবিহীন ডিভিডেন্ড ও শেয়ারের সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্য এই আইনটি করা হচ্ছে। হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা বিধিমালা ২০২৬ : পুঁজিবাজারের অনিয়ম প্রকাশকারীদের সুরক্ষা দিতে নতুন বিধিমালা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড সংশোধন করে ‘কর্পোরেট গভর্নেন্স রুলস ২০২৬’ প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তদন্ত ও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম জোরদার করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কারসাজি ও অনিয়ম বন্ধে বাজারের আধুনিকায়ন ও সম্পূর্ণ ডিজিটাইজেশনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে বাজারে প্রবেশাধিকার সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, বিনিয়োগকারীদের সচেতন করতে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। যান মধ্যে রয়েছে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকে বিনিয়োগ শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার কাজ চলছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে সম্পৃক্ত করে দেশব্যাপী তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিটিভিতে ‘পুঁজিবাজারের জানা-অজানা’ নামে পাক্ষিক অনুষ্ঠান এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত সচেতনতামূলক কন্টেন্ট প্রচার করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরবে এবং এটি দেশের অর্থনীতির একটি টেকসই স্তম্ভ হিসেবে দাঁড়িয়ে যাবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।