পুজিঁবাজারে তালিকাভুক্ত তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কোম্পানি আমরা নেটওয়ার্ক লিমিটেডের বিনিয়োগকারীরা ডিভিডেন্ড না পাওয়ায় হতাশায় ভুগছেন। কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি ৬৯ টাকা বিনিয়োগ করেও টানা তিন অর্থবছর ধরে ডিভিডেন্ড পাচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা। এতে কোম্পানিটির আর্থিক স্বচ্ছতা ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে।
সূত্র মতে, ২০১৭ সালে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রিমিয়ামসহ প্রতিটি শেয়ার ৩৯ টাকা কাট-অফ মূল্যে বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করে কোম্পানিটি। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে ব্যবসা সম্প্রসারণের কথা বলে আবারও শেয়ার প্রতি ৩০ টাকা দরে রাইট শেয়ার ইস্যু করা হয়। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, এই অর্থ সংগ্রহের পরও কোম্পানি তাদের প্রতিশ্রুত ডিভিডেন্ড ও নিয়মিত আর্থিক প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
এদিকে ২০২৪ সালের জন্য ঘোষিত শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ডিভিডেন্ড এখনও পুরোপুরি বিতরণ করা হয়নি। সময়মতো ডিভিডেন্ড প্রদান না করায় কোম্পানিটি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমে গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই বলছেন, বিনিয়োগ করে এখন তারা প্রায় সর্বস্বান্ত হওয়ার অবস্থায় পৌঁছেছেন।
এদিকে, চট্টগ্রামে কোম্পানির প্রায় ২২ কোটি টাকার সম্পত্তি বিক্রির ঘোষণা এলেও সেই অর্থের ব্যবহার বা অগ্রগতি নিয়ে বিনিয়োগকারীরা স্পষ্ট কোনো তথ্য পাননি। ফলে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাইট শেয়ারের অর্থ দিয়ে নেটওয়ার্ক সিস্টেম উন্নয়ন ও কাভারেজ সম্প্রসারণে বিনিয়োগ করা হয়েছে। কোম্পানি সচিব মুনিরুজ্জামান জানান, ব্যবসা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ বিনিয়োগকারীর অ্যাকাউন্টে ডিভিডেন্ডের অর্থ পাঠানো হয়েছে। অবশিষ্ট অর্থ দ্রুত পরিশোধের চেষ্টা চলছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আর্থিক সংকটের কারণেই পুরো ডিভিডেন্ড একসঙ্গে বিতরণ সম্ভব হয়নি। তবে পরিস্থিতি উন্নত হলে বিনিয়োগকারীরা এর সুফল পাবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।
অন্যদিকে, এখনো ডিভিডেন্ড না পাওয়া বহু বিনিয়োগকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পুজিঁবাজারে আস্থা আরও কমে যাবে।
এমএন