২০২২ সাল থেকে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করছেন হাভিয়ের কাবরেরা। দীর্ঘ চার বছরে তার অধীনে বাংলাদেশের প্রাপ্তি মিশ্র। ৩৯ ম্যাচের মধ্যে জয় মাত্র ১০টি, সেগুলোও তুলনামূলক দুর্বল দলের বিপক্ষে। সদ্য শেষ হওয়া বাছাইয়ে ভারতের বিপক্ষে পাওয়া জয়টিই সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রাপ্তি।
দেশের ফুটবল মহলের একটি বড় অংশ অবশ্য কাবরেরার পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে লম্বা সময়ের কোচ তিনি। এই স্প্যানিশ কোচের অধীনে দলের খেলার ধরনে উন্নতি এলেও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আসেনি। বিশেষ করে হামজা চৌধুরী ও শামিতদের মতো প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়েও এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে বাংলাদেশ আশানুরূপ সাফল্য না পাওয়ায় সমালোচনা বেড়েছে। তাই কাবরেরার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয় এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচের পর থেকে।
এই কোচের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সভাপতিত্বে ন্যাশনাল টিমস কমিটির আলোচনায় বসে গতকাল শনিবার। বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য ও বাফুফের মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বাবু জানিয়েছেন, কোচের সন্ধানে আছেন তারা।
তবে কাবরেরাও আবেদন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন বাবু। ‘আপনারা জানেন, আমাদের বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ কাবরেরার চুক্তি আছে এপ্রিল মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত। যার পরিপ্রেক্ষিতে এখন থেকেই আমরা নতুন কোচের সন্ধান আমরা নেমেছি। আমরা এখন থেকেই আমরা চেষ্টা করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতে কাবরেরাও সাক্ষাৎকার দিতে পারবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের ন্যাশনাল টিমস ম্যানেজমেন্ট কমিটি, আমাদের সভাপতি তাবিথ আউয়ালের নেতৃত্বে কমিটিতে যারা থাকবেন, তারা সিদ্ধান্ত নেবেন পরবর্তী কোচ কে হবেন।
এখন পর্যন্ত যেহেতু আমাদের এই ৩০ তারিখ পর্যন্ত কাবরেরার সাথে চুক্তি রয়েছে, অতএব সে এখন পর্যন্ত আমাদের আছে। এখন থেকে যে কোচের ইন্টারভিউ আমরা নেব, তার ওপর নির্ভর করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব আমরা।’
‘ভালো বিকল্প’ না পেলে কাবরেরাকে রেখে দেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন বাবু। বাফুফের মিডিয়া কমিটির এই চেয়ারম্যান বলেন, ‘না, তাকে বাদ দিয়ে ভাবছি না কিংবা তাকে নিয়ে চিন্তা করছি, তাও কিন্তু না। এখানে সবচেয়ে বড় ব্যাপারটা হচ্ছে যে, আমাদের তার সঙ্গে আরও এক মাসের চুক্তি আছে। ৩০ এপ্রিল আমাদের চুক্তি শেষ হবে। যে কারণে, এখন থেকেই আমরা তার চেয়ে ভালো কোচ পাওয়ার চেষ্টা আমরা করছি। আমরা যদি আরও ভালো মানে কোচ পাই, অবশ্যই তখন আমরা সেই চিন্তা করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কাউকে কোনো প্রাধান্য দেব না। আমাদের ন্যাশনাল টিম ম্যানেজমেন্ট কমিটির সব কর্মকর্তারা মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন। সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে- আমরা আজকে থেকেই সিভি নেওয়া শুরু করে দেব এবং বিদেশেও যোগাযোগ করব, প্রত্যেকটা দেশের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করব, প্রত্যেকটা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করব। যদি কারোর কাছে আরও বেটার কোনো কিছু থাকে, তাহলে আমরা সেটাই আমরা বেছে নিব। কাবরেরার এই মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নিব না।’
জাতীয় দল কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন কোচকে দুই বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে একজন নতুন গোলরক্ষক কোচও দুই বছরের জন্য নিয়োগ দেবে বাফুফে।
কমিটির সভায় সদ্য সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী দল নিয়েও কথা হয়েছে। আলোচনা হয়েছে আগামী জুনের ফিফা উইন্ডো কাজে লাগানোর বিষয়েও।
‘আগামী জুনে ফিফা উইন্ডো আছে এবং সেই ফিফা উইন্ডোতে বাংলাদেশ চেষ্টা করছে খেলার জন্য। সেটার জন্য আমরা অনূর্ধ্ব-২৩ জাতীয় ফুটবল দল গঠন করার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। এই দলটা সর্বক্ষণিক প্র্যাকটিসে থাকবে।’
বাবু বলেন, ‘জুনের ফিফা উইন্ডোতে আমরা থাইল্যান্ড অথবা মিয়ানমার-এই ধরনের দলের সঙ্গে, একটু মানসম্পন্ন দলের সঙ্গে আমরা চেষ্টা করব খেলার জন্য।’